এই বিশাল ধর্মীয় আয়োজনকে ঘিরে ইতিমধ্যে ওড়াকান্দির ঠাকুরবাড়িতে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। উৎসবের প্রস্তুতি ও সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ করতে রোববার দুপুরে ওড়াকান্দি তীর্থভূমি পরিদর্শন করেছেন ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিক।
পরিদর্শন শেষে ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিক জানান, দেশ-বিদেশের প্রায় ১০ লক্ষাধিক পুণ্যার্থীর সমাগম ঘটে এই তীর্থভূমিতে। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ও উৎসবকে নির্বিঘ্ন করতে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে। সিসিটিভি ক্যামেরা, সাদা পোশাকে পুলিশ ও ড্রোনের মাধ্যমে পুরো মেলা এলাকা নজরদারিতে রাখা হচ্ছে। পরিদর্শনকালে গোপালগঞ্জের পুলিশ সুপার মো: হাবীবুল্লাহসহ জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ তার সঙ্গে ছিলেন।
১৮১২ সালের এই দিনে মধুকৃষ্ণ ত্রয়োদশীতে তিথিতে ওড়াকান্দির পার্শ্ববর্তী গ্রাম সফলীডাঙ্গায় জন্মগ্রহণ করেন মতুয়া ধর্মের প্রবর্তক শ্রী শ্রী হরিচাঁদ ঠাকুর। তিনি নিপীড়িত ও অবহেলিত মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য কাজ করে গেছেন। তাঁর প্রবর্তিত ‘মতুয়াবাদ’ মূলত ‘হাতে কাজ ও মুখে নাম’—এই দর্শনের ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত। শ্রী শ্রী হরিচাঁদ ঠাকুর ভক্তদের উদ্দেশ্যে বারোটি আজ্ঞা দিয়ে গেছেন, যা মতুয়াদের কাছে পরম পবিত্র।
আরও পড়ুন: গোপালগঞ্জে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকের ওপর ছাত্রদলের হামলা
ওড়াকান্দির এই স্নান উৎসব কেবল একটি অনুষ্ঠান নয়, বরং এটি ভক্তদের জন্য এক পরম আধ্যাত্মিক মিলনমেলা। ভক্তদের বিশ্বাস, এই তিথিতে ওড়াকান্দির ঠাকুরবাড়ির দুটি পুকুর কামনা সাগর ও ‘শান্তি সাগরে’ স্নান করলে সকল পাপ মোচন হয় এবং মুক্তি লাভ করা যায়।
আগামীকাল সোমবার ভোর থেকেই পবিত্র স্নান উৎসব শুরু হবে। স্নান শেষে পুণ্যার্থীরা ঠাকুরবাড়িতে প্রণাম নিবেদন করবেন। মেলা উপলক্ষে দেশি-বিদেশি পণ্যের পসরা সাজিয়ে বসেছে কয়েকশ স্টল। প্রতি বছরের ন্যায় এবারও ভারত ও নেপালসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লাখ লাখ মতুয়া ভক্ত লাল নিশান উড়িয়ে ও ডঙ্কা-কাঁসর বাজিয়ে ‘হরি বল’ ধ্বনিতে মুখরিত করে তুলবেন এই পুণ্যভূমি।

৪ সপ্তাহ আগে
৫








Bengali (BD) ·
English (US) ·