ইউরোপের পাঠ চুকিয়েছেন বছর তিনেক আগেই— ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, রিয়াল মাদ্রিদ, জুভেন্টাস অধ্যায় শেষ করে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো এখন খেলছেন সৌদি আরবের ক্লাব আল নাসরে। সেই ক্লাবের একাডেমিতেই খেলছেন তার ছেলে রোনালদো জুনিয়র।
ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো তার ক্যারিয়ারে অসংখ্য ট্রফি ও ব্যক্তিগত সম্মাননা জিতেছেন। তবে এবার তিনি নিজের ছেলে ক্রিশ্চিয়ানো জুনিয়রের সঙ্গে একই দলে খেলে এক নতুন ও ঐতিহাসিক অধ্যায় রচনার সম্ভাবনার সামনে দাঁড়িয়ে আছেন।
সৌদি সংবাদমাধ্যম আল উইয়ামসহ আরও কয়েকটি সূত্র জানিয়েছে, সৌদি প্রো লিগের শীর্ষ ক্লাব আল নাসর আগামী মৌসুমে ক্রিশ্চিয়ানো জুনিয়রের বয়স ১৬ বছর পূর্ণ হলে তাকে ধীরে ধীরে প্রথম দলে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা করছে। শুরুতে তাকে অনুশীলন স্কোয়াডে রাখা হতে পারে, এরপর পারফরম্যান্স ও অগ্রগতির ভিত্তিতে মূল দলে খেলার সুযোগও দেওয়া হতে পারে।
যদিও এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি, তবুও বাবা-ছেলে একসঙ্গে একই দলে খেলার এই সম্ভাবনাটি ফুটবল দুনিয়ায় বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এটি অস্বাভাবিক হলেও একেবারে নতুন কিছু নয়— এর আগেও পেশাদার ফুটবলে একাধিক বাবা-ছেলের জুটি একসঙ্গে মাঠে নামার নজির রয়েছে।
আরও পড়ুন: নতুন করে আরেক দফায় বিশ্বকাপের টিকিট বিক্রি শুরু
ফুটবল ইতিহাসে বাবা-ছেলের একসঙ্গে খেলার সবচেয়ে স্মরণীয় উদাহরণগুলোর মধ্যে অন্যতম হলেন চেলসি ও বার্সেলোনার সাবেক ফরোয়ার্ড এইদুর গুডইয়োনসেন। ১৯৯৬ সালে আইসল্যান্ড জাতীয় দলে অভিষেকের মাধ্যমে তিনি ফুটবল দুনিয়ায় এক অনন্য অধ্যায়ের সূচনা করেন।
ক্রিস্টিয়ানোর রোনালদোর ছেলে ক্রিস্টিয়ানো জুনিয়র। ছবি: এক্স
সবচেয়ে অবিশ্বাস্য মুহূর্তটি আসে সেই অভিষেক ম্যাচেই। এস্তোনিয়ার বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয়ে ১৭ বছর বয়সী এইদুর মাঠে নামেন নিজের ৩৪ বছর বয়সী বাবা আর্নর গুডইয়োনসেনের বদলি হিসেবে। এই বিরল দৃশ্যটি ফুটবল ইতিহাসে একটি ব্যতিক্রমী ও আবেগঘন মুহূর্ত হিসেবে আজও স্মরণীয় হয়ে আছে।
ফুটবল ইতিহাসে বাবা-ছেলের একসঙ্গে মাঠে নামার আরেকটি স্মরণীয় উদাহরণ হলেন ব্রাজিলের কিংবদন্তি রিভালদো এবং তার ছেলে রিভালদিনহো।
২০১৩ সালের শেষ দিকে, ক্যারিয়ারের একেবারে শেষ পর্যায়ে এসে রিভালদো তার শুরুর দিকের ক্লাব মোগি মিরিমে ফিরে আসেন। এই ক্লাবেই ১৯৯০-এর দশকের শুরুতে তরুণ খেলোয়াড় হিসেবে তার পেশাদার যাত্রা শুরু হয়েছিল। স্বল্পমেয়াদী একটি চুক্তির মাধ্যমে তিনি মূলত অবসরের আগ পর্যন্ত ক্লাবটির সঙ্গে যুক্ত থাকার সিদ্ধান্ত নেন।
সেই সময় ব্রাজিলের সেরি বি-তে খেলতে থাকা মোগি মিরিমে রিভালদো যখন আবার দলে যোগ দেন, তখন তার বয়স চল্লিশের ঘরে। স্বাভাবিকভাবেই তিনি তার ছেলে রিভালদিনহোর সঙ্গে একই দলে খেলতে শুরু করেন। ১৯৯৯ সালের ব্যালন ডি’অর বিজয়ী এই অভিজ্ঞ তারকা ২০১৪ সালে প্রথমবারের মতো অবসর নিলেও, পরবর্তীতে ২০১৫ সালের গ্রীষ্মে আবারও মাঠে ফিরে আসেন।
আরও পড়ুন: বিশ্বকাপের বাকি ৫০ দিন: আলোচনায় ৫টি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু
এই প্রত্যাবর্তনের পর এক ম্যাচে বাবা-ছেলের যুগলবন্দী আরও বিশেষ এক ইতিহাস গড়ে। সেই ম্যাচে রিভালদো এবং রিভালদিনহো— দুজনেই গোল করেন, যা ফুটবল ইতিহাসে এক বিরল ও স্মরণীয় মুহূর্ত হিসেবে থেকে যায়। ওই ম্যাচে মোগি মিরিম ৩-১ গোলে মাকায়েকে পরাজিত করে।
সেল্টিক, বার্সেলোনা এবং ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সাবেক কিংবদন্তি স্ট্রাইকার হেনরিক লারসন ২০১৩ সালে ৪১ বছর বয়সে আবার মাঠে ফেরেন। তিনি ফিরে যান তার শৈশবের ক্লাব হগাবোর্গস বিকেতে, মূলত দলের চোট সংকট কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করার জন্য।
সেই সময়েই তৈরি হয় এক আবেগঘন মুহূর্ত— লারসন খেলেন তার মাত্র ১৫ বছর বয়সী ছেলে জর্ডান লারসনের সঙ্গে একই দলে। যদিও লারসন সিনিয়র ক্লাবটির হয়ে মাত্র একটি ম্যাচ খেলেছিলেন, কাকতালীয়ভাবে সেই ম্যাচেই তিনি ছেলের সঙ্গে জুটি বাঁধেন। এরপর তিনি অবসর নিয়ে কোচিং ক্যারিয়ারে মন দেন, ২০১৫ সালে ফিরে যান তার আরেক প্রাক্তন ক্লাব হেলসিং বর্গে।
অন্যদিকে, বাবা-ছেলের জুটি শুধু একসঙ্গে খেলার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি— শিরোপাও জিতেছে এমন নজির রয়েছে। এর অন্যতম উদাহরণ অ্যালেক্সি ইরেমেনকো সিনিয়ার এবং তার ছেলে অ্যালেক্সি ইরেমেনকো জুনিয়ার।
ইরেমেনকো সিনিয়র তার দীর্ঘ ক্যারিয়ারের শেষদিকে খেলেন ফিনল্যান্ডের শীর্ষ ক্লাব হেলসিঙ্কির হয়ে। সেখানে তিনি তার ছেলের সঙ্গে একই দলে খেলেন এবং এই জুটি মিলে ২০০২ ও ২০০৩ সালে টানা দুইবার ভেইকাসলিগা শিরোপা জিতে নেয়।
]]>
১ সপ্তাহে আগে
৪








Bengali (BD) ·
English (US) ·