সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে আগে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানায় জিম্বাবুয়ে। শুরুটা খুব বেশি ভালো করতে না পারলেও শেষটা অবশ্য ভালোই করেছে উইন্ডিজ। রেকর্ড বই তছনছ করে গড়লেন রানের পাহাড়।
১৯ বলেই ফিফটি তুলে নেন হেটমায়ার, যা ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে কোনো ক্রিকেটারের দ্রুততম ফিফটি। ৭ টি করে ছক্কা ও চারে ৩৪ বলে করেন ৮৫ রান। রোভমান পাওয়েল করলেন ৩৫ বলে ৫৯, আর রাদারফোর্ড খেললেন ১৩ বলে ৩১ রারেন ক্যামিও। আর তাতেই ২৫৪ রানের বিশাল সংগ্রহ পায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ, যা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দলীয় রান। আর চলমান বিশ্বকাপে এটিই এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ।
জবাব দিতে নেমে উড়ন্ত শুরুর আভাস দিয়েছিলেন দুই ওপেনার মারুমানি ও ব্রায়ান বেনেট। তবে দলীয় ২০ রানের মাথায় থামতে হলো মারুমানিকে। দ্বিতীয় ওভারের শেষ বলে ৮ বলে ১৪ রান করা এই ব্যাটারকে সাজঘরে ফেরান ম্যাথিউ ফোর্ড।
আরও পড়ুন: সাবেক স্ত্রীকে আইনি নোটিশ পাঠালেন ইমাদ
পরের ওভারের প্রথম বলেই ব্রায়ান বেনেটকে ফেরান আকিল হোসেন। চলতি বিশ্বকাপে আগের সবগুলো ম্যাচেই তিনি ছিলেন অপরাজিত। সাজঘরে ফেরার আগে ৫ বলে ৫ রান করেন তিনি। ডিওন মায়ার্স, সিকান্দার রাজা ও মুসেকিওয়া— ব্যাট হাতে ইনিংস বড় করতে পারেননি কেউই। মায়ার্স ফিরেছেন ১৫ বলে ২৮ রান করে। সিকান্দার রাজা ২০ বলে ২৭ ও মুসেকিওয়া ফিরেছেন গোল্ডেন ডাক মেরে।
শেষদিকে একাই লড়াই চালিয়েছেন ব্র্যাড ইভান্স। তবে তার ২১ বলে ৪৩ রানের ইনিংসটি শুধু হারের ব্যবধানটাই কমিয়েছে। শেষ পর্যন্ত ১৭.৪ ওভারে ১৪৭ রানে অলআউট হয় জিম্বাবুয়ে। উইন্ডিজের হয়ে গুডাকেশ মোতি একাই নিয়েছেন ৪ উইকেট। এছাড়া আকিল হোসেন ৩টি, ম্যাথিউ ফোর্ড ২টি ও জ্যাসন হোল্ডার নিয়েছেন ১টি উইকেট।
এর আগে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালো করতে পারেনি ওয়েস্ট ইন্ডিজ। দলীয় ১৭ রানে ব্র্যান্ডন কিংয়ের উইকেট হারায় তারা। এরপর শাই হোপকে নিয়ে এগোনোর চেষ্টা করেন হেটমায়ার। দলীয় ৫৪ রানের মাথায় ১২ বলে ১৪ রান করা হোপ আউট হলে ভাঙে তাদের ৩৭ রানের জুটি।
এরপর রোভমান পাওয়েলকে নিয়ে জুটি গড়েন হেটমায়ার। দুজনে মিলে স্কোরবোর্ডে যোগ করেন ৫২ বলে ১২২ রান। দলীয় ১৭৬ রানের মাথায় ৩৪ বলে ৮৫ রান করা হেটমায়ারকে ফেরান ক্রেমার। এরপর বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি পাওয়েলও। ৩৫ বলে ৫৯ রান করা এই ব্যাটারকে ফেরান মুজারাবানি।
আরও পড়ুন: ভারত-জিম্বাবুয়ে ফাইনাল দেখার ইচ্ছা দ্রাবিড়ের
শেষদিকে ব্যাট হাতে ঝড় তোলেন রাদারফোর্ড। ১৩ বলে করেন অপরাজিত ৩১ রান। মাঝে রোমারিও শেফার্ড আউট হয়েছেন ১০ বলে ২১ রান করে। আর তাতেই নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ২৫৪ রানের বিশাল সংগ্রহ পায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
এই ইনিংসে হয়েছে ছক্কারও রেকর্ডও। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এক ইনিংসে যৌথভাবে এটিই সর্বোচ্চ ছক্কার রেকর্ড। এর আগে ২০১৪ সালে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে সমান ১৯টি ছক্কা হাঁকিয়েছিল নেদারল্যান্ডস। এর মধ্যে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের এক আসরে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ছক্কার রেকর্ডটাও ছুঁয়ে ফেলেছেন শিমরন হেটমায়ার। চলতি বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত তার ছক্কার সংখ্যা ১৭টি। ২০২৪ বিশ্বকাপে নিকোলাস পুরান মেরেছিলেন ১৭ ছক্কা। আর ২০১২ সালে ক্রিস গেইল ও ২০২৪ সালে রহমানউল্লাহ গুরবাজ সমান ১৬টি করে ছক্কা হাঁকিয়েছেন।
অন্যদিকে মাত্র ৭ রানের জন্য টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড ভাঙতে পারলো না ওয়েস্ট ইন্ডিজ। বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ দলীয় রানের রেকর্ডটা শ্রীলঙ্কার। ২০০৭ বিশ্বকাপে কেনিয়ার বিপক্ষে ২৬০ রান করেছিল লঙ্কানরা। ওয়েস্ট ইন্ডিজের ২৫৪ রান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। আর চলতি বিশ্বকাপে এটিই এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ। গত ১৪ ফেব্রুয়ারি ওমানের বিপক্ষে ২৩৫ রান করেছিল আয়ারল্যান্ড।
]]>
১ সপ্তাহে আগে
২







Bengali (BD) ·
English (US) ·