রাজধানীর সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে এক হলো পরিবহন মালিক-শ্রমিক-প্রশাসন, নতুন ৫ সিদ্ধান্ত

১ দিন আগে
ঢাকা মহানগর ও শহরতলীর গণপরিবহন ব্যবস্থাকে শৃঙ্খলাবদ্ধ, স্বচ্ছ ও আধুনিক করতে কাউন্টারভিত্তিক এবং ই-টিকিটিং পদ্ধতিতে বাস পরিচালনার উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা পরিবহন মালিক সমিতি ও ঢাকা মেট্রপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগ। এই উদ্যোগ বাস্তবায়নের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে দুদিনব্যাপী সচেতনতামূলক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

গত ১১ ও ১২ জানুয়ারি (রোববার ও সোমবার) দুপুর আড়াইটায় গুলিস্তানে ঢাকা মহানগর নাট্যমঞ্চ সংলগ্ন মাঠে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে পরিবহন মালিক, শ্রমিক নেতা, পুলিশ প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধিরা অংশ নেন এবং নতুন ব্যবস্থাপনা বাস্তবায়নে নীতিগত ঐকমত্যে পৌঁছান।

 

সভায় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান উরবান মুভ টেক লিমিটেডের প্রতিনিধিরাও অংশ নেন। তারা কাউন্টারভিত্তিক ও ই-টিকিটিং ব্যবস্থার কার্যপদ্ধতি, ব্যবহারিক দিক এবং বিস্তারিত বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া অংশগ্রহণকারীদের সামনে তুলে ধরেন।

 

সভায় জানানো হয়, সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর গত ১৫-১৬ মাস ধরে পুলিশ প্রশাসন, যোগাযোগ মন্ত্রণালয়, বিআরটিএ, ডিটিসিএ এবং পরিবহন মালিক-শ্রমিক সংগঠনের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠকের মাধ্যমে পাঁচটি সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়েছে। এই ব্যবস্থার ফলে চালক, শ্রমিক ও মালিক, তিন পক্ষই ন্যায্য ও স্বচ্ছ আয়ের নিশ্চয়তা পাবে। এর মাধ্যমে ঢাকা শহরে যানজটসহ দীর্ঘদিনের নানা পরিবহন সংক্রান্ত সংকট সমাধানের পথে অগ্রসর হওয়া সম্ভব হবে।

 

নতুন ব্যবস্থাপনায় যে পাঁচ সিদ্ধান্ত

 

  • নির্দিষ্ট স্টপেজ ছাড়া যাত্রী ওঠানামা বন্ধ থাকবে
  • কাউন্টার (পিওএস) ও ই-টিকিটিংয়ের মাধ্যমে ভাড়া আদায় করা হবে
  • বাসের অভ্যন্তরে নগদ লেনদেন সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে
  • রুটভিত্তিক কোম্পানির আওতায় নির্ধারিত সময় ও রোটেশন অনুযায়ী বাস চলবে
  • রুট অনুযায়ী যাত্রার নির্ধারিত স্থানে স্টপেজ ও কাউন্টার থাকবে

 

সভায় প্রধান অতিথি অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. সরওয়ার বলেন, এই ব্যবস্থাপনা কার্যকরভাবে চালু হলে সড়কে শৃঙ্খলা ও ইতিবাচক পরিবর্তন দৃশ্যমান হবে। সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে পুলিশ প্রশাসন নিয়মিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে এবং এ ক্ষেত্রে মালিক, শ্রমিক ও যাত্রী, সবার সম্মিলিত সহযোগিতা প্রয়োজন। কোনো ব্যক্তি হয়রানির শিকার হলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

 

আরও পড়ুন: অবশেষে আলোর মুখ দেখতে যাচ্ছে বাস রুট রেশনালাইজেশন প্রকল্প

 

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব মো. সাইফুল আলম বলেন, ‘কাউন্টারভিত্তিক ও ই-টিকিটিং পদ্ধতিই বর্তমান পরিবহন সংকট থেকে উত্তরণের সবচেয়ে কার্যকর ও বাস্তবসম্মত পথ। এই ব্যবস্থায় শ্রমিকদের বেতন বা সুযোগ-সুবিধা কোনোভাবেই কমানো হবে না। বরং যানজট কমলে ট্রিপ সংখ্যা বাড়বে, আয় বৃদ্ধি পাবে এবং কাজের চাপ তুলনামূলকভাবে কমে আসবে।’

 

সভায় আরও জানানো হয়, প্রাথমিকভাবে পাঁচ দিনের পরীক্ষামূলক অনুশীলনের পর ষষ্ঠ দিন থেকে পূর্ণাঙ্গভাবে ই-টিকিটিং ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এই কার্যক্রম শুরু হলে প্রথম তিন মাস নিয়ম মেনে চলা যানবাহনের বিরুদ্ধে কোনো মামলা করবে না ডিএমপি।

]]>
সম্পূর্ণ পড়ুন