দুপুরে ৩০-৪০ জন ফুটবলার একত্র হয়ে বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল বরাবর একটি চিঠি দেন, যা গ্রহণ করেন সাধারণ সম্পাদক ইমরান হোসেন তুষার। চিঠিতে তারা ‘গভীর উদ্বেগ’ প্রকাশ করে জানান, বর্তমান সাফ কোটা নীতি দেশীয় ফুটবলারদের বিকাশে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ফুটবলারদের ভাষ্য, লিগে স্থানীয় খেলোয়াড়দের পর্যাপ্ত সুযোগ না থাকলে দীর্ঘমেয়াদে জাতীয় দলের পারফরম্যান্সেও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। তাই এই নীতির পরিবর্তন জরুরি বলে মনে করছেন তারা।
বাফুফে ভবনের সামনে নিজেদের দাবির পক্ষে গণমাধ্যমে কথা বলছেন ফুটবলাররা। ছবি: সংগৃহীতবর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, একটি দলে সাফ অঞ্চলের পাঁচজন খেলোয়াড় স্থানীয় হিসেবে খেলতে পারেন, পাশাপাশি তিনজন বিদেশি খেলানো বাধ্যতামূলক। এতে একাদশে স্থানীয় ফুটবলারের সংখ্যা কমে যাচ্ছে বলে অভিযোগ খেলোয়াড়দের।
জাতীয় দল ও আবাহনী লিমিটেড ঢাকার ফুটবলার মোহাম্মদ ইব্রাহিম বলেন, ‘এক দলে যদি সাফের পাঁচজন ও বিদেশি তিনজন থাকে, তাহলে স্থানীয় খেলোয়াড়দের জন্য জায়গা খুব সীমিত হয়ে যায়। এজন্যই আমরা এই কোটা বাতিলের দাবি জানিয়েছি।’
একই সুর মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের ডিফেন্ডার রহমত মিয়ার কণ্ঠেও। তিনি বলেন, ‘সাফের খেলোয়াড়দের স্থানীয় হিসেবে খেলালে আমাদের নিজেদের খেলোয়াড়দের সুযোগ কমে যায়। লিগটাই তো জাতীয় দলের জন্য খেলোয়াড় তৈরির জায়গা, সেখানে যদি আমরা না খেলি, তাহলে ভবিষ্যতে জাতীয় দলের জন্য ফুটবলার গড়ে উঠবে কীভাবে, পাইপলাইনও তৈরি হবে কীভাবে?’
এই উদ্যোগে দেশের ঐতিহ্যবাহী দুই ক্লাব আবাহনী ও মোহামেডানের ফুটবলারদের অংশগ্রহণ ছিল উল্লেখযোগ্য। যদিও এই দুই ক্লাবে বর্তমানে সাফ অঞ্চলের কোনো খেলোয়াড় নেই, তবুও তারা সমষ্টিগতভাবে দাবির পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।
আরও পড়ুন: ভুটানের ক্লাবে যোগ দিলেন তারিক কাজী
অন্যদিকে, লিগে কিছু ক্লাব সাফ খেলোয়াড়দের ওপর নির্ভর করে সাফল্য পাচ্ছে—যেমন ব্রাদার্স ইউনিয়ন। তাদের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স এই বিতর্ককে আরও উসকে দিয়েছে। ফুটবল সংশ্লিষ্টদের কেউ কেউ আবার এই আন্দোলনের পেছনে ভিন্ন উদ্দেশ্য থাকার কথাও বলছেন।
ফুটবলারদের ৬ দফা দাবি
ফুটবলার কল্যাণ সমিতির ব্যানারে দেওয়া দাবিগুলো হলো—
১. সাউথ এশিয়ান (সাফ) কোটা সম্পূর্ণ বাতিল
২. দেশীয় খেলোয়াড়দের জন্য বেশি খেলার সুযোগ নিশ্চিত করা
৩. দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনায় স্থানীয় খেলোয়াড় উন্নয়ন জোরদার
৪. লিগে দলের সংখ্যা বৃদ্ধি
৫. খেলোয়াড়দের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ফেডারেশনের ভূমিকা
৬. বিদেশি খেলোয়াড়ের কোটা কমানো
চিঠিতে সমন্বয়কারী হিসেবে স্বাক্ষর করেন আবুল হোসেন। এছাড়া খেলোয়াড়দের পক্ষে স্বাক্ষর করেন আহসান হাবিব, আলমগীর করিব রানা, ইব্রাহিম ও মেহেদী।
দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে ফুটবল বিনিময় ও প্রতিযোগিতা বাড়াতে সাফভুক্ত খেলোয়াড়দের স্থানীয় হিসেবে গণ্য করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ছাড়াও ভারতসহ কয়েকটি দেশ এই নীতি অনুসরণ করছে। তবে বাংলাদেশের ফুটবলারদের দাবি—এই নীতির সুবিধা অন্য দেশগুলো পেলেও বাংলাদেশি ফুটবলাররা সমান সুযোগ পাচ্ছেন না।
আরও পড়ুন: অপরাজিত থেকেই ফেডারেশন কাপের নকআউটে ব্রাদার্স ইউনিয়ন
ফুটবলাররা তাদের দাবিকে ‘বাংলাদেশ ফুটবলের দীর্ঘমেয়াদী স্বার্থে জরুরি’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এখন দেখার বিষয়, বাফুফে ও লিগ কমিটি এই দাবির প্রেক্ষিতে কী সিদ্ধান্ত নেয় এবং দেশের ঘরোয়া ফুটবলের কাঠামোয় কোনো পরিবর্তন আসে কিনা।
]]>
১ সপ্তাহে আগে
২








Bengali (BD) ·
English (US) ·