সশস্ত্র সংঘাতের মধ্যেই মিয়ানমারে দ্বিতীয় দফায় ভোটগ্রহণ শুরু

৪ দিন আগে
মিয়ানমারে সশস্ত্র সংঘাতের মধ্যেই আজ রোববার (১১ জানুয়ারি) সাধারণ নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহন শুরু হয়েছে। সংঘাতপ্রবণ এলাকাসহ দেশটির ১০০টি টাউনশিপে ভোট নেয়া হচ্ছে।

রোববার (১১ জানুয়ারি) স্থানীয় সময় সকাল ৬টায় সাগাইং, ম্যাগওয়ে, মান্দালয়, বাগো ও তানিনথারিই অঞ্চলের পাশাপাশি মন, শান, কাচিন, কায়াহ ও কায়িন রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। সম্প্রতি এসব অঞ্চলের অনেক জায়গায় সংঘর্ষ হয়েছে এবং এখনও কড়া নিরাপত্তা জারি রয়েছে।

 

সশস্ত্র সংঘাতের কারণে তিন ধাপে আয়োজন করা হয়েছে মিয়ানমারের নির্বাচন। গত ২৮ ডিসেম্বর প্রথম দফায় ৩৩০টির মধ্যে ১০২টি আসনে ভোটগ্রহণ করা হয়। তৃতীয় ও সবশেষ দফা ভোট নির্ধারিত রয়েছে ২৫ জানুয়ারি। তবে সংঘাতের কারণে ৬৫টি টাউনশিপে কোনো ভোট হবে না।

 

মিয়ানমারের দ্বিকক্ষবিশিষ্ট জাতীয় সংসদে মোট ৬৬৪টি আসন রয়েছে। সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া দল রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করে সরকার গঠন করে। সংবিধান অনুযায়ী, সেনাবাহিনী স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংসদের ২৫ শতাংশ আসন পায়।

 

আরও পড়ুন: নির্বাচনের প্রথম ধাপ শেষে সংঘবদ্ধ হামলার মুখে মিয়ানমার সেনাবাহিনী

 

সমালোচকদের মতে, সামরিক সরকারের আয়োজিত এই নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু নয় এবং ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে অং সান সু চির নির্বাচিত সরকার উৎখাতের পর ক্ষমতা বৈধ করার চেষ্টা মাত্র।

 

এবার জাতীয় ও আঞ্চলিক সংসদের জন্য ৫৭টি দলের ৪ হাজার ৮০০–এর বেশি প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও সারাদেশে কার্যত প্রতিযোগিতায় রয়েছে মত্র ছয়টি দল। প্রথম দফায় সামরিক সমর্থিত ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (ইউএসডিপি) নিম্নকক্ষের প্রায় ৯০ শতাংশ আসন জিতে প্রাধান্য বিস্তার করে।



সামরিক সরকার দাবি করেছে, প্রথম দফায় প্রায় ৬০ লাখ মানুষ ভোট দিয়েছেন, যা মোট ভোটারের প্রায় ৫২ শতাংশ।।

 

আরও পড়ুন:মিয়ানমারে প্রথম ধাপের ভোটে ৮৯টি আসন পেলো সেনা সমর্থিত দল

 

সাবেক নেত্রী অং সান সু চি ও তার দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি) নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না। সু চি বর্তমানে ২৭ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন এবং ২০২৩ সালে এনএলডি ভেঙে দেয়া হয়।

 

জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধি টম অ্যান্ড্রুজ এই নির্বাচনকে ‘প্রহসন’ আখ্যা দিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে তা প্রত্যাখ্যানের আহ্বান জানিয়েছেন। তার মতে, ‘রাজনৈতিক বন্দী, দমন-পীড়ন ও বিরোধী দল নিষিদ্ধ থাকার মধ্যে কোনো বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন সম্ভব নয়।’

 

রাজনৈতিক বন্দীদের সহায়তা সংস্থার তথ্য মতে, ২০২১ সাল থেকে ২২ হাজারের বেশি মানুষ রাজনৈতিক কারণে আটক হয়েছেন এবং নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে নিহত হয়েছেন ৭ হাজার ৬০০-এর বেশি বেসামরিক নাগরিক।

 

 

 

]]>
সম্পূর্ণ পড়ুন