জাতিসংঘে দাঁড়িয়ে জিম্মিদশা থেকে মুক্ত নারীর যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকরের আহ্বান

৮ ঘন্টা আগে
গাজায় ইসরাইল-হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন ইসরাইলি এক সাবেক নারী জিম্মি। মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে দাঁড়িয়ে তিনি তার দুর্দশার কথা বর্ণনা করেন এবং যুদ্ধ বন্ধের আবেদন জানান।

ওই নারী জিম্মির নাম নোয়া আরগামানি। তাকে এবং তার সঙ্গীকে দক্ষিণ ইসরাইলের একটি সঙ্গীত উৎসব থেকে হামাস ধরে নিয়ে যায়। এর আট মাস পর গত বছরের জুনে ইসরাইলি বাহিনী তাকে উদ্ধার করে।

 

৭ অক্টোবর, ২০২৩ সালে ইসরাইলে হামাসের হামলার সময় তাদেরকে আটক করে নিয়ে আসে হামাস। 

 

তবে তার সঙ্গী আভিনাতান ওর, এখনও জিম্মি অবস্থায় আছেন এবং ইসরাইল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তির দ্বিতীয় পর্যায়ে তাকে মুক্তি দেয়ার কথা রয়েছে।

 

আরও পড়ুন:গাজার মতো পশ্চিম তীরেও ধ্বংসযজ্ঞ চালাবে ইসরাইল?

 

গাজায় ১৯ জানুয়ারি থেকে শুরু হয় প্রথম পর্যায়ের যুদ্ধবিরতি। যা শনিবার শেষ হবে। এরইমধ্যে ফিলিস্তিনি বন্দিদের মুক্তির বিনিময়ে অনেক ইসরাইলি জিম্মিকে হস্তান্তর করেছে হামাস।


তবে যুদ্ধবিরতির পরবর্তী ধাপ নিয়ে এখনও সমাধানে আসতে পারেননি আলোচকরা। এর আগে ইসরাইলি জিম্মিদের মুক্তি দেয়া হলেও বিনিময়ে শত শত ফিলিস্তিনিকে এখনও ছাড়েনি ইসরাইল। হামাসের বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি অভিযোগ এনে তারা তা স্থগিত করে। এদিকে হামাস এখনও কয়েক ডজন জিম্মি ধরে রেখেছে।


জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে দাঁড়িয়ে নোয়া বলেন, আমাকে নিশ্চিত করতে হবে যে বিশ্ব এটি জানছে। তা হলো চুক্তিটি সম্পূর্ণরূপে মেনে চলতে হবে। একে কার্যকর করতে হবে। 

 

এরপর তিনি কীভাবে তাকে জিম্মি করে রাখা একটি বাড়ি উড়িয়ে দেয়া হয়েছিল এবং ধ্বংসস্তূপের মধ্যে তিনি আটকা পড়েছিলেন তা বর্ণনা করেন। নোয়া আরও বলেন, তিনি ভাবতেও পারেননি যে সেখান থেকে বেঁচে ফিরতে পারবেন।

 

নোয়া বলেন, ‘আমি নড়াচড়া করতে পারছিলাম না। শ্বাস নিতে পারছিলাম না। আমার মনে হচ্ছিল এটা আমার জীবনের শেষ মুহূর্ত হতে চলেছে। আজ আপনার সাথে এখানে থাকাটা একটা অলৌকিক ঘটনা।’


তিনি জানান, উভয় পক্ষেরই অসংখ্য মানুষ ট্রমাগ্রস্ত হয়েছে। উভয় পক্ষই ক্ষতিগ্রস্ত, ধ্বংসপ্রাপ্ত। উভয়েরই এই বেদনা অনস্বীকার্য।


‘যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরপরই গাজায় আমার শেষ সফরে, আমি আবারও চরম ধ্বংসযজ্ঞ দেখেছি। এত ক্ষতি, এত ট্রমা এবং পরিত্যক্ততার অনুভূতি  আমাকে হতাশায় ডুবিয়েছে,’ বলেন নোয়া। 

 

আরও পড়ুন:ফিলিস্তিনি বন্দিদের মুক্তি না দিলে যুদ্ধবিরতির আলোচনায় বসবে না হামাস


এদিকে জাতিসংঘের মধ্যপ্রাচ্য দূত সিগ্রিড কাগ, যিনি গাজায় জাতিসংঘের জ্যেষ্ঠ মানবিক ও পুনর্গঠন সমন্বয়কারী হিসেবেও কাজ করেছেন। তিনি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদকে বলেছেন যে গাজায় পুনরায় শত্রুতা শুরু হওয়া যেকোনো মূল্যে এড়াতে হবে।

 

সূত্র: রয়টার্স

]]>
সম্পূর্ণ পড়ুন