রোজায় মাদারীপুরে ঊর্ধ্বমুখী মৌসুমি ফলের দাম, হতাশ পাইকাররা

২ সপ্তাহ আগে
রমজানে মাদারীপুরে মৌসুমি ফলের চাহিদা বেড়েছে, সেই সঙ্গে ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে দামও। এতে আড়ত থেকে বেশি দামে কিনলেও, আশানুরূপ দামে বিক্রি করতে না পারায় ক্ষুব্ধ পাইকাররা।

ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের কোলঘেষে গড়ে ওঠা মোস্তফাপুর ফলের আড়ত। যশোর, ঝিনাইদহ, ফরিদপুর, কুষ্টিয়া, শরিয়তপুর, গোপালগঞ্জ, বরিশাল, চুয়াডাঙ্গাসহ দেশের বিভিন্ন জেলার পাইকাররা এই আড়তে ফল কিনতে আসেন।

 

শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) ভোরে সরেজমিনে জেলার সবচেয়ে বড় এই পাইকারি ফলের আড়ত ঘুরে দেখা গেছে, আড়তে প্রকারভেদে প্রতিপিস তরমুজ পাইকারি বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ থেকে ৫০০ টাকায়। আনারস ৩৫ থেকে ৫৫ টাকা ও ফুটি ৪০ থেকে ৫৫ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া পেয়ারার, আপেল, খেজুর, আঙুর, মালটা ও কমলার দাম পাইকারিতে ৩০-৬০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।

 

এতে ফল কিনতে এসে হতাশা দেখা দিয়েছে পাইকারদের মধ্যে। তারা অভিযোগ করছেন, আড়তদাররা সিন্ডিকেট করে সব ধরনের ফলের দাম বাড়াচ্ছেন, যার প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারেও।

 

আরও পড়ুন: মাদারীপুরে কদর বেড়েছে মৌসুমি ফলের, দাম কেমন?

 

মো. এলেম নামে এক পাইকার অভিযোগ করে বলেন, আনারসের পিস এক সপ্তাহ আগে ১৮-২৫ টাকা ছিল। এখন একলাফে ৫০ টাকার উপরে উঠে গেছে। বেশি দামে কিনলেও বেশি দামে বিক্রি করতে পারছি না।

 

সামাদ শেখ নামে আরেক পাইকার বলেন, ১৫ বছর ধরে আড়তে এখানে আসি। রমজান আসলেই ফলের দাম বেড়ে যায়। আড়তদাররা বলে, সরবরাহ নেই, তাই দাম বেড়েছে। তবে আমরা দূরদূরান্ত থেকে এসে মহাবিপদে পড়েছি।

 

এদিকে, আড়তদাররা দাবি করছেন, একদিকে উৎপাদন কম, অন্যদিকে সরবরাহে ঘাটতি থাকায় দাম কিছুটা বেড়েছে। মোস্তফাপুর আড়তের আড়তদার জসিম উদ্দিন বলেন, ফল কম আসছে, চাহিদা বেশি, তাই দাম বেড়েছে। এই পরিস্থিতিতে আমাদের কিছুই করার নেই।

 

সালাউদ্দিন মোল্লা নামে আরেক আড়তদার বলেন, রমজানে প্রচুর চাহিদা থাকলেও আমদানি নেই। চাষিরা পর্যাপ্ত ফল দিতে পারছে না। তাই দাম বাড়া অস্বাভাবিক নয়।

 

মাদারীপুরের জেলা প্রশাসক মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, রমজান উপলক্ষে জেলা প্রশাসন ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

]]>
সম্পূর্ণ পড়ুন