রাজধানীতে নীতির শিথিলতায় বাড়ছে দূষণ, ‘মাথাব্যথা’ নেই পরিবেশ অধিদফতরের

৪ সপ্তাহ আগে
শীত না আসতেই দূষিত শহরের তালিকায় নিত্যদিনই শীর্ষ স্থান ধরে রাখছে রাজধানী ঢাকা। যার অন্যতম কারণ অতিক্ষুদ্র বস্তুকণা বা পিএম টু পয়েন্ট ফাইভ এর উপস্থিতি। ঢাকায় যার উপস্থিতি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মানমাত্রার চেয়ে প্রায় ২০ গুণ বেশি। তবে এ নিয়ে খুব একটা মাথাব্যথা নেই পরিবেশ অধিদফতরের। তাদের শিথিলতায় দূষণকারীরা উৎসাহ পাচ্ছে বলে অভিযোগ বিশেষজ্ঞের। এদিকে আবার স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোর তাগিদ চিকিৎসকদের।

প্রায় প্রতিদিনই দূষিত শহরের তালিকায় শীর্ষ অবস্থানে উঠে আসছে ঢাকা। আর এ বিষ শুষে নিতেই যেন অভ্যস্ত নগরবাসীও।

 

রাজধানীর মেরাদিয়ার একটি সড়কে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, এ যেন ‘ধুলার সমুদ্র’। শীত না আসতেই একই রকম চিত্র দেখা যাচ্ছে আব্দুল্লাহপুর, উত্তরা মেট্রোস্টেশন, বছিলাসহ শহরের প্রায় সব স্থানে।

 

আরও পড়ুন: দূষিত শহরের তালিকার শীর্ষে সারায়েভো, ঢাকার পরিস্থিতি কী?

 

গবেষণা বলছে, ঢাকার বায়ুদূষণের প্রধান উপাদান হচ্ছে বাতাসে অতিক্ষুদ্র বস্তুকণা বা পিএম টু পয়েন্ট ফাইভ এর উপস্থিতি। যা বিশ্ব স্বাস্থ্যসংস্থার মানমাত্রার চেয়ে প্রায় ২০ গুণ বেশি। ফলে শহরের বাতাস ক্রমেই ভারি হচ্ছে দূষিত কণার ভিড়ে।

 

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা যেখানে বাতাসে পিএম ২.৫ এর সর্বোচ্চ সহনীয় মাত্রা নির্ধারণ করেছে ৫ মাইক্রোগ্রাম, সেখানে বাংলাদেশে এ মাত্রা ৩৫ মাইক্রোগ্রাম পর্যন্ত স্বাভাবিক ধরা হচ্ছে নীতিগতভাবেই। ফলে দূষণ বাড়লেও দায় নিতে হচ্ছে না কাউকে বরং দূষণে জড়িতরা পার পেয়ে যাচ্ছেন এ নীতিমালার ফাঁকফোকর গলে।

 

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা যেখানে বাতাসে পিএম ২.৫ এর সর্বোচ্চ সহনীয় মাত্রা নির্ধারণ করেছে ৫ মাইক্রোগ্রাম, সেখানে বাংলাদেশে এ মাত্রা ৩৫ মাইক্রোগ্রাম পর্যন্ত। 

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা গোটা পৃথিবীর দূষণের পরিমাণ কমাতে নীতিমালা আরও কঠোর করে যে বছর, সেই একই বছরে দেশের বাতাসে স্বাভাবিক ধূলিকণার মাত্রা ৩৫ এ নিয়ে যাওয়াকে তদারকি সংস্থার দায় এড়ানোর বাহানা বলছেন পরিবেশ বিশেষজ্ঞ।

 

ক্যাপসের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. আহমদ কামরুজ্জমান মজুমদার বলেন, ধরে নেয়া হচ্ছে বাংলাদেশের মানুষ অনেক দূষণেও টিকে থাকবে। ডব্লিএইচও ২০২২ সালে ১০ মাইক্রোগ্রাম থেকে আরও শক্তিশালী করে ৫ মাইক্রোগ্রামে নামিয়ে আনলো, আর বাংলাদেশ কী করলো, ঠিক একই সময়ে ১৫ মাইক্রোগ্রাম থেকে ছাড় দিয়ে ৩৫ মাইক্রোগ্রাম পর্যন্ত অনুমোদন দিয়ে দিলো। এতে করে দূষণকারীদের আরও বেশি সহযোগিতা করা হলো।

 

আর পরিবেশ অধিদফতর বলছে, অতি মাত্রার দূষণকে কিছুটা সহনীয় মাত্রায় আনতেই এই লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

 

পরিবেশ অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক জিয়াউল হক বলেন, যে ৩৫ মাইক্রোগ্রাম নির্ধারণ করা হয়েছে সেটা হলো ইন্টারিম টার্গেট। বর্তমানে আমাদের যে গড়পড়তা পিএম টু পয়েন্ট ফাইভ এর মান, সেখানে আমরা ৮০ থেকে ৯০ এর অনেক উপরে আছে। আমরা যদি ৮০ থেকে ৯০ মাইক্রোগ্রাম থেকে কমিয়ে ৩৫ নিয়ে আসতে পারি, তাহলে এটা বিশাল অর্জন।  

 

এমন পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোর তাগিদ চিকিৎসকদের।

 

রাজধানীর রাজপথ ধূলায় ঢাকা।  

 

২৫০ শয্যা বিশিষ্ট টিবি হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. আয়েশা আক্তার বলেন, শ্বাসনালীর মাধমে এ কণাগুলো যাচ্ছে ফুসফুসে। তাহলে ফুসফুস ক্ষতিগ্রস্ত হয়। শীতে এলার্জি-অ্যাজমা বেড়ে যাচ্ছে এই ধূলিকণার কারণে। সবাইকে এ বিষয়ে সচেতন হতে হবে।

 

বায়ুমণ্ডল দূষণ অধ্যয়ন কেন্দ্র ক্যাপসের তথ্য বলছে, গত ৯ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ দূষণ ঘটেছে চলতি বছরেই। বছরের শেষে এসেও পাল্টায়নি সেই পরিসংখ্যান।

 

]]>
সম্পূর্ণ পড়ুন