দেড় দশকের বেশি সময় ধরে রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক সংকট থেকে উত্তরণের মসৃণ পথ রচনা করেছে দলটি। তবে ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে ভূমিধস বিজয় পেলেও বিএনপিকে বেশ চাপে ফেলবে দেশের সার্বিক অবস্থা।
একদিকে রাজনৈতিক জীবনে দেশে দীর্ঘ দিন শূন্যতার পর প্রথম সরকার প্রধানের দায়িত্ব নেবেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। অন্যদিকে আওয়ামী শাসনামলে ধ্বংস হওয়া কাঠামো মেরামত, বিভিন্ন খাত সংস্কার, রাজনৈতিক মেলবন্ধনে স্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির মত চ্যালেঞ্জ রয়েছে বিএনপির সামনে।
বিশ্লেষকদের মতে, নতুন সরকারকে সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষায় ফেলবে অর্থনৈতিক সংকট। নড়বড়ে আর্থিক প্রতিষ্ঠান, যখন তখন মূল্যস্ফীতির চোখ রাঙানি, রফতানি সম্প্রসারণ, অভ্যন্তরীণ বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধিসহ রয়েছে বছরের শেষ সময়ে এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন। অংশীজনদের পরামর্শ, রাজনৈতিক অভিজ্ঞতাকে পুঁজি করে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যেও জোর দিতে হবে বাংলাদেশকে।
দলীয় শৃঙ্খলার পাশাপাশি নেতাকর্মীদের নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রেও বিএনপিকে গুরুত্ব দেয়ার পরামর্শ রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সিদ্দিকুর রহমান খান বলেন, ‘দেশের আইনশৃঙ্খলার যে অবনতি হয়েছে বা জনপদ নিরাপত্তার ক্ষেত্রে তৈরি হওয়া ঘাটতি পূরণ করা, রাজনৈতিক অঙ্গনে অস্থিরতাটা দমন করে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করাই হবে নতুন সরকারের চ্যালেঞ্জ।’
আরও পড়ুন: বিএনপির সামনে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের চ্যালেঞ্জ
তিনি আরও বলেন, ‘নতুন সরকারকে উত্তরাধিকার সূত্রে একটা ভঙ্গুর অর্থনীতি নিয়ে যাত্রা শুরু করতে হবে। সেই অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করে সরকার আগামী ৫ বছর জনগণের জন্য যে পরিকল্পনা উপস্থাপন করেছে, সেগুলো বাস্তবায়নের জন্য অর্থীনিতি সমৃদ্ধি না হলেও একটা স্থিতিশীল অবস্থায় নিয়ে আসা। এটাই নতুন সরকারের জন্য একটা বড় চ্যালেঞ্জ।’
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক শাহাব এনাম খান বলেন, ‘মানবিক এবং রাজনৈতিক দিক থেকে নয়, মিয়ানমারের সঙ্গে সম্পর্কটা এখন বাণিজ্যিক ভিত্তিতে দেখা দরকার। যেটা আমাদের সহায়তা করবে আশিয়ান এবং অন্যান্য দেশের মার্কেটে প্রভাব বিস্তারের জন্য।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. সাব্বির আহমেদ বলেন, ‘নির্বাচনে বিএনপি দুই তৃতীয়াংশ আসনে জয় পেয়েছে। এই দুই তৃতীয়াংশের সংকট রাজনীতি আমরা দীর্ঘ সময় ধরে দেখছি। দলের মধ্যে স্বৈরাচারী মনোভাব তৈরি হয়ে যায়। হয়তো দলের প্রধানের মধ্যে হয় না। কিন্তু দলের সর্বস্তর ভাবে- সবকিছুর মালিক এখন আমরা। এই সমস্যাটাই হবে বড় সংকট।’
গত বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০টি আসনের মধ্যে ২৯৯টিতে ভোট গ্রহণ হয়। গতকাল শুক্রবার ২৯৭ আসনের বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা করে ইসি। উচ্চ আদালতের নির্দেশনা থাকায় চট্টগ্রাম-২ ও ৪ আসনের ফলাফলের গেজেট এখন জারি করা হয়নি।
নির্বাচনে ২৯৭ আসনের মধ্যে বিএনপি ২০৯টিতে জয় পেয়েছে। ফল ঘোষণা স্থগিত থাকা দুটি আসনেও বিএনপির প্রার্থীরা এগিয়ে আছেন। বিএনপির শরিকেরা পেয়েছে ৩টি আসন। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী পেয়েছে ৬৮টি আসন। জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের অন্য শরিকেরা পেয়েছে ৯টি আসন। স্বতন্ত্র প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন ৭টি আসনে এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ একটি আসনে বিজয়ী হয়েছে।
]]>
২ সপ্তাহ আগে
৫








Bengali (BD) ·
English (US) ·