রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়াতে বিশ্ববাসীর প্রতি আহ্বান ওজিল ও বিলালের

২ সপ্তাহ আগে
বিশ্ব ফুটবলের এক সময়ের তারকা মেসুত ওজিল আর তুরস্কের প্রেসিডেন্টের ছেলে বিলাল এরদোয়ান বিশ্বের সবচেয়ে বড় আশ্রয় শিবির পরিদর্শন করেছেন। একই সঙ্গে চ্যারিটি ফুটবল ম্যাচ খেললেন রোহিঙ্গাদের সঙ্গে। অংশ নেন ইফতারেও। রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়াতে বিশ্ববাসীকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তারা।

বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সকালে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা আশ্রয় শিবিরে যান মেসুত ওজিল ও বিলাল এরদোয়ান। মানবিক সংহতির বার্তা নিয়ে আশ্রয় শিবিরে পৌঁছান তারা।

 

রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদশর্নের আগে সকালে বিলাল এরদোয়ানের নেতৃত্বে ১১ সদস্যের প্রতিনিধি দলটি কক্সবাজারে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার কার্যালয় পরিদর্শন করেন। সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তা ও রোহিঙ্গা শিবিরে কর্মরত তুরস্কের বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় মিলিত হন।

 

শরণার্থী শিবির পরিদর্শনের আগে সংবাদ সম্মেলনে রোহিঙ্গাদের প্রতি আন্তর্জাতিক সহমর্মিতার আহ্বান জানান বিলাল এরদোয়ান।

 

তিনি বলেন,  ‘২০১৭ সালের রোহিঙ্গা-সংকটের শুরু থেকেই তুরস্ক সরকার রোহিঙ্গাদের পাশে ছিল এবং আছে। আমার মা-বাবাও রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়ান। তাদের জন্মভূমিতে ফিরে যাওয়া নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিকভাবে প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে।’ রোহিঙ্গাদের মানবিক আশ্রয় দেয়ার জন্য বাংলাদেশ সরকার ও জনগণকে ধন্যবাদ জানান তিনি।

 

আরও পড়ুন: রোহিঙ্গা শিবিরে ফুটবল নিয়ে মাতলেন ওজিল, ফেরার পথে দুর্ঘটনার কবলে গাড়িবহর

 

শরণার্থী শিবিরের সরু পথ ধরে শিশু ও নারীদের সঙ্গে কথা বলেন অতিথিরা। খোঁজ নেন তাদের জীবনযাত্রা ও শিক্ষার অবস্থা সম্পর্কে। শিশুদের সঙ্গে ওজিল ছবি তোলেন, কথা বলেন ফুটবল নিয়ে।

 

তারকা ফুটবলার মেসুত ওজিল বলেন, 

বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সংস্কৃতি সম্পর্কে অনেক কিছু ধারণা পেলাম। আমরা তাদের পাশে আছি, আশা করি রোহিঙ্গাদের নানা সংকট নিরসনে সবাই এগিয়ে আসবে।

 

এদিকে বিকেলে মাঠে গড়ায় চ্যারিটি ফুটবল ম্যাচ। বিশ্ব তারকার সঙ্গে একই মাঠে বল ছোঁয়ার সুযোগ, রোহিঙ্গা কিশোরদের জন্য যেন স্বপ্নপূরণ। ওজিলের পাস, করতালি আর উচ্ছ্বাসে মুখর হয়ে ওঠে শরণার্থী শিবিরের মাঠ।

 

দিনের শেষটা কাটে ইফতারের আয়োজনে। ক্যাম্প ১৬- এর রোহিঙ্গা আইয়ুবের বাসায় গিয়ে ইফতার করেন বিলাল এরদোয়ান ও মেসুত ওজিল। আর ইফতারের মাধ্যমে ভাষা আর সীমান্তের ভেদাভেদ ভুলে মানবতার এক অনন্য বার্তা ছড়িয়ে দেন অতিথিরা।

 

আরও পড়ুন: এরদোয়ানের হাত ধরে রাজনীতিতে এলেন ওজিল

 

শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মো. মিজানুর রহমান বলেন, ‘রোহিঙ্গা সংকটের শুরু থেকেই বাংলাদেশ মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে। ২০১৮ সালে তুরস্কের ফার্স্ট লেডি বাংলাদেশ সফর করে রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেন এবং তাদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন। সেই ধারাবাহিকতায় এবার তুরস্কের প্রেসিডেন্টের পুত্র বিলাল এরদোগান এবং জনপ্রিয় জার্মান ফুটবলার মেসুত ওজিল বাংলাদেশ সফর করছেন।’

 

তিনি বলেন, 

তুরস্কে একটি বিশেষ সংস্কৃতি রয়েছে যে রমজানের প্রথম ইফতার সাধারণত পরিবারের সঙ্গে করা হয়। কিন্তু তারা রোহিঙ্গাদের প্রতি সংহতি জানাতে নিজ পরিবারের পরিবর্তে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সঙ্গে ক্যাম্পে বসেই ইফতার করেছেন। এর মাধ্যমে তারা তুরস্কের জনগণসহ সমগ্র বিশ্বের মানুষের কাছে একটি শক্ত বার্তা দিতে চেয়েছেন, রোহিঙ্গারা একা নয়, তারা আমাদেরই পরিবারের সদস্য।

 

কমিশনার মো. মিজানুর রহমান বলেন, ‘গত আট বছর ধরে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে আশ্রিত জীবনযাপন করছেন। তারা নিজ দেশে নিরাপদ প্রত্যাবাসনের অপেক্ষায় রয়েছেন। কিন্তু নানা আর্থিক সংকট ও মানবিক চ্যালেঞ্জের কারণে তাদের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। তাই তারা বিশ্ববাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, রোহিঙ্গা সংকট যেন কেউ ভুলে না যায় এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় যেন তাদের পাশে দাঁড়ায়। একইসঙ্গে তারা বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। কারণ বাংলাদেশ সরকার মানবিক বিবেচনায় গত আট-নয় বছর ধরে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে আসছে। এই মানবিক সহযোগিতার জন্য তারা বাংলাদেশের জনগণ ও সরকারের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।’

]]>
সম্পূর্ণ পড়ুন