গত শুক্রবার (১০ জানুয়ারি) রাতে সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক এইচ এম রহমতুল্লাহ পলাশ ও সদস্য সচিব আবু জাহিদ ডাবলুর হাতে ফুলের তোড়া দিয়ে বিএনপিতে যোগদান করেন আশাশুনি উপজেলার খাজরা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আলহাজ্ব মো. ওয়াহিদুল ইসলাম এবং দরগাহপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ সমর্থক এস.এম জমির উদ্দিন গাজী।
জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আবু জাহিদ ডাবলু নিজেই তার ফেসবুক আইডিতে যোগদানের ছবিসহ পোস্ট দিলে মুহূর্তেই তা ভাইরাল হয় এবং দলের ভেতর-বাইরে সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে জেলা বিএনপির সাধারণ নেতাকর্মী ও অঙ্গ-সংগঠনের নেতাদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দেয়। জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি কামরুজ্জামান ভুট্টো ক্ষোভের সঙ্গে একজন কর্মীর করা ব্যাঙ্গাত্মক পোস্ট শেয়ার করেন, যেখানে লেখা ছিল- 'অচিরেই শেখ হাসিনা সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির মাধ্যমে বিএনপিতে যোগদান করবেন!'
আবু জাহিদ ডাবলুর ফেসবুক পোস্টে শত শত নেতাকর্মী নেতিবাচক মন্তব্য করেন। একজন লিখেছেন, 'মাত্র এক বছরের মাথায় হাজারো শহীদের রক্ত ও আহতদের অঙ্গহানির সঙ্গে বেইমানি করা হচ্ছে।' অন্য একজন লিখেছেন, 'ফ্যাসিস্ট সংগঠনের ইউনিয়ন সভাপতিকে কোন যুক্তিতে দলে ভেড়ানো হলো? আপনারা সাতক্ষীরা বিএনপিকে ধ্বংস করে দিচ্ছেন।'
নেতাকর্মীদের মূল অভিযোগ হলো, গত ১৭ বছরের জুলুম-নির্যাতন এবং জুলাই বিপ্লবের রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের স্মৃতি মুছে দিয়ে স্বার্থান্বেষী মহলের সাথে আঁতাত করে আওয়ামী নেতাদের দলে ঢোকানো হচ্ছে।
আরও পড়ুন: শরীয়তপুরে আওয়ামী লীগ ও এনসিপির ৩ শতাধিক নেতাকর্মীর বিএনপিতে যোগদান
চরম বিতর্কের মুখে পড়ার পরদিন শনিবার (১১ জানুয়ারি) জেলা বিএনপি তাদের অবস্থান পরিবর্তন করে। সদস্য সচিব আবু জাহিদ ডাবলু তার আইডিতে বিএনপির প্যাডে লেখা একটি পত্র পোস্ট করে জানান, আওয়ামী লীগ নেতাদের ওই যোগদানের কার্যক্রম আপাতত স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে।
প্রাথমিকভাবে সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আবু জাহিদ ডাবলু তার পোস্টে বলেছিলেন, আওয়ামী লীগের পদ থেকে পদত্যাগ করে দলটির আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়েই তারা বিএনপিতে এসেছিলেন। তবে ব্যাপক প্রতিবাদের মুখে দলের ভাবমূর্তি রক্ষায় এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্র নিশ্চিত করেছে।
সাতক্ষীরার সাধারণ বিএনপি নেতাকর্মীদের দাবি, যারা দীর্ঘ ১৭ বছর দলের ওপর নির্যাতন চালিয়েছে, তাদের কোনোভাবেই দলে ঠাঁই দেওয়া যাবে না। এ ঘটনায় জেলা বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের দূরদর্শিতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।

২ দিন আগে
২








Bengali (BD) ·
English (US) ·