রোববার (১১ জানুয়ারি) রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপসচিব আশফিকুন নাহার স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এই বদলির আদেশ জারি করা হয়।
এর আগে, ১৪ ডিসেম্বর নির্বাহী প্রকৌশলী বাচ্চু মিয়ার ঘুষ, অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে সময় সংবাদে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রচারিত হয়। প্রতিবেদনটি প্রচারের পর পরই ২১ ডিসেম্বর বাচ্চু মিয়াকে দ্রুত বদলি করে সদর দফতরে সংযুক্ত করার জন্য স্থানীয় সরকার বিভাগে সুপারিশ করেন এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী কাজী গোলাম মোস্তফা।
সময় সংবাদের অনুসন্ধানে উঠে আসে প্রকৌশলী বাচ্চু মিয়ার দুর্নীতির ভয়াবহ চিত্র। ঠিকাদারদের কাছে ঘুষ দাবি, অর্থের বিনিময়ে টেন্ডারের গোপন দর ফাঁস, কাজ না করেই ঠিকাদারদের যোগসাজশে অর্থ আত্মসাৎ এবং আপন ভাইয়ের নামে লাইসেন্স করে কোটি কোটি টাকার কাজ হাতিয়ে নেয়ার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ মেলে।
আরও পড়ুন: দুদকের জালে ধরা পড়ায় ঘুষের রেট বাড়ালেন প্রকৌশলী বাচ্চু!
প্রতিবেদনে দেখানো হয়, বাচ্চু মিয়ার অনিয়মের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলা চলমান থাকলেও তিনি অদৃশ্য শক্তির বলে স্বপদে বহাল ছিলেন। এমনকি দুদকের জালে আটকা পড়ার পর তিনি ঘুষের রেট আরও বাড়িয়ে দিয়েছিলেন।
রাজধানীর গাবতলী এলাকায় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় নির্মাণ প্রকল্পে কাজ শেষ না করেই ১ কোটি ২২ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেন বাচ্চু মিয়া ও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। দুদকের তদন্তে প্রমাণিত হয়, সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার করে তিনি ভুয়া মেজারমেন্ট বুক তৈরি করে বিল পাস করিয়ে নেন এবং নিজের কমিশন পকেটে ভরেন। মামলার পর তড়িঘড়ি করে সেন্টারিং না খুলেই একসঙ্গে তিনটি ছাদের ঢালাই দেয়ার ঘটনাও ঘটে, যা নিয়ে শ্রমিক ও স্থানীয়দের মধ্যে বিস্ময় সৃষ্টি হয়।
অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, বাচ্চু মিয়া নির্বাহী প্রকৌশলী হওয়ার পর নিজের আপন ভাই শহিদুল ইসলাম সুমনের নামে ‘মোহনা’ ও ‘মাহমুদ এন্টারপ্রাইজ’ নামে দুটি ঠিকাদারি লাইসেন্স করান। উত্তরার আকাশ প্লাজায় এই প্রতিষ্ঠানগুলোর ঠিকানায় গিয়ে কোনো অফিসের অস্তিত্ব পাওয়া না গেলেও, অস্তিত্বহীন এই প্রতিষ্ঠানের নামে প্রায় কোটি টাকার কাজ বরাদ্দ দিয়েছিলেন তিনি।
সময় সংবাদের হাতে আসা একটি অডিও ক্লিপে বাচ্চু মিয়াকে বলতে শোনা যায়, ‘ইদানিং টুকিটাকি টাকা আমি নিচ্ছি। কারণ আমার টাকার দরকার হচ্ছে।’ ঠিকাদারদের অভিযোগ ছিল, আগে কাজের মোট অর্থের ৮ শতাংশ ঘুষ নিতেন তিনি, কিন্তু দুদকের মামলার পর তা বাড়িয়ে ১০ শতাংশ করেন। এছাড়া বিল ছাড় করার সময় আরও ৪-৫ শতাংশ টাকা কেটে রাখতেন।
অবশেষে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশের পর টনক নড়ল কর্তৃপক্ষের। দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত এই প্রকৌশলীকে সরিয়ে নেয়ার মাধ্যমে এলজিইডিতে স্বচ্ছতা ফিরবে বলে আশা করছেন ভুক্তভোগী ঠিকাদাররা।
]]>
৩ দিন আগে
১








Bengali (BD) ·
English (US) ·