বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অপ্রয়োজনীয় উন্নয়নের কারণে লোকসান বাড়ছে। এজন্য যাত্রীর পাশাপাশি পণ্য পরিবহন বাড়ানোর পরামর্শ তাদের। আর বাংলাদেশ রেলওয়ে মহাপরিচালক জানান, দেড় দশকে পণ্য পরিবহনে তেমন নজর দেয়া না হলেও এবার নেয়া হচ্ছে উদ্যোগ।
মৃতপ্রায় রেলকে উজ্জীবিত করতে গত দেড় দশকে খরচ করা হয়েছে দেড় লাখ কোটি টাকা। বেড়েছে রেল রুট, হয়েছে অবকাঠামোত মেগা উন্নয়ন। তবে এসবে কোনো প্রভাব পড়েনি যাত্রীসেবায় কিংবা অর্থনৈতিক উন্নয়নে।
এখনও অনলাইন কিংবা অফলাইনে টিকিটের জন্য হাহাকার লেগেই থাকে। প্রতিদিনই শিডিউল বিপর্যয়ে নাকাল যাত্রীরা। বিপুল বিনিয়োগের পরও কোনো কোনো রুটে কমেছে ট্রেনের গতি।
গত দেড় দশকে বাড়ানোর পরিবর্তে কমেছে ইঞ্জিনের সংখ্যা। স্বাধীনতার সময় রেলবহরে ৪৮৬টি ইঞ্জিন থাকলেও এখন তা কমে হয়েছে ২৬৩টি। ফলে মেয়াদোত্তীর্ণ ঝুঁকিপূর্ণ ইঞ্জিন দিয়েই চলছে যাত্রী পরিবহন। ৬০ শতাংশ রেলকোচ আর ৬৩ শতাংশ লাইনও ঝুকিপূর্ণ। চালকরা বলছেন, প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা, কমছে ট্রেনের গতি।
আরও পড়ুন: পূর্বাঞ্চল /৬০টি অবৈধ লেভেল ক্রসিং যেন মরণফাঁদ!
চালকরা জানান, বেশির ভাগ ইঞ্জিন মেয়াদোর্ত্তীণ। এসব দিয়েই কাজ চালিয়ে নেয়া হচ্ছে। আরেকজন জানান, ময়মনসিংহের বেশ কিছু জায়গায় রেললাইন আছে, যেখানে ২০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে ট্রেন চালাতে হয়।
পনেরো বছর আগে রেলের গড় লোকসান ছিল প্রতিবছর হাজার কোটি টাকা, বিনিয়োগ বাড়ার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়ে লোকসান ঠেকেছে দুই হাজার কোটি টাকায়।
বুয়েটের অধ্যাপক ও রেল বিশেষজ্ঞ ড. হাদিউজ্জামান বলেন, অপ্রয়োজনীয় উন্নয়নে বাড়ছে লোকসান। শুধু যাত্রী নয়, পণ্য পরিবহনে নজর দেয়ার পরামর্শ তার।
ড. হাদিউজ্জামান আরও বলেন,
স্বাধীনতার পরও আমরা দেখেছি বাংলাদেশ রেলে যে নৈতিক শেয়ার যাত্রী এবং পণ্য পরিবহনে প্রায় ৪০ শতাংশ ছিল। সেটা কমতে কমতে ৫ শতাংশে ঠেকেছে। রেলের যদি কিছুটা আয় বাড়াতে হয় প্রথমে তাদের পণ্য পরিবহনে সক্ষমতা বাড়াতে হবে। এটা ছাড়া কোনো বিকল্প আমি দেখছি না।
রেলওয়ে মহাপরিচালক আফজাল হোসেন জানান, পণ্য পরিবহনে নেয়া হচ্ছে উদ্যোগ।
তিনি আরও বলেন,
পণ্য পরিবহনে আমরা পিছিয়ে আছি। পণ্য পরিবহনে আমাদের কিছু ইঞ্জিন লাগবে। কিছু ওয়াগনও লাগবে, মূলত ৪ থেকে ৫ বছর সময় লাগবে এ কাজগুলো করতে।
জানা গেছে, ইঞ্জিন সংকটে চট্টগ্রাম বন্দরে প্রতিদিনই বাড়ছে কন্টেইনার জট।
]]>