রোজার প্রতিদান আল্লাহ তাঁর নিজ হাতে দিবেন। তাই তো হাদিসে কুদসিতে আল্লাহ ঘোষণা করেছেন: “রোজা আমার জন্য; আমিই এর প্রতিদান দিব।” ভাবুন, যখন স্বয়ং আল্লাহ নিজ হাতে পুরস্কার দেওয়ার কথা বলেন তখন সেই সওয়াব কত বিশাল হতে পারে!
রোজাদারদের জন্যই রাইয়্যান
আল্লাহ তাআলা রোজাদারদের জন্য ‘রাইয়্যান’ নামক জান্নাতের দরজা প্রস্তুত রেখেছেন। হযরত সাহল (রাঃ) হতে বর্নিত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণিত তিনি বলেন- “জান্নাতের একটি দরজা আছে; যার নাম হচ্ছে ‘রাইয়্যান’কেয়ামতের দিন এ দরজা দিয়ে শুধু রোজাদারগণ প্রবেশ করবে; অন্য কেউ নয়।
এই বলে ডাকা হবে- রোজাদারগণ কোথায়? তখন রোজাদারগণ উঠে প্রবেশ করবে; অন্য কেউ প্রবেশ করতে পারবে না। তারা প্রবেশ করার পর সে দরজা বন্ধ করে দেয়া হবে। ফলে আর কেউ প্রবেশ করতে পারবে না। ( বুখারি ১৭৬৩)
রোজার ফজিলত
মাহে রমাদান হল আত্মশুদ্ধির এক মহান সুযোগ। এটি আমাদেরকে খারাপ কাজ ও কথাবার্তা থেকে রক্ষা করে। ক্ষুধা-তৃষ্ণা সহ্য করার সঙ্গে সঙ্গে ধৈর্য, সহনশীলতা ও ঈমানও বৃদ্ধি করে। রোজাদারের মুখের গন্ধ আল্লাহর কাছে প্রিয়। প্রতিটি রোজা আল্লাহর নিকট বিশেষ মর্যাদা ও আনন্দ এনে দেয়।
হাদিসে এসেছে; নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, বনি আদমের প্রত্যেকটি আমল তারই; শুধু রোজা ছাড়া। রোজা আমার জন্য; আমিই এর প্রতিদান দিব। রোজা হচ্ছে-ঢালস্বরূপ।
আরও পড়ুন: রমজান তাহাজ্জুদ নামাজ পড়ার সুবর্ণ সুযোগ
যেদিন তোমাদের কেউ রোজা রাখে সে যেন অশ্লীল কথা না বলে, চেঁচামেচি না করে। যদি কেউ তাকে গালি দেয় সে যেন বলে, আমি রোজাদার। ঐ সত্তার শপথ যার হাতে রয়েছে মুহাম্মদের প্রাণ, রোজাদারের মুখের গন্ধ আল্লাহর নিকট মিসকের সুবাসের চেয়ে উত্তম। রোজাদারের জন্য রয়েছে দুইটি খুশি। যখন রোজা ইফতার করে তথা রোজা ভাঙ্গে তখন একবার খুশি হয়। আবার যখন তার রবের সাক্ষাত পাবে তখন একবার খুশি হবে। (সহিহ বুখারি -১৭৭১)
জান্নাত হলো অসংখ্য দরজাবিশিষ্ট অনন্ত সুখের আবাস। جَنّٰتُ عَدۡنٍ یَّدۡخُلُوۡنَہَا وَ مَنۡ صَلَحَ مِنۡ اٰبَآئِہِمۡ وَ اَزۡوَاجِہِمۡ وَ ذُرِّیّٰتِہِمۡ وَ الۡمَلٰٓئِکَۃُ یَدۡخُلُوۡنَ عَلَیۡہِمۡ مِّنۡ کُلِّ بَابٍ অর্থাৎ- জান্নাত চিরস্থায়ী ঠিকানা । সেখানে মুমিন ব্যক্তি একা নয়—তার নেককার পিতা-মাতা, স্বামী-স্ত্রী ও সন্তানরাও তার সঙ্গে থাকবে। আর ফেরেশতারা প্রত্যেক দরজা দিয়ে এসে তাদেরকে সালাম ও সম্মান জানাবে। (সূরা আল-রাদ- আয়াত; ২৩)
وَ سِیۡقَ الَّذِیۡنَ اتَّقَوۡا رَبَّہُمۡ اِلَی الۡجَنَّۃِ زُمَرًا ؕ حَتّٰۤی اِذَا جَآءُوۡہَا وَ فُتِحَتۡ اَبۡوَابُہَا وَ قَالَ لَہُمۡ خَزَنَتُہَا سَلٰمٌ عَلَیۡکُمۡ طِبۡتُمۡ فَادۡخُلُوۡہَا خٰلِدِیۡنَ অর্থাৎ- যারা আল্লাহকে ভয় করে জীবন কাটিয়েছে, তাদেরকে সম্মানের সঙ্গে দলবদ্ধভাবে জান্নাতে নেওয়া হবে। জান্নাতের দরজা তাদের জন্য খুলে দেওয়া হবে এবং ফেরেশতারা সালাম জানিয়ে চিরস্থায়ী সুখের সুসংবাদ দেবে। ( সূরা আল-যুমার- আয়াত; ৭৩)
এক হাদিসে জান্নাতের আটটি দরজার কথা এসেছে। সাহল বিন সাদ (রাঃ) বর্ণিত আছে যে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন, জান্নাতের আটটি দরজা রয়েছে। একটি দরজার নাম হচ্ছে- রাইয়্যান। এ দরজা দিয়ে রোজাদারগণ ছাড়া আর কেউ প্রবেশ করবে না। (সহিহ বুখারি ৩০১৭)
অপর এক হাদিসে; রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: “যে ব্যক্তি সাক্ষ্য দিবে যে, এক আল্লাহ ছাড়া সত্য কোন উপাস্য নেই; তাঁর কোন অংশীদার নেই। আরও সাক্ষ্য দিবে যে, মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর বান্দা ও রাসূল এবং ঈসা (আঃ) আল্লাহর বান্দা, তাঁর রাসূল, তাঁর বাণী যা মরিয়মের প্রতি ঢেলে দিয়েছেন এবং তাঁর প্রেরিত রূহ। আরও সাক্ষ্য দিবে যে, জান্নাত সত্য, জাহান্নাম সত্য- আল্লাহ তাকে তার আমলের ভিত্তিতে জান্নাতের আটটি দরজার যে কোন একটি দরজা দিয়ে প্রবেশ করাবেন। (সহিহ বুখারি ৩১৮০)
মহান আল্লাহ তাআলার অপার অনুগ্রহ যে, তিনি রমজান মাসে একটি নয়; জান্নাতের সবগুলো দরজাখুলে দেন। কেননা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন যে, যখন রমজান মাস প্রবেশ করে তখন জান্নাতের দরজাগুলো খুলে দেয়া হয়; জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করে দেয়া হয় এবং শয়তানগুলোকে শিকলাবদ্ধ করা হয়। (সহিহ বুখারি -৩০৩৫)
কাজেই রাইয়্যানের দরজা শুধু রোজাদারদের জন্য আর আল্লাহর কাছে মূল্যবান হলো অন্তরের নিয়ত ও বিশুদ্ধ আমল। যে ব্যক্তি রোজাকে ঢাল বানায়, সিয়াম সাধনার মাধ্যমে আল্লাহকে সন্তুষ্ট করে তার জন্যই রাইয়্যান।
মহান আল্লাহ তাআলা সবাইকে মাহে রমাদানের সিয়াম পালন করার তাওফিক দান করুন; দয়াময় রবের কাছ থেকে পুরস্কার গ্রহণ করার সৌভাগ্য নসিব করুন; আমিন!

৩ দিন আগে
২






Bengali (BD) ·
English (US) ·