সিরিয়া টিভির বরাতে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, দামেস্ক থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার (১২ মাইল) দক্ষিণে কিসওয়ে শহরে একটি সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে বিমান চালিয়েছে ইসরাইলি বিমান বাহিনী।
এক বিবৃতিতে ইসরাইলের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, দক্ষিণ সিরিয়ায় সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বিমান হামলার পর বড় বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের কথা জানিয়েছেন।
সিরিয়ায় ইসরাইলি আগ্রাসনের নিন্দা এবং দেশটি থেকে ইসরাইলি বাহিনী প্রত্যাহারের আহ্বানের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে এই হামলা চালানো হলো।
আরও পড়ুন: সিরিয়ার অর্থনৈতিক খাতে নিষেধাজ্ঞা স্থগিত ইইউর
ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজের মুখপাত্র এক বিবৃতিতে বলেন, ‘দক্ষিণ সিরিয়ায় শান্তি রক্ষায় আমরা যে নতুন নীতি নির্ধারণ করেছি তার অংশ হিসেবে বিমান বাহিনী দক্ষিণ সিরিয়ায় শক্তিশালী হামলা চালিয়েছে। এই হামলার মাধ্যমে আমাদের বার্তাটি স্পষ্ট, সেটা হলো আমরা দক্ষিণ সিরিয়াকে কোনোভাবেই দক্ষিণ লেবাননে পরিণত হতে দেব না।’
তিনি আরও বলেন, ‘সিরিয়ার সরকারি বাহিনী এবং দেশটির সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোর দক্ষিণ সিরিয়ায় নিজেদের প্রতিষ্ঠা করার যেকোনো প্রচেষ্টাকে আমরা নস্যাৎ করে দিতে প্রস্তুত।’
তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। ইসরাইলি হামলার বিষয়ে সিরিয়ার সরকারের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
এর আগে রোববার এক অনুষ্ঠানে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেন, সিরিয়ার দক্ষিণাঞ্চলে হায়াত তাহরির আল-শামের (এইচটিএইচ ) শাসন মেনে নেবে না ইসরাইল। এই অঞ্চল থেকে বিদ্রোহী গোষ্ঠীদের সরে যেতে হবে। এছাড়া গোলান মালভূমিতে দ্রুজ সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হলে সমুচিত জবাব দেয়ার হুঁশিয়ারি দেন নেতানিয়াহু।
আরও পড়ুন: সিরিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা স্থগিতে ইইউর সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানালেন এরদোয়ান
গত ডিসেম্বরে সিরিয়ার স্বৈরশাসক বাশার আল-আসাদের পতনের সুযোগে গোলান মালভূমির পাশে অবস্থিত এবং সিরিয়া ও ইসরাইলকে আলাদা করা বাফার জোন দখলে নেয় ইসরাইলি বাহিনী। ওই সময় সিরিয়ার সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে শত শত বিমান হামলা চালায় দখলদার ইসরাইল।
১৯৭৪ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতির অংশ হিসেবে এই অঞ্চলটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে একটি সামরিক নিরস্ত্রীকরণ অঞ্চল হিসেবে ঘোষণা করা হয়।