বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেল তিনটার দিকে সরাইল থানা পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে। ঘটনা পর থেকে সীমার স্বামী রঞ্জন বিশ্বাস পলাতক রয়েছে।
পুলিশ ও সীমার স্বজনেরা জানান, আট বছর আগে হবিগঞ্জ জেলার রানু শীলের মেয়েকে বিয়ে করেন শাহবাজপুরের রঞ্জন বিশ্বাস। ৮ বছরের সংসার জীবনে তাদের পরিবারে ৭ বছরের একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার সকালে তার স্বামী রঞ্জন বিশ্বাস প্রতিদিনকার ন্যায় কাজে বের হয়ে যায়। শাশুড়ি শোনতি রানী বিশ্বাসও অন্যের বাড়িতে কাজ করতে বের হয়ে যায়। এর মধ্যে আগুনে পোড়া গন্ধ পেয়ে প্রতিবেশীরা সীমার বসতঘরের দিকে এগিয়ে যান। এসময় তারা সাড়া শব্দ না পেয়ে সিমার ঘরে প্রবেশ করে দেখতে পান নিথর দেহ বাথরুমে পরে আছে। শরীর থেকে আগুনের পোড়া অবস্থায় ধোঁয়া বের হচ্ছে।
পরে তারা পানিদিয়ে আগুন নেভায়। তবে তার আগেই সিমা মারা যান। পরে বিষয়টি জানিয়ে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেয়। পরে পুলিশ এসে আগুনে পোড়া অবস্থায় ওই গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করে।
তবে প্রতিবেশী, স্বজন ও পুলিশ কর্তারা তাৎক্ষণিকভাবে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানাতে পারেননি।
আরও পড়ুন: প্রেমের বিয়ের এক বছরের মাথায় গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু, স্বামী আটক
পুলিশ বলছে, ঘটনাটি হত্যা না আত্মহত্যা এখনো স্পষ্ট নয়। আমরা ঘটনাটি তদন্ত করছি। নিহতের মরদেহের সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুত করে লাশ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
নিহতের কাকাতো ভাই বিজয় দাস বলেন, 'ঘটনার খবর পেয়ে আমরা এসেছি। আমরা এই ঘটনার প্রকৃত রহস্য উম্মোচন করে দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।
স্থানীয় বাসিন্দা জুয়েল মিয়া জানান, দিন দুপুরে এমন ঘটনা মেনে নেয়া যায় না। দ্রুত ঘটনাটি তদন্ত করে ঘটনার সাথে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।
তিনি আরো বলেন, বিষয়টিকে পরিবারের অনেকেই আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেয়ার চেষ্টা করছেন। কিন্তু অবস্থা দৃষ্টে ঘটনাটি ভিন্ন বলে মনে হচ্ছে। এছাড়া তার স্বামী পলাতক থাকার কারণে রহস্যের দানা আরো বেশি ঘুরপাক খাচ্ছে। সঠিক তদন্ত হলে প্রকৃত রহস্য বের হয়ে আসবে।
আরও পড়ুন: গোপালগঞ্জে গৃহবধূকে কুপিয়ে হত্যা, মাকে বাঁচাতে গিয়ে ছেলেও আহত
শাহবাজপুর ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ড মেম্বার আব্দুল মালেক বলেন, আমরা বাড়িতে এসে খোঁজখবর নিয়েছি কারো মধ্যে তেমন বিরোধের খবর পাইনি। তবে ঘটনাটি রহস্যজনক মনে হচ্ছে। তার স্বামীকে আটক করা হলে প্রকৃত রহস্য বের হয়ে আসবে। পুলিশ নিশ্চয়ই দ্রুতই ব্যাপারে পদক্ষেপ নেবেন।
সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) জহিরুল ইসলাম তালুকদার জানান, ঘটনাটি হত্যা না আত্মহত্যা এখন আমরা স্পষ্ট কিছু বলতে পারছি না। এ বিষয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তের পর এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে। ঘটনার পর থেকে নিহত সীমা রানী দাসের স্বামী রঞ্জন বিশ্বাস পলাতক রয়েছেন। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে প্রকৃত ঘটনা বের হয়ে আসবে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
]]>
২ দিন আগে
১








Bengali (BD) ·
English (US) ·