সার্থক হলো নাম, অবশেষে মন্ত্রী পেল রাঙ্গামাটির ‘মন্ত্রীপাড়া’

২ সপ্তাহ আগে
রাঙ্গামাটি শহরের কলেজ গেট সংলগ্ন এলাকাটি দীর্ঘদিন ধরে ‘মন্ত্রীপাড়া’ নামেই পরিচিত। এই নামের পেছনে রয়েছে এক ইতিহাস। সেই ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে আছেন সদ্য শপথ নেয়া পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান।

তার বাবা সুবিমল দেওয়ান ছিলেন সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মন্ত্রী পদমর্যাদার উপদেষ্টা। মূলত তখন থেকেই ওই এলাকার নাম হয়ে যায় মন্ত্রীপাড়া। এবার বাবার পর ছেলেও মন্ত্রী হওয়ায় রাঙ্গামাটিবাসীর মুখে মুখে ফিরছে অবশেষে মন্ত্রী পেল মন্ত্রীপাড়া।

 

জানা গেছে, দীপেন দেওয়ানের বাবা সুবিমল দেওয়ান রাঙ্গামাটি জেলা বিএনপির প্রতিষ্ঠাকালীন সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে তিনি জেলা বিএনপির সভাপতির দায়িত্বও পালন করেছেন। বাবার পথ অনুসরণ করে একসময় সরকারি চাকরি ছেড়ে বিএনপির রাজনীতিতে যোগ দেন পুত্র দীপেন দেওয়ান।

 

অবশ্য ছাত্রাবস্থাতেই দীপেন দেওয়ান ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন। রাঙ্গামাটি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, রাঙ্গামাটি সরকারি কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার পাট চুকিয়ে রাজনীতিতেই থিতু হওয়ার স্বপ্ন ছিল তার। কিন্তু পরিবারের চাপে শেষ পর্যন্ত বিসিএস পরীক্ষায় অংশ নিতে হয়। সপ্তম বিসিএসে তিনি জুডিশিয়াল সার্ভিসে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়ে চাকরিতে যোগ দেন।

 

কিন্তু যার শেকড় রাজনীতিতে, তার কি আর সরকারি চাকরিতে মন বসে? তাই ২০০৬ সালে চারদলীয় জোট সরকারের শেষ সময়ে তৎকালীন উপমন্ত্রী মনিস্বপন দেওয়ান দলত্যাগ করলে দলে যোগ্য নেতার সংকট তৈরি হয়। এ সময় দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার আহ্বানে সাড়া দিয়ে প্রায় ২০ বছরের জুডিশিয়াল সার্ভিসের চাকরি ছেড়ে রাজনীতিতে যোগ দেন দীপেন দেওয়ান।

 

আরও পড়ুন: পার্বত্য মন্ত্রণালয় সৃষ্টির পর পূর্ণ মন্ত্রী পেল রাঙ্গামাটি, জেলাজুড়ে উচ্ছ্বাস

 

রাজনীতিতে যোগদানের পর থেকেই তার জীবনে নেমে আসে একের পর এক কালো মেঘের ছায়া। ২০০৬ সালে রাজনীতিতে আসার পর দেশের পরিস্থিতির কারণে সেসময় আর নির্বাচন হয়নি। এরপর ওয়ান-ইলেভেন সরকারের সময় নতুন নির্বাচনী আইনের ফাঁদে আটকে যায় দীপেন দেওয়ানের ভাগ্য। সরকারি চাকরি ছাড়ার পর তিন বছর পূর্ণ না হওয়ায় ২০০৮ সালের সংসদ নির্বাচনে তিনি অংশ নিতে পারেননি।

 

তবে তিনি দমে যাননি। ২০১০ সালে জেলা বিএনপির সভাপতি নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে ২০১৬ সাল থেকে অদ্যাবধি তিনি কেন্দ্রীয় বিএনপির ধর্ম বিষয়ক সহ-সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পূর্ববর্তী সময়েও রাঙ্গামাটি বিএনপির একজন অভিভাবক হিসেবে তিনি নেতাকর্মীদের নিয়ে রাজপথে সক্রিয় ছিলেন। অবরোধ, মিছিল, মিটিং সবখানেই ছিল তার সরব উপস্থিতি।

 

দুঃসময়ে দলের হাল না ছাড়া দীপেন দেওয়ান রাজনীতির নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে অবশেষে দেখা পেলেন সেই সোনার হরিণের। প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েই পেলেন পূর্ণ মন্ত্রীর দায়িত্ব।

 

মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে জাতীয় সংসদ ভবনের শপথ কক্ষে বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্যদের সঙ্গে দীপেন দেওয়ানও সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেন। এরপর মন্ত্রিসভা গঠনের জন্য একই দিন দুপুরে তিনি ফোন পান এবং বিকেলে সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় মন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন।

 

এদিকে মন্ত্রিত্ব পাওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে রাঙ্গামাটিজুড়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন স্থানীয়রা। সাধারণ মানুষের মতে, যোগ্য ব্যক্তিকেই মূল্যায়ন করা হয়েছে।

]]>
সম্পূর্ণ পড়ুন