ইরানের বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সঙ্গে এক কথোপকথনে এ কথা বলেন।
পেজেশকিয়ান জানান, হুমকি, চাপ কিংবা সামরিক পদক্ষেপ নিলে যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের সমস্যা আরও বাড়াবে এবং পরিস্থিতি আরও জটিল হবে।
তিনি আরও বলেন, ইউরোপের উচিত যুক্তরাষ্ট্রকে আন্তর্জাতিক আইন ও নীতি মেনে চলতে উৎসাহিত করা। খবর বিবিসি’র।
আরও পড়ুন: ইসরাইলের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি স্থগিতের ঘোষণা ইতালির
এদিকে, ইরানের বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ আরোপের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত আমির সাঈদ ইরাভানি। তিনি এটিকে ইরানের সার্বভৌমত্ব ও ভূখণ্ডগত অখণ্ডতার চরম লঙ্ঘন হিসেবে আখ্যা দেন এবং একটি অবৈধ আগ্রাসনমূলক কাজ বলে অভিহিত করেন, যা আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এবং নিরাপত্তা পরিষদের সভাপতির কাছে পাঠানো এক আনুষ্ঠানিক চিঠিতে ইরাভানি ওয়াশিংটনের সবশেষ উসকানিমূলক পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানান।
অন্যদিকে, ইরান যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাবের কারণে বিশ্বব্যাপী ৩ কোটি ২০ লাখের বেশি মানুষ দারিদ্র্যের মধ্যে পড়তে পারে বলে উঠে এসেছে এক প্রতিবেদনে।
ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি নিয়ে সন্দেহের মধ্যে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) বলেছে, জ্বালানি, খাদ্য ও দুর্বল অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি-সংক্রান্ত এক ‘ত্রিমুখী ধাক্কা’র সম্মুখীন হচ্ছে বিশ্ব।
দারিদ্র্য মোকাবিলায় কাজ করা সংস্থাটি জানিয়েছে, এই সংঘাত আন্তর্জাতিক উন্নয়নের অগ্রগতি পিছিয়ে দিচ্ছে এবং এর প্রভাব অঞ্চলভেদে অসমভাবে অনুভূত হবে।
ইউএনডিপি’র প্রশাসক এবং বেলজিয়ামের সাবেক প্রধানমন্ত্রী আলেকজান্ডার ডি ক্রু বলেছেন, ‘এ ধরনের সংঘাত উন্নয়নের বিপরীতমুখী প্রক্রিয়া। যুদ্ধ বন্ধ এবং যুদ্ধবিরতিকে অবশ্যই স্বাগত। কিন্তু এর প্রভাব ইতোমধ্যেই দেখা দিয়েছে।’
আরও পড়ুন: ইরান যুদ্ধের কারণে দারিদ্র্যের মুখে ৩ কোটির বেশি মানুষ: জাতিসংঘ
তিনি বলেন,
আপনি এর দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব দেখতে পাবেন, বিশেষ করে দরিদ্র দেশগুলোতে, যেখানে মানুষকে আবার দারিদ্র্যের দিকে ঠেলে দেয়া হচ্ছে। এটাই সবচেয়ে হৃদয়বিদারক দিক। যাদের দারিদ্র্যের দিকে ঠেলে দেয়া হচ্ছে, তারা প্রায়শই সেইসব মানুষ, যারা একসময় দারিদ্র্যের মধ্যে ছিল, তা থেকে বেরিয়ে এসেছিল এবং এখন আবার দারিদ্র্যের কবলে পড়ছে।
তেহরানে প্রথম মার্কিন-ইসরাইলি বিমান হামলার পর থেকে গত ছয় সপ্তাহে জ্বালানির দাম ব্যাপকভাবে বেড়েছে, কারণ ইরান হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেয়ায় বিশ্ব অর্থনীতিতে তেল ও গ্যাসের সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। এর ফলে সার সরবরাহ এবং বৈশ্বিক নৌপরিবহনের ওপর যে ধারাবাহিক প্রভাব পড়ছে, তার ভিত্তিতে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে উন্নয়নশীল বিশ্বের জন্য একটি ‘খাদ্য নিরাপত্তা টাইমবোমা’ তৈরি হয়ে গেছে।
]]>
১ সপ্তাহে আগে
২








Bengali (BD) ·
English (US) ·