জবাবে ইসরাইলি সেনা সদস্যদের লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে হিজবুল্লাহ। এদিকে লেবাননের উত্তপ্ত পরিস্থিতির জেরে নিজ নাগরিকদের দ্রুত দেশটি ত্যাগের নির্দেশ দিয়েছে বৈরুতের মার্কিন দূতাবাস।
লেবানন ও ইসরাইলের মধ্যে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি চলছে। এর মাঝেই লেবাননে হামলা অব্যাহত রেখেছে ইসরাইলি বাহিনী। গত বুধবার (২২ এপ্রিল) দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে ভয়াবহ ড্রোন হামলা চালায় নেতানিয়াহুর সেনারা।
এতে একটি গাড়িতে থাকা দুই বেসামরিক নাগরিক নিহত হন। ঘটনার সংবাদ সংগ্রহ করতে যাওয়া দুই সাংবাদিকও হামলার শিকার হন। এর মধ্যে আল-আখবার পত্রিকার নারী সাংবাদিক আমাল খলিল নিহত হন। অপর এক সাংবাদিক গুরুতর আহত হন।
লেবাননের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা এনএনএ জানিয়েছে, পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় আত-তাইরি শহরে এই হামলার শিকার হন আমাল। গত মার্চ মাস থেকে এ পর্যন্ত লেবাননে ইসরাইলি হামলায় নিহত চতুর্থ গণমাধ্যমকর্মী তিনি।
আরও পড়ুন: লেবাননে যিশুর মূর্তি ভাঙায় ইসরাইলি সেনাদের যে শাস্তি হলো
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া আমাল খলিলকে উদ্ধারের চেষ্টার সময় আবারও হামলা চালানো হয়। এতে জয়নাব ফারাজ নামে আরেকজন সাংবাদিক গুরুতর আহত হন। লেবানন রেড ক্রসের কর্মীরা চরম প্রতিকূলতা ও গুলিবর্ষণের মধ্যে জয়নাবকে উদ্ধার করে তিবনিন হাসপাতালে ভর্তি করেন।
লেবাননের তথ্যমন্ত্রী পল মোরকোস সাংবাদিকদের ওপর ইসরাইলি হামলার নিন্দা জানিয়েছেন। মোরকোস এক এক্স পোস্টে বলেন, ‘আমরা এই হামলার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি এবং অবিলম্বে সাংবাদিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা ও গণমাধ্যমের কাজের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন বলে মনে করি।’
ইসরাইলি হামলার জবাবে বুধবারই পাল্টা আঘাত হেনেছে হিজবুল্লাহ। গোষ্ঠীটি জানিয়েছে, লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলের কানতারা এলাকায় ইসরাইলি সেনা সদস্যদের লক্ষ্য করে তারা ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এছাড়া ইসরাইলের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা লক্ষ্য করে ছোড়া হয়েছে রকেট। তবে এসব হামলায় হতাহতের কোন খবর পাওয়া যায়নি।
এদিকে লেবাননে বাড়তে থাকা উত্তজনার মুখে নিজ দেশের নাগরিকদের জন্য সতর্কতা জারি করেছে বৈরুতের মার্কিন দূতাবাস। বুধবার এক নিরাপত্তা বার্তায় নাগরিকদের যত দ্রুত সম্ভব বাণিজ্যিক ফ্লাইটে লেবানন ত্যাগের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
এদিকে গত ১৮ এপ্রিল লেবাননে হামলায় আহত হওয়া দুই ফরাসি শান্তিরক্ষী বুধবার ফ্রান্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। শান্তিরক্ষীদের ওপর এই আক্রমণকে অগ্রহণযোগ্য বলে নিন্দা জানিয়েছে প্যারিস।
আরও পড়ুন: যুদ্ধবিরতি কার্যকরের পরও লেবাননে ইসরাইলের হামলা, ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানে সামরিক আগ্রাসন শুরু করে। এতে ওইদিন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতা নিহত হন। ইরানের প্রতি সমর্থন জানিয়ে ২ মার্চ ইসরাইলের বিরুদ্ধে হামলা শুরু করে হিজবুল্লাহ। অন্যদিকে বিমান হামলার পাশাপাশি লেবাননে স্থল অভিযান শুরু করে ইসরাইল।
লেবাননের কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, এই সংঘাতে এখন পর্যন্ত ২ হাজার ২৯০ জনের বেশি নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে ১৭৭ জন শিশু এবং ১০০ জন স্বাস্থ্যকর্মী রয়েছেন। এছাড়া ১০ লাখেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। অন্যদিকে ইসরাইলের তথ্যমতে, একই সময়ে হিজবুল্লাহর হামলায় ১৩ জন ইসরাইলি সেনা এবং দুজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন।
ইরানের চাপে এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় সম্প্রতি ইসরাইল ও লেবাননের মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। এর মধ্যদিয়ে ছয় সপ্তাহের তীব্র সংঘর্ষ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়। তার আগে দক্ষিণ লেবাননের বেশ কিছু এলাকা দখলে নেয় ইসরাইলি বাহিনী।
যুদ্ধবিরতির পরও উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ করছে। সীমান্তে ইসরাইলি নজরদারি আর হামলার আশঙ্কায় বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলের বাস্তুচ্যুত বাসিন্দারা ঘরে ফিরতে পারছেন না।
আরও পড়ুন: গাজার মতো লেবাননেও ‘ইয়েলো লাইন’ স্থাপন করল ইসরাইল
ইসরাইল তাদের ইয়েলো লাইনের কাছে কাউকে ঘেঁষতে দিচ্ছে না। ঘরে ফিরতে চাওয়া বাসিন্দারা বলছেন, আকাশজুড়ে ড্রোনের বিকট শব্দ আর নতুন করে হামলার আশঙ্কা তাদের প্রতিনিয়ত তাড়া করে ফিরছে।
লেবানন পরিস্থিতি নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে জাতিসংঘের মুখপাত্র জানিয়েছেন, এই সংঘাতের কোনো সামরিক সমাধান নেই। সংস্থাটির মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের পক্ষ থেকে তিনি বলেন, কেবল কূটনীতিই পারে এই অঞ্চলের দীর্ঘমেয়াদী শান্তি ফিরিয়ে আনতে।
]]>
১ সপ্তাহে আগে
২








Bengali (BD) ·
English (US) ·