সুনামগঞ্জে ফসলি জমির মাটি বিক্রি করে সংসার চালাতে হচ্ছে কৃষকদের!

৪ সপ্তাহ আগে
সেচ সংকট দূর করতে উচুঁ জমির মাটি বিক্রি করে দিচ্ছেন সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার ও সদর উপজেলার লক্ষণশ্রী, মোল্লাপাড়া ও মান্নারগাঁও ইউনিয়নের কৃষকরা। কৃষকদের অভিযোগ সেচের পানির অভাবে তিন ফসলি জমিতে বছরের এক ফসল চাষ করে সংসারের অভাব দূর করতে পারেন না। তাই জমির উচ্চতা কমিয়ে চাষবাসের চেষ্টা করছেন তারা।

এদিকে মাটির ক্রেতারা নামমাত্র মূল্যে ক্ষেতের টপসয়েল কিনছেন। মাত্র ২০০ টাকায় প্রতি ট্রাক মাটি বিক্রি করছেন তারা। এস্কেভেটর দিয়ে ৩/৪  ফুট গভীরতায় মাটি কেটে ড্রাম ট্রাকে পরিবহন করে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প ও ইটভাটায় মাটি পৌঁছে দিচ্ছেন ক্রেতারা। মাটি বিক্রির ফলে হাওড় জুড়ে সৃষ্টি হয়েছে অসংখ্য গর্ত।

 


জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে দীর্ঘদিন বৃষ্টিপাত না হওয়ায় হাওড়েরর ডোবা, জলাশয়, কৃষিজমি শুকিয়ে ফেটে চৌচির মানচিত্রের মতো দেখা যায়। পানি শূন্য জমিগুলোতে দেখা দিয়েছে দৃশ্য-অদৃশ্য ফাটল। জেলার ছোটবড় হাওড়ে যখন বোরো ফসলের সবুজের সমারোহ তখন দোয়ারাবাজার সদর উপজেলার জালালপুর, পুটিপশি, ইদনপুর, আজমপুর, কাটাখালী কামারগাও, ঢোলপশি, বাহাদূরপুর, হাজারিগাঁও, গনারগাঁও, গোপালপুর, জুগিরগাঁওসহ ৩০ টি গ্রামের কৃষক সেচের অভাবে চাষ করতে পারছেন না।

 


দোয়ারাবাজার উপজেলার মান্নারগাঁও ইউনিয়নের জালালপুর গ্রামের কৃষক আব্দুল মালেক বলেন, তিন ফসলের জমিতে এক ফসলও করতে পারিনা। তাই পরিবারের অভাব ছাড়ে না। এজন্য ক্ষেতের মাটি বিক্রি করে জমি নিচুর চেষ্টা করছি।

 

আরও পড়ুন: কৃষি জমির মাটি কাটাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে ফেনীতে একজন নিহত


একই গ্রামের কৃষক হামদু মিয়া বলেন, ‘মেঘ অইলে ক্ষেত লাগানি যায়, না অইলে যায় না। আমরার শতশত বিঘা ক্ষেতের এ অবস্থা ক্ষেত থাইক্কাও যা না থাইক্কাও তা। প্রতি বছর পানির অভাবে ক্ষেত করতে পারিনা।’


ইদনপুর গ্রামের মোখলেছুর রহমান বলেন, আমারার হাওড়ের ৫ টি বড় মেশিন দিলে সুরমা নদীর পানি দিয়ে সব ক্ষেতে চাষ করা যেতো কিন্তু বছরের পর আমরারে কেউ সেচ মেশিন দেয় না। 


দোয়ারাবাজার সড়কে দুপাশের পতিত জমি আবাদের জন্য মাটি বিক্রি করছেন জালালপুর গ্রামের কৃষকরা, অন্যদিকে তাহিরপুর, আনোয়ারপুর সড়কের বিস্তৃন জমি গবাদিপশুর চারণ ভূমি হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। দুই দশক ধরে কৃষকরা জমিতে ফসল উৎপাদন করতে না পেরে সংসারের অভাবানটন দূর করতে হাওড়েরর উঁচু জমির টপ সয়েল বিক্রি করে নিচু করে চাষাবাদের চেষ্টা করছেন।

 

এচিত্র শুধু এ হাওড়ের নয় জেলার বেশির ভাগ হাওড়ে সেচ সংকটের এমন চিত্র দেখা যায়। বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি) সুনামগঞ্জের তথ্যে জানা যায়, সেচ সংকটের কারণে দুই দশক ধরে ১০ হাজার হেক্টর জমিতে ৩১ হাজার ৫২০ মেট্রিক টন ধান উৎপাদন হচ্ছে না, যার বর্তমান বাজারদর ১১৩ কোটি টাকা। এতে ৩৪ হাজার কৃষক ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন। সেচের ব্যবস্থা করা গেলে পতিত জমিতে তিনবার ফসল আবাদ করা যেতো।

 

আরও পড়ুন: ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কৃষিজমির মাটি কাটায় যুবদল নেতাকে জরিমানা


স্থানীয় কৃষকদের দাবি সেচ সংকট ও অভাব অনটনের কারণে তারা পতিত জমির মাটি বিক্রি করে জমি গঠন নিচু করে চাষাবাদের চেষ্টা করছেন।


বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন সেচের সুনামগঞ্জের সহকারী প্রকৌশলী কাজী হোসনে আর রাফি বলেন চলমান প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে সেচ সংটক কিছুটা নিরসন হবে। তবে সারা জেলার সেচ সংকট দূরতে  উচ্চ ক্ষমতার পাম্প ভূগর্ভস্থ সেচনালা ও খালকাটার পরিমাণ ও পরিধি দ্বিগুণ করতে হবে।

 

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুলতানা জেরিন বলেন, কৃষি জমির মাটি কাটা বন্ধে জেল জরিমানা করা হচ্ছে। তারপরও কেউ কেউ ক্ষেতের মাটি বিক্রি করছেন এটা দুঃখজনক।

 

]]>
সম্পূর্ণ পড়ুন