২০২৫ সালের জুনে ব্যাংকের বাইরে মুদ্রার পরিমাণ ছিল ২ লাখ ৯৬ হাজার কোটি টাকা। অক্টোবরের দিকে এটি কমে দাঁড়ায় ২ লাখ ৭০ হাজার কোটিতে। অর্থাৎ মানুষ বালিশের নিচে রাখা টাকা এখন ব্যাংকে ফেরত আনছে।
পুঁজিবাজারের অস্থিরতায় আর ট্রেজারি বন্ডে মুনাফার হার আগের তুলনায় কমেছে। ফলে মূল্যস্ফীতির চড়া দাম দিতে গিয়ে ব্যাংকের বেশি সুদের প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছেন মানুষ। বাংলাদেশ ব্যাংকের মতে, যদিও কিছু ব্যাংকের প্রতি আমানতকারীদের আস্থা কমেছে, সামগ্রিকভাবে ব্যাংক খাতের ওপর মানুষের আস্থা এখনও টিকে আছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, বিগত কোয়ার্টারের সঙ্গে পরবর্তী কোয়ার্টার তুলনা করলে দেখা যাচ্ছে, ব্যাংকে আমানত ১০ শতাংশ বেড়েছে। কিছু ব্যাংকের প্রতি অনাস্থা সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু মোট ব্যাংকিং সেক্টরের প্রতি মানুষের অনাস্থা এসেছে-এটা আমি স্বীকার করি না।
আরও পড়ুন: ৪৩ পণ্য ও সেবা রফতানি প্রণোদনার মেয়াদ বাড়ল
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরের শেষে ব্যাংকে উদ্বৃত্ত ছিল ২ লাখ ১৫ হাজার কোটি টাকা। ২০২৫ সালের জুনে তা বেড়ে ২ লাখ ৬৫ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছায়। অক্টোবর থেকে তিন মাসে ব্যাংকে আমানত বেড়েছে ৩৭ হাজার কোটি টাকা।
তবে এই 'টাকার পাহাড়ে' খুশি হতে পারছে না ব্যাংকগুলো। কারণ শিল্প বা উৎপাদনশীলের মতো উপযুক্ত বিনিয়োগ খাতের অভাবে বিপুল পরিমাণ এই টাকার প্রবাহ ও গতিশীলতা নেই। ফলে অলস তারল্যের ফাঁদে পড়তে যাচ্ছে ব্যাংকখাত।
অর্থনীতিবিদ ড. মাহফুজ কবির বলেন, যদি লিকুইডিটি ব্যবহার করতে না পারি তাহলে টাকাগুলো ব্যাংকে শুধুই পড়ে থাকবে। ফলে আমানতকারীদের সুদ দিতে গিয়ে ব্যাংকের ওপর চাপ বাড়বে। উচ্চ তারল্য ব্যাংকের জন্য বিপদ ডেকে আনতে পারে।
তবে মুদ্রানীতি যদি নমনীয় না হয় এবং বিনিয়োগের চাহিদা না বাড়ে, তাহলে অর্থনীতি ও ব্যাংক দুটোই সমস্যার মুখে পড়বে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, এখন বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাত ক্রিটিক্যাল পর্যায়ে রয়েছে এবং এটি অশনি সংকেত হিসেবে দেখা উচিত।
বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, অর্থবছরের শুরু থেকে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি সাত শতাংশের নিচে রয়েছে। জুলাইয়ে ঋণ প্রবৃদ্ধি ছিল ৬.৫২ শতাংশ, আগস্টে ৬.৩৫ শতাংশ, সেপ্টেম্বর ৬.২৯ শতাংশ, অক্টোবর ৬.২৩ শতাংশ এবং নভেম্বর ৬.৫৮ শতাংশ।
]]>
২ দিন আগে
২








Bengali (BD) ·
English (US) ·