মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে তিনি প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথের জন্য ডাক পান। বিকেলে শপথ নেন গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি। সাকি বাদে কেউ জয়ী না হওয়ায় দলটির পক্ষ থেকে একমাত্র সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেন তিনি।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়-৬ (বাঞ্ছারামপুর) আসন থেকে তিনি এবারের প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ভোটে জয়লাভ করেন। বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থী মনোনীত হয়ে নিজ দল গণসংহতি আন্দোলনের মাথাল প্রতীক নিয়ে ভোটে লড়েন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হয়েছিলেন জামায়াত প্রার্থী মো.মহসীন।
জুনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি, ছাত্র আন্দোলন, শ্রমিক আন্দোলন, জাতীয় সম্পদ রক্ষা, গণতন্ত্র ও রাষ্ট্র সংস্কারের আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহন করেন। স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের মাধ্যমে তিনি সরাসরি রাজনৈতিক আন্দোলনে যুক্ত হন।
জোনায়েদ সাকি ২০১৫ সালে গণসংহতি আন্দোলনের পক্ষ থেকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে প্রার্থী হলেও জিততে পারেননি।
আরও পড়ুন: প্রথমবার এমপি হয়েই মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী হলেন যারা
২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি ঢাকা-১২ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন তিনি। সেখানেও পরাজিত হন তিনি।
স্ত্রী তাসলিমা আখতার জোনায়েদ সাকির রাজনৈতিক সংগ্রামের সহযোদ্ধা। তাসলিমা আখতার খ্যাতিসম্পন্ন আলোকচিত্রী, রোকেয়া পদকপ্রাপ্ত নারী সংগঠক। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক সংহতির সভাপ্রধান এবং গণসংহতি আন্দোলনের রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাসলিমা এবারের নির্বাচনে তিনি ঢাকা-১২ আসন থেকে ‘মাথাল’ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। দুই হাজার ৪৬ ভোট পেয়ে তিনি জামানত হারিয়েছেন।
ভোটে জেতার পর সার্বিক বিষয় নিয়ে জোনায়েদ সাকি বলেছেন, ‘জয়কে অবশ্যই জাতীয় রাজনীতিতে পরিবর্তনের বার্তা বলে মনে করি। মানুষের চাওয়াটাই হচ্ছে যে রাজনীতি, শাসনব্যবস্থা ও দেশের মানুষের বাস্তব জীবনে গুণগত পরিবর্তন আসুক।’
বিএনপির সঙ্গে জোট হওয়া প্রসঙ্গে জোনায়েদ সাকি সাংবাদিকদের বলেন, ‘বিএনপি বড় দল। ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আমরা একসঙ্গে লড়েছি। আলোচনার মাধ্যমে আমরা একটা ঐক্য তৈরি করতে পেরেছি। আমাদের সমন্বয়টা সফল হয়েছে।’
আরও পড়ুন: প্রথমবার এমপি হয়েই মন্ত্রী হলেন মানিকগঞ্জের রিতা
জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকির বয়স ৫৩ বছর। ১৯৭৩ সালের ৯ ডিসেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার ফরদাবাদ ইউনিয়নের চরলহনিয়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা মো. ফজলুর রহমান ও মাতা মাসুদা খানম। ১৯৯১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগে ভর্তি হন জোনায়েদ সাকি।
বিশ্ববিদ্যালয় জীবনেই তিনি সক্রিয়ভাবে ছাত্র রাজনীতি ও সামাজিক আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হন।
১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী গণআন্দোলনের মধ্য দিয়ে জোনায়েদ সাকি রাজনৈতিক সংগ্রামে যুক্ত হন। আন্দোলন-পরবর্তী সময়ে তিনি বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন-এ সক্রিয়ভাবে কাজ শুরু করেন। ১৯৯৮ সালে তিনি বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি নির্বাচিত হন। এই সময়ে তিনি ছাত্র বেতন ও ফি বৃদ্ধিবিরোধী আন্দোলন, যৌন নিপীড়নবিরোধী আন্দোলন, জাতীয় সম্পদ রক্ষার আন্দোলন, সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী ছাত্র আন্দোলনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ আন্দোলনে নেতৃত্বদেন।
ছাত্র রাজনীতি থেকে অবসর গ্রহণের পর শ্রমিক ও সামাজিক আন্দোলন থেকে উঠে আসা কর্মীদের নিয়ে ২০০২ সালের ২৯ আগস্ট তিনি গণসংহতি আন্দোলন প্রতিষ্ঠায় নেতৃত্বদেন।
আরও পড়ুন: ওয়ার্ড কাউন্সিলর থেকে মন্ত্রী হলেন আরিফ
সংগঠনটি জাতীয় মুক্তি সংগ্রামের একটি রাজনৈতিক মঞ্চ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। ২০১৬ সালে বিশেষ সাংগঠনিক সম্মেলনে তিনি গণসংহতি আন্দোলনের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির প্রধান সমন্বয়কারী হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
নির্বাচনের পূর্বে একাধিক বার কথা হয় জোনায়েদ সাকির সঙ্গে। এ সময় নিজ সংসদীয় এলাকা বাঞ্ছারামপুরকে ঢেলে সাজানোর জন্যে কিছু গুরুত্ব পরিকল্পনার কথা তিনি জানান।
এরমধ্যে করইকান্দি ফেরি ঘাটে মেঘনা ব্রিজ অন্যতম নির্বাচনী অঙ্গীকার। এ ছাড়া নবীনগর বাঞ্ছারামপুর সড়ককে প্রশস্ত করাও তার নির্বাচনী ঘোষণায় রয়েছে। আগামী দিনে জানার জন্য তিনি এলাকাবাসীসহ দেশবাসীর সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন।

২ সপ্তাহ আগে
৩






Bengali (BD) ·
English (US) ·