রেলের ইঞ্জিন সংকটে বিপর্যয়ের মুখে ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটের কনটেইনার পরিবহন

৩ সপ্তাহ আগে
রেলওয়ের ইঞ্জিন সংকটে বিপর্যয়ের মুখে পড়তে যাচ্ছে ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটের কনটেইনার পরিবহন। প্রতিদিন ৪টি ইঞ্জিনের মাধ্যমে অন্তত ২০০ কনটেইনার পরিবহনের প্রয়োজন হলেও পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ১টি ইঞ্জিন। এতে নানামুখী জটিলতায় পড়ছে আমদানি-রফতানি বাণিজ্য।

৮৭৫ টিইইউএস ধারণক্ষমতার চট্টগ্রাম বন্দরের আইসিডি ইয়ার্ডে বর্তমানে ঢাকা কমলাপুরগামী কনটেইনার রয়েছে এক হাজারেরও বেশি। এছাড়া ইয়ার্ডে জায়গার সংকট হওয়ায় রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন স্থানে এনে রেখেছে আরও অন্তত ২০০ কনটেইনার। মূলত ইঞ্জিন সংকটের কারণে ঢাকায় পাঠানো সম্ভব না হওয়ায় তৈরি হয়েছে এই কনটেইনার জট।

 

কনটেইনার জট এড়াতে পর্যাপ্ত র‌্যাকের পাশাপাশি ৪ থেকে ৫টি ইঞ্জিন প্রয়োজন হলেও বর্তমানে পাওয়া যাচ্ছে মাত্র একটি ইঞ্জিন। এ অবস্থায় ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানোর দাবিতে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলে একের পর এক চিঠি পাঠাচ্ছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ।

 

আরও পড়ুন: চট্টগ্রাম বন্দর: জাহাজ জট কমায় লাখ লাখ ডলার সাশ্রয় ব্যবসায়ীদের

 

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব ওমর ফারুক বলেন, শুধু পরিবহনসংকট ও জটিলতার কারণেই আমদানিকারকরা নির্ধারিত সময়ে কনটেইনার ডেলিভারি নিতে পারছেন না। এ কারণে রেল কর্তৃপক্ষকে বারবার চিঠি দেয়া হচ্ছে।

 

প্রতিদিন ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে অন্তত ২০০ কনটেইনার পরিবহনের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও তা কোনোভাবেই ৫০টির বেশি হচ্ছে না। বন্দরের ইয়ার্ডে কনটেইনার রাখার ধারণক্ষমতা অতিক্রম করায় অন্তত ২০০ কনটেইনার সিজিপিওয়াইসহ উন্মুক্ত স্থানে রাখা হয়েছে। এতে আমদানি ও রফতানি পণ্যের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে এবং আমদানিকারকরা সময়মতো পণ্য বুঝে পাচ্ছেন না। ফলে পুরো প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হচ্ছে।

 

যদিও রেলের মাধ্যমে পণ্য পরিবহন তুলনামূলক সহজ, তবে নানা জটিলতায় তা কার্যকরভাবে সম্ভব হচ্ছে না। একদিকে রেলপথে কনটেইনার ডেলিভারিতে সময় লাগছে ৬ থেকে ৭ দিন। অন্যদিকে সড়কপথে কনটেইনার পরিবহন বাড়ায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে তৈরি হচ্ছে তীব্র যানজট। আবার সময়মতো আমদানি করা কাঁচামাল না পাওয়ায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে শিল্পকারখানায়, পাশাপাশি তৈরি পোশাক রফতানিতেও দেখা দিচ্ছে জটিলতা।

 

বিজিএমইএর পরিচালক রাকিবুল আলম চৌধুরী বলেন, এভাবে ধারাবাহিকভাবে কনটেইনার পরিবহন কমতে থাকলে ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে আমদানি ও রফতানি কার্যক্রম ব্যাপকভাবে কমে যাবে এবং পরিবহন ব্যয়ও বেড়ে যাবে।

 

আরও পড়ুন: রাজনৈতিক স্থিতিশীলতায় গতি ফিরেছে আমদানি-রফতানি বাণিজ্যে

 

এদিকে প্রয়োজনীয় ইঞ্জিনের অভাবে যাত্রীবাহী ট্রেন পরিচালনাতেই হিমশিম খাচ্ছে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে কনটেইনারবাহী ও জ্বালানি তেলবাহী ট্রেন চালানোর অতিরিক্ত চাপ। ফলে চরম বেকায়দায় পড়েছে রেলওয়ের পরিচালন বিভাগ।

 

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের চিফ অপারেটিং সুপারিনটেনডেন্ট মোহাম্মদ সফিকুর রহমান বলেন, কনটেইনারের প্রবাহ যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি হলেও সেই অনুপাতে ইঞ্জিন সরবরাহ বাড়ানো সম্ভব হয়নি।

 

এ অবস্থায় আইসিডিগামী ৫০০ থেকে ৭০০ কনটেইনার বহনকারী আরও কয়েকটি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে প্রবেশের অপেক্ষায় রয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

]]>
সম্পূর্ণ পড়ুন