বোম্বাই মরিচে ভাগ্যবদল পিরোজপুরের হাজারো পরিবারের, রফতানি হচ্ছে চীন-জাপান-থাইল্যান্ডে

১ ঘন্টা আগে
বোম্বাই মরিচ চাষ করে পিরোজপুরের নেছারাবাদ ও নাজিরপুর উপজেলার কয়েক হাজার পরিবার স্বাবলম্বী হয়েছেন। এই দুই উপজেলায় চাষ হওয়া ঘৃত্তকুমারী নামের এক জাতের বোম্বাই মরিচের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে চীন ও জাপানের মতো দেশে। তাই এখন শুধু দেশের ভেতরেই নয়, দেশের গণ্ডি পেরিয়ে এই মরিচ যাচ্ছে বিদেশেও। ফলে মরিচ রফতানি করে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা আয় করছেন ব্যবসায়ীরা।

জেলার প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই পরিবারের চাহিদা মেটাতে বাড়ির আঙিনায় বোম্বাই মরিচ গাছ রোপণ করা এখন প্রচলিত রীতি হয়ে দাঁড়িয়েছে। নেছারাবাদ ও নাজিরপুর উপজেলার গ্রামগুলোও এর ব্যতিক্রম নয়। এসব এলাকায় আগে পারিবারিক চাহিদা পূরণ থেকেই শুরু হয়, পরে তা ধীরে ধীরে বাণিজ্যিক চাষে রূপ নেয়।

 

এরপর ঘৃত্তকুমারী নামে এক জাতের মরিচের ভালো ফলন শুরু হলে এতে কৃষকদের আগ্রহ বাড়ে। সুন্দর ঘ্রাণ ও প্রচুর ঝাল থাকায় বাজারে এর চাহিদাও দ্রুত বৃদ্ধি পায়। মৌসুমে একটি মরিচ ২ থেকে ৮ টাকায় বিক্রি হয়। ফলে নেছারাবাদের আটঘর, কুড়িয়ানা, মাহমুদকাঠি, কামারকাঠি এবং নাজিরপুরের বেলুয়া, মুগারঝোড়, বৈঠাকাটা, বিলডুমুরিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপকভাবে এ মরিচের চাষ শুরু হয়।

 

বিভিন্ন জেলায় বিক্রির পাশাপাশি ২০১১-২০১২ সালে প্রথম এই এলাকা থেকে জাপানে বোম্বাই মরিচ রফতানি করা হয়। এরপর থেকে নিয়মিতভাবে জাপানে মরিচ রফতানি হচ্ছে এবং এতে ব্যবসায়ীরা বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা আয় করছেন।

 

নেছারাবাদ উপজেলার মাহমুদকাঠি গ্রামের মরিচ চাষি সিরাজুল ইসলাম বলেন, ঘৃত্তকুমারী জাতের এই মরিচ আমাদের এলাকায় ভালো ফলন দেয়। সুন্দর ঘ্রাণ ও বেশি ঝালের কারণে বাজারে এর চাহিদা ভালো। মৌসুমে এটি খুচরা ৩ থেকে ১০ টাকা এবং পাইকারি ২ থেকে ৩ টাকায় বিক্রি হয়।

 

আরও পড়ুন: বৈরী আবহাওয়ায় মরিচ চাষে আশার আলো দেখাচ্ছে ‘মালচিং’ পদ্ধতি

 

তিনি আরও বলেন, একটি গাছে বছরে ৩০০ থেকে ১০০০ পর্যন্ত মরিচ হয় এবং একবার লাগালে দুই থেকে তিন বছর ফল পাওয়া যায়। তেমন বেশি পরিচর্যাও লাগে না, তাই দিন দিন চাষে আগ্রহ বাড়ছে।

 

নেছারাবাদের আটঘর কুড়িয়ানা এলাকার মরিচ ব্যবসায়ী দেবাশীষ বলেন, আমরা চাষিদের কাছ থেকে মরিচ কিনে আকারভেদে আলাদা করি। এরপর তা দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হয়, বিশেষ করে ঢাকার কাওরান বাজারে। সেখান থেকেই মূলত চীন, জাপান, থাইল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশে রফতানি হয় বলে আমরা শুনেছি। লাভজনক হওয়ায় চাষিরা এখন এই মরিচের দিকে ঝুঁকছেন।

 

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক সৌমিত্র সরকার বলেন, বোম্বাই মরিচ একটি লাভজনক ফসল হওয়ায় কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে। একটি গাছ ৭ থেকে ৮ মাস ফল দেয় এবং এক গাছে ৪০০ থেকে ১০০০ পর্যন্ত ফল পাওয়া যায়। উৎপাদন বাড়াতে কৃষকদের উৎসাহ দেয়া হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতাও করা হচ্ছে।

 

বর্তমানে পিরোজপুর থেকে বছরে প্রায় ৩০০ মেট্রিক টন বোম্বাই মরিচ চীন, জাপান ও থাইল্যান্ডে রফতানি হচ্ছে, যা থেকে আয় হচ্ছে কয়েক কোটি টাকা।

]]>
সম্পূর্ণ পড়ুন