বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) বিকেল ঠিক ৫টা ১০ মিনিট। কক্সবাজার সাগরতীরে ২০২৫ সালের শেষ আলো ছড়িয়ে দিচ্ছে আগুনরাঙা সূর্য। শীতের নরম আবহে গোধূলির রঙ মেখে ধীরে ধীরে দিগন্তে মিলিয়ে যাচ্ছে লাল বলয়।
সাগরতীরজুড়ে নেমে আসে নীরব এক আবেশ। সবার চোখ আটকে থাকে পশ্চিম আকাশে। মুঠোফোন আর ক্যামেরায় বন্দি হচ্ছে সূর্য ডুবে যাওয়ার শেষ দৃশ্য। মুহূর্তেই লাল সূর্য নিজেকে সঁপে দেয় শান্ত সাগরের বুকে।
বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত কক্সবাজারে এমন মোহনীয় বিদায়ক্ষণের সাক্ষী হন লাখো ভ্রমণপিপাসু। সব বয়সী মানুষের পদচারণায় মুখর ছিল সাগরতীর। তবে সূর্য ডোবার সঙ্গে সঙ্গেই অনেকেই মনে মনে কষছেন গেল বছরের প্রাপ্তি আর অপ্রাপ্তির হিসেব।
লাবণী পয়েন্টে আসা পর্যটক শরিফুল ইসলাম বলেন, ২০২৫ সালে অনেক প্রত্যাশা ছিল, আলহামদুলিল্লাহ বেশিরভাগই পূরণ হয়েছে। আগামী বছরেও পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে ও পরিবারকে নিয়ে দেশের সুন্দর পর্যটনস্থানগুলো উপভোগ করতে চাই। ইনশাআল্লাহ, সেই প্রত্যাশা পূরণ হবে-এটাই কামনা।
আরেক পর্যটক সাবিত রহমান বলেন, দেশে ইতিবাচক পরিবর্তন আসছে। ইনশাআল্লাহ আগামী দিনে আরও ভালো কিছু দেখার প্রত্যাশা রইল। দোয়া ও আশা-২০২৬ সাল যেন দেশবাসীর জন্য আরও সুন্দর ও নিরাপদ হয়।
আরও পড়ুন: থার্টি ফার্স্ট নাইট ঘিরে কক্সবাজারে পুলিশের চার স্তরের নিরাপত্তা
পর্যটক রাফিয়া রহমান বলেন, ২০২৬ সালে একটি উন্নয়নশীল ও ক্রমবর্ধমান উন্নতির বাংলাদেশ দেখতে চ্ইা। ২০২৫ সালের মতোই যেন ২০২৬ সালও হাসি-খুশিভাবে শুরু ও শেষ হয়-এটাই আমার আশা ও প্রত্যাশা।
পর্যটক রিয়াজ রায়হান বলেন, পরিবারের সঙ্গে সূর্যাস্ত উপভোগ করে দিনটি ভালোই কেটেছে। শেষ দিনের কারণে কিছুটা ভিড় থাকলেও পরিবেশ ঠিকঠাক ছিল। সাম্প্রতিক একটি শোকের খবরে মন খারাপ থাকলেও, পরিবারকে নিয়ে কক্সবাজারে সময় কাটাচ্ছি।
এদিকে পর্যটকদের সমুদ্রস্নানে নিরাপত্তায় রয়েছে অর্ধ-শতাধিক লাইফ গার্ড। তারাও কষছেন প্রাপ্তি আর অপ্রাপ্তির হিসেব-নিকেশ।
সি সেফ লাইফ গার্ড সংস্থার কর্মী মোহাম্মদ শুক্কুর বলেন, ২০২৫ সালে লাবণী বিচ থেকে টেকনাফ পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে একাধিক ডুবে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্ট চিহ্নিত করে নিরাপত্তা জোরদারের চেষ্টা করছি। ২০২৬ সালে ডুবে যাওয়ার ঘটনা কমিয়ে সেবা আরও সম্প্রসারণ ও সুন্দরভাবে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই আমাদের একমাত্র লক্ষ্য।
আর পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশা, ইংরেজি নতুন বছরে আরও বাড়বে পর্যটকের সংখ্যা। এতে ঘুরে দাঁড়াবে পর্যটনখাত, পূরণ হবে প্রত্যাশিত লক্ষ্য।
আরও পড়ুন: থার্টি ফার্স্ট নাইটে কক্সবাজারে কঠোর বিধিনিষেধ জারি
হোটেল কক্স-টুডে’র ব্যবস্থাপক আবু তালেব শাহ বলেন, নতুন বছরে পর্যটন শিল্প একটি অনন্য ও সমৃদ্ধ রূপ নেবে-এটাই প্রত্যাশা। এ শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা যেন সুচিন্তিত পরিকল্পনার মাধ্যমে পর্যটন খাতকে আরও এগিয়ে নেন, সেই আশা ব্যক্ত করছি।
ইংরেজি নতুন বছর বরণ ও পুরনো বছর বিদায় উপলক্ষে কক্সবাজারে নেয়া হয়েছে চার স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা। তবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে বাতিল করা হয়েছে সব ধরনের আনুষ্ঠানিক উৎসব আয়োজন।

২ সপ্তাহ আগে
৭








Bengali (BD) ·
English (US) ·