বুধবার (১৯ মার্চ) বিকেলে ফরিদপুর শহরের অম্বিকা ময়দানে জেলা যুবদলের আয়োজনে বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার রোগমুক্তির কামনায় ইফতার ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন শামা ওবায়েদ।
তিনি বলেন, ‘হাসিনা পালিয়ে গেছেন কিন্তু ফ্যাসিবাদের পতনের পরও আমাদের চারপাশে এর দোসররা ঘোরাফেরা করছেন। আমাদের নেতাকর্মীদের সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। যারা গত ১৫ বছর আন্দোলন সংগ্রামে ছিলেন না, হাসিনার পতনের পরে তাদের চেহারা আস্তে আস্তে দেখা যাচ্ছে। যারা ১৫ বছর ছিল না তাদের ঘাড়ের ওপর সওয়ার হয়ে আওয়ামী লীগের দোসররা আবার বিএনপিতে ঢুকে একটি অস্থিতিশীল অবস্থা সৃষ্টি করছে। সেখান থেকে আমাদের সাবধান থাকতে হবে।’
শামা ওবায়েদ বলেন, ‘এখনো দেশে নারীরা নিরাপদ নয়। বিভিন্ন স্থানে খুন, নির্যাতন চলছে, কারণ আইনের শাসন নাই। চুরি, ডাকতি হচ্ছে, আমাদের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কিছু করতে পারছে না। সুতরাং আমরা মনে করি এখনো গভীর ষড়যন্ত্র চলছে। এটা থেকে যদি উত্তরণ করতে হয়, যা সংস্কার প্রয়োজন তা করে যত দ্রুত সম্ভব একটি সুষ্ঠু ভোটের ব্যবস্থা করতে হবে।’
আরও পড়ুন: হাসপাতালে খালেদা জিয়াকে বিষ প্রয়োগ করা হয়েছিল: শামা ওবায়েদ
তিনি আরও বলেন, ‘১৫ বছর পর আমাদের সুযোগ হয়েছে একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ার। নতুন বাংলাদেশ গড়তে হলে সব রাজনৈতিক মতাদর্শ ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। আমরা যদি ঐক্যবদ্ধ না থাকি একটি গণতান্ত্রিক পরিবেশ সৃষ্টি করার জন্য, ভোটাধিকার সৃষ্টি করার জন্য যদি আমরা ঐক্যবদ্ধ না থাকি তাহলে দেশি এবং বিদেশি ষড়যন্ত্র আরও ঘনীভূত হবে।’
বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক বলেন, ‘আজ বাংলাদেশে আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার অবনতি হচ্ছে, সেটা আরও অবনতি হওয়ার শঙ্কা আমি প্রকাশ করছি।’
আরও পড়ুন: নারী অধিকার এখনও উপেক্ষিত: শামা ওবায়েদ
তিনি আরও বলেন, ‘হাসিনা বাংলাদেশের প্রত্যেকটি গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান, বিচার ব্যবস্থা, ভোটাধিকার ধ্বংস করে দিয়ে গেছে। প্রত্যেকটি প্রতিষ্ঠানকে আমরা স্বচ্ছ, দুর্নীতিমুক্ত এবং দায়িত্বশীলতার মধ্যে এনে ঢেলে সাজাবো। যেখানে আইনের শাসন কায়েম হবে, যেখানে নিরপরাধ ব্যক্তি জেলে যাবেন না।’
ফরিদপুর জেলা যুবদলের সভাপতি রাজিব হোসেনের সভাপতিত্বে ইফতার ও দোয়া মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন: জেলা বিএনপির আহবায়ক অ্যাডভোকেট মোদাররেছ আলী ইছা, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আফজাল হোসেন খান পলাশ, সৈয়দ জুলফিকার হোসেন জুয়েল, ফজলুল হক টুলু, যুবদলের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর হোসেনসহ বিএনপি, যুবদল ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।