মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার পূর্ব এনায়েতনগরে সরিষা ক্ষেতের পাশে ৩০০টি বাক্স বসিয়ে এ বছর ভ্রাম্যমাণ মধুচাষ করছেন খামারি ইব্রাহিম মিয়া। চলতি মৌসুমে তিনি প্রায় ৮ লাখ টাকার ব্যবসার আশা করছেন। শুধু ইব্রাহিম মিয়াই নন, জেলার বিভিন্ন এলাকায় সরিষা, ধনিয়া ও কালোজিরাসহ রবিশস্যের ক্ষেতের পাশে মৌমাছির বাক্স বসানো হয়েছে। কম পুঁজিতে বেশি লাভ হওয়ায় অনেকেই এই পেশায় ঝুঁকছেন। এতে বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হওয়ায় তারাও সন্তুষ্ট।
জেলায় বর্তমানে আড়াইশোরও বেশি ভ্রাম্যমাণ মৌচাষি রয়েছেন। খরচ বাদ দিয়ে প্রত্যেকেই এই মৌসুমে ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা লাভের আশা করছেন। বছরের ৬ থেকে ৮ মাস মধু সংগ্রহে ব্যস্ত সময় কাটান তারা।
আরও পড়ুন: কম যত্নে বেশি লাভ, কফি চাষে বদলাচ্ছে পাহাড়ের কৃষকের ভাগ্য
জেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরে ধনিয়ার লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪ হাজার ৯৬৭ হেক্টর, অর্জিত হয়েছে ৫ হাজার ৭৮ হেক্টর। কালোজিরার লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২ হাজার ৩৪২ হেক্টর, অর্জন হয়েছে ২ হাজার ৪৫১ হেক্টর। আর সরিষার লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৭ হাজার হেক্টর, যা ৫৬০ হেক্টর বেশি হয়ে দাঁড়িয়েছে ১৭ হাজার ৫৬০ হেক্টরে।
সরেজমিনে দেখা যায়, যতদূর চোখ যায় ততদূর বিস্তীর্ণ হলুদ সরিষার ক্ষেত। এই মনোমুগ্ধকর দৃশ্য দেখতে প্রতিদিন বিকেলে শিশু-কিশোরসহ অনেক প্রকৃতিপ্রেমী সেখানে ভিড় করছেন। সরিষা ক্ষেতগুলো এখন দর্শনার্থীদের আকর্ষণের কেন্দ্র হয়ে উঠেছে।
মধু ক্রেতা কাজী ইকবাল হোসেন বাবু বলেন, চোখের সামনেই নির্ভেজাল মধু উৎপাদন হতে দেখছি। এখান থেকে খাঁটি মধু কিনেছি, যা সারা বছর খেতে পারব। গত বছরও এমন ভ্রাম্যমাণ মৌচাষিদের কাছ থেকে মধু নিয়েছিলাম।
চাষিরা জানান, সরকারি ও বেসরকারি সহযোগিতা বাড়লে বিদেশে মধু রফতানি করে উল্লেখযোগ্য বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন সম্ভব। মৌমাছির পরাগায়নের ফলে সরিষা, ধনিয়া ও কালিজিরার ফলন বেড়েছে, পাশাপাশি উৎপাদিত হচ্ছে খাঁটি মধু। বাড়ির পাশেই ভালো মানের মধু পাওয়ায় ক্রেতারাও খুশি এবং কিনতে ভিড় করছেন। মৌচাষি রাতিন ইসলাম জানান, ছয় মাসের আয় দিয়েই সারা বছরের সংসার চালাই। প্রতিবছর খরচ বাদে ৩ থেকে ৪ লাখ টাকা লাভ হয়। খামারে চারজন কাজ করেন।
আরও পড়ুন: গোমতীর চরে আলু-কুমড়ার সমন্বিত চাষ, তবুও ক্ষতির মুখে চাষিরা
আরেক মৌচাষি ইব্রাহিম মিয়া বলেন, শুরুতে তার ১৫০টি মৌবাক্স ছিল। পাঁচ বছরে তা বেড়ে হয়েছে ৪৫০টি। বিভিন্ন জেলায় ঘুরে মৌচাষ করি। এতে সংসার ভালোভাবেই চলছে। উৎপাদিত মধুর কিছু অংশ দেশের বাইরেও যায়। সরকারি সহায়তা পেলে আরও এগিয়ে যেতে পারব।
কালকিনির পূর্ব এনায়েতনগর ইউনিয়নের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. জোবায়ের হোসেন বলেন, ইউনিয়নে কয়েকজন ভ্রাম্যমাণ মৌচাষি রয়েছেন। তারা যেন আরও ভালোভাবে মধু উৎপাদন করতে পারেন, সেজন্য কৃষি বিভাগ থেকে নিয়মিত পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের মাদারীপুরের উপপরিচালক ড. রহিমা খাতুন জানান, ভ্রাম্যমাণ মৌচাষিদের সব ধরনের সহযোগিতা করা হচ্ছে। কৃষি বিভাগ সবসময় তাদের পাশে আছে। আগে অনেক প্রান্তিক চাষির ধারণা ছিল মৌমাছি চাষ করলে ফসলের ক্ষতি হয়। কৃষি বিভাগ সেই ভুল ধারণা দূর করেছে। পাশাপাশি মৌচাষিদের নিয়মিত পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা দেয়া হচ্ছে।
]]>
২ সপ্তাহ আগে
২






Bengali (BD) ·
English (US) ·