পৌরানিক যুগ থেকে উদ্যাপিত এই স্নান উৎসব ঘিরে কঠোর নিরাপত্তাসহ পূণ্যার্থীদের সব ধরনের সেবা নিশ্চিত করতে নানা ব্যবস্থা রেখেছে জেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও আয়োজক কমিটি।
বন্দর উপজেলার মুসাপুর ইউনিয়নে ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে তিন কিলোমিটার বিস্তৃত লাঙ্গলবন্দের তীর্থ স্থান। লগ্নের এই দিনে এখানে স্নান করলে পাপ মোচন হয়- এমন বিশ্বাস থেকে প্রতি বছর এই তীর্থ স্থানে সনাতন ধর্মাবলম্বী লাখো পূণ্যার্থীর সমাগম ঘটে। দেশের বিভিন্ন জেলা ছাড়াও ভারত, নেপাল, ভুটান ও শ্রীলঙ্কা থেকে কয়েক লাখ পূণ্যার্থী মহাঅষ্টমীর স্নান উৎসবে অংশ নিয়ে থাকেন। প্রতি বছরের মতো এবারও পূণ্য স্নান ঘিরে ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে ২৪টি ঘাটে স্নানের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
বুধবার বিকেল থেকে রাত দশটা পর্যন্ত তীর্থ স্থান ঘুরে দেখা যায়, ৫টায় স্নানের লগ্ন শুরুর পর থেকেই পাপ মোচন ও পূণ্য লাভের আশায় পূণ্যার্থীদের আগমন শুরু হয়। বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নেমে এলে পূণ্যার্থীদের ঢল নামে। উৎসবমুখর পরিবেশে স্নানে অংশ নিতে শুরু করেন সব বয়সের পূণ্যার্থীরা। মন্ত্র পাঠ, পূজা অর্চনা ও উলু ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে ওঠে সবগুলো স্নান ঘাট।
বিকেলে স্নান উৎসবের তীর্থস্থানের বিভিন্ন স্নানঘাট পরিদর্শন করেন নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক রায়হান কবির, জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সী, স্নান উদযাপন কমিটির উপদেষ্টামন্ডলীর সদস্যবৃন্দ।
আরও পড়ুন: লাঙ্গলবন্দের তীর্থস্থানকে হেরিটেজ করতে সংস্কৃতিমন্ত্রীর উদ্যোগ
পরিদর্শন শেষে স্নান উদ্যাপন কমিটির আহবায়ক ও জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সী বলেন, পূণ্যার্থীদের নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা ও যাতায়াত সুবিধা নিশ্চিত করতে পুরো এলাকাজুড়ে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন সংস্থা। পুরো তীর্থস্থানকে সিসি ক্যামেরার আওতায় এনে এবং ওয়াচটাওয়ারের মাধ্যমে নজরদারি করা হচ্ছে।
নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক রায়হান কবির বলেন, ‘পূণ্যার্থীদের সেবায় অস্থায়ী শৌচাগার, বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা এবং মেডিকেল ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে নিয়োজিত রয়েছেন বিপুলসংখ্যক স্বেচ্ছাসেবক। নদীতে দুর্ঘটনা রোধে নৌপুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারী দল টহলসহ স্নান ঘাটগুলো সার্বক্ষণিক নজরদারি করছে। এছাড়া অতিরিক্ত ভিড় সামাল দিতে বিশেষ ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাও নিয়োজিত রয়েছে। পাশাপাশি জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটগন ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করবেন। কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিকারের সব ধরনের ব্যবস্থা আমাদের রয়েছে।’
স্নান উৎসব ঘিরে রাস্তার দুপাশে বসেছে গ্রামীণ মেলা। মেলায় শত শত স্টলে বিভিন্ন পণ্যের পসরা সাজয়ে বসেছেন দোকানিরা। স্নানের লগ্ন শেষ হবে ২৬ মার্চ বৃহস্পতিবার বিকেল তিনটায়।

৪ সপ্তাহ আগে
৯








Bengali (BD) ·
English (US) ·