কিন্তু তার একাকিত্বের গল্প নিয়ে চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষের করা একাধিক পোস্ট, বিশেষ করে #HangInTherePunch হ্যাশট্যাগ সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হলে ‘পাঞ্চ’ বিশ্বজুড়ে আলোচনায় আসে এবং একপ্রকার ইন্টারনেট তারকায় পরিণত হয়।
বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে ভক্তরা তাকে উৎসাহ জানাতে শুরু করেন। সাম্প্রতিক উত্তেজনাপূর্ণ বৈশ্বিক পরিস্থিতির মধ্যে অনেকেই ‘পাঞ্চ’-কে দেখছেন এক টুকরো উজ্জ্বল আনন্দ হিসেবে।
কারণও স্পষ্ট– পাঞ্চ অত্যন্ত আদুরে। আর সাম্প্রতিক ভিডিওতে দেখা যায়, সে ধীরে ধীরে অন্য বানরদের সঙ্গে আত্মবিশ্বাস ফিরে পাচ্ছে।
গত জুলাইয়ে জন্ম নেয়া ‘পাঞ্চ’-কে প্রচণ্ড গরমের মধ্যে কঠিন প্রসবের পর তার মা ত্যাগ করে বলে জানান চিড়িয়াখানার কর্মীরা। এরপর তাকে কর্মীরাই বড় করেন।
জানুয়ারিতে তাকে চিড়িয়াখানার ‘মাঙ্কি মাউন্টেন’ নামের বানরদের ঘেরাটোপে ফিরিয়ে আনা হয়। কিন্তু মায়ের সঙ্গ না থাকায় দলে মিশতে তার বেশ কষ্ট হচ্ছিল। ভিডিওতে দেখা যায়, বড় বানরদের কাছে গেলে তারা তাকে সরিয়ে দিচ্ছে, আর সে প্রায়ই একা একা খেলছে।
সামাজিক মাধ্যমে এক ব্যবহারকারী লিখেছেন, ‘আমার জীবনের লক্ষ্য এখন পাঞ্চকে ওই ভয়ংকর বানরদের কাছ থেকে উদ্ধার করে তাকে নিজের সন্তান বানানো।’
তবে পাঞ্চ পুরোপুরি একা ছিল না। পেশি শক্তিশালী করার জন্য তাকে একটি ওরাংওটাং আকৃতির খেলনা দেয়া হয়, যা এখন বেশ পরিচিত হয়ে উঠেছে।
সে খেলনাটিকে জড়িয়ে ধরে, টানে এবং নিজের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ বন্ধুর মতো করে মাঙ্কি মাউন্টেনজুড়ে সঙ্গে নিয়ে ঘোরে।
আরও পড়ুন: বিশ্বজুড়ে ভাইরাল এক পেঙ্গুইনের ‘একাকী যাত্রার’ ভিডিও, প্রকৃত গল্প কী?
তবে সম্প্রতি পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করেছে। অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া নতুন ভিডিওতে দেখা যায়, পাঞ্চ অন্য এক বানরের পিঠে চড়ছে, পরিচর্যা পাচ্ছে, বড়দের সঙ্গে বসছে, এমনকি আলিঙ্গনও পাচ্ছে– যা ইঙ্গিত দেয় যে সে ধীরে ধীরে বন্ধুত্ব করতে শিখছে।
ইচিকাওয়া সিটি সরকারের চিড়িয়াখানা ও উদ্ভিদ উদ্যান বিভাগের প্রধান তাকাশি ইয়াসুনাগা ইমেইলে জানিয়েছেন, প্রথমদিকে অন্য বানরদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিলে ‘পাঞ্চ’ কিছুটা ভীত ছিল। তবে এখন সে ধীরে ধীরে মানিয়ে নিচ্ছে।
ইয়াসুনাগা জানান, পাঞ্চের মা বর্তমানে অন্য বানরদের সঙ্গেই ‘মাঙ্কি মাউন্টেন’-এ রয়েছে। বিভিন্ন কারণে জাপানি ম্যাকাক বানরদের মধ্যে শাবক ত্যাগ করার ঘটনা অস্বাভাবিক নয়। ‘পাঞ্চ’ ছিল তার মায়ের প্রথম সন্তান।
তবে এখন পাঞ্চের মধ্যে ‘সক্রিয় ও নির্ভীক ব্যক্তিত্ব’ গড়ে উঠেছে এবং সে নিজ থেকেই অন্য বানরদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছে। সে এখন ওই চিড়িয়াখানার সবচেয়ে বড় আকর্ষণ।
প্রতিবেদন অনুসারে, গত সপ্তাহান্তে প্রায় আট হাজার মানুষ চিড়িয়াখানাটি পরিদর্শন করেছেন, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি।
সূত্র: নিউইয়র্ক টাইমস
]]>
১ সপ্তাহে আগে
৪







Bengali (BD) ·
English (US) ·