এটি ধৈর্য, স্থৈর্য ও সহানুভূতির মাস। এই মাসকে নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনভাগে ভাগ করেছেন। প্রথম দশদিন রহমতের, মধ্য দশদিন মাগফিরাতের ও শেষের দশদিন নাজাত বা জাহান্নাম থেকে মুক্তির। আমরা রহমতের দিনগুলো অতিক্রম করে মাগফিরাতের দশকে প্রবেশ করছি। মাগরিবের দশকে আমাদের কিছু করণীয় রয়েছে।
বেশি বেশি তওবা করা
আল্লাহ বস্তুত তার বান্দাদের ক্ষমা করে দিতে পছন্দ করেন। তার বান্দাদের ক্ষমা করে দিবেন বলেই রমযানুল মোবারক দান করেন।শয়তানকে শৃঙ্খলিত করে রাখেন। যেন বান্দা যাবতীয় পাপ থেকে বেঁচে থেকে ইবাদতে মনোযোগী হয়ে জান্নাত অর্জন করতে পারে। গুনাহখাতা, পাপ-পঙ্কিলতা তওবা করে পরিশুদ্ধ হওয়া মধ্য দশদিন সুবর্ণ ও সর্বোত্তম সুযোগ। যেহেতু মধ্য দশদিন মাগফেরাত বা ক্ষমার।
তাই অবশ্যই মুমিন-মুসলমানকে তওবা করে মাগিফিরাত অর্জন করতে হবে। কেননা যে রমজান পেয়েও নিজের গোনাখাতা মোছন করাতে পারেনি তার ব্যাপারে নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
আরও পড়ুন: রোজাদারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ৩ হাদিস
হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেন, ‘একদা রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিম্বরে আরোহণ করে তিনবার বলেন, আমিন, আমিন, আমিন জিজ্ঞাসা করা হলো, হে আল্লাহর রসুল, আপনি ইতোপূর্বে কখনও তো এরূপ করেননি? তিনি বললেন, জিবরাইল আলাইহিস সালাম আমাকে বললেন, ওই ব্যক্তি ধ্বংস হোক! যে পিতা-মাতা দুজনকে বা কোনও একজনকে জীবিত পাওয়ার পরও তাদের সেবা করে জান্নাত কামাতে পারলো না। আমি জিবরাঈলের এই দোয়ার উপর ‘আমিন’ বলেছি। অতঃপর তিনি বলেন, ওই ব্যক্তি ধ্বংস হোক! যে রমজান পেলো অথচ নিজের গোনাহ মাফ করাতে পারলো না। আমি বলেছি ‘আমিন’। এরপর তিনি বলেন, ওই ব্যক্তি ধ্বংস হোক! যার সামনে আমার নাম উচ্চারিত হলো অথচ সে আমার প্রতি দরুদ পড়লো না। আমি বলেছি ‘আমিন’। (আদাবুল মুফরাদ : ৬৫০)
দান সদকা বেশি করা
যেহেতু মধ্য দশদিন মাগফেরাত বা ক্ষমার, তাই আমাদের উচিত সে সমস্ত আমলে জোড় দেওয়া যেগুলো দ্বারা পাপ মুছন হয়। আল্লাহ বান্দাকে ক্ষমা দান করেন। দান সদকা দ্বারা যেমনিভাবে বান্দার বিপদ-আপদ দূরীভূত হয়। তেমনি দানের দ্বারা বান্দার গুনাহও মুছন হয়। আল্লাহা তায়ালা বলেন।
যদি তোমরা প্রকাশ্যে দান কর তবে তাও উত্তম, আর যদি তোমরা তা গোপনে কর এবং তা অভাবগ্রস্তদেরকে দান কর, তবে তা তোমাদের জন্য আরো উত্তম, অধিকন্তু তিনি তোমাদের কিছু গুনাহ মোচন করে দেবেন, বস্তুতঃ যা কিছু তোমরা করছ, আল্লাহ তার খবর রাখেন। (সুরা বাকারা, ২৩১)
দান করার মাধ্যমে বান্দার পাপ জ্বলে পুরে ভষ্ম হয়ে যায়। পাপের কারণে আল্লাহর যে ক্রোধ থাকে তা নির্বাপিত করে দেন। এই প্রসঙ্গে নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন। হজরত মুয়াজ ইবনে জাবাল রাদিয়াল্লাহু আনহুর বর্ণনায় প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দান-সদকা সম্পর্কে ইরশাদ করেন, ‘নিশ্চয় দান-সদকা (মানুষের) পাপাচারের কারণে আল্লাহর গজবের যে আগুন সৃষ্টি হয় তাকে নিভিয়ে দেয়; যেভাবে আগুন পানিকে নিভিয়ে দেয়।’ (তিরমিজি)
বেশি বেশি নেক আমল করা
মাগফিরাতের দশদিনে আমাদের উচিৎ যাবতীয় মন্দ কাজ থেকে নিজেকে পরিহার করে,নেক আমলে মনোনিবেশ হওয়া। বেশী বেশী নেক আমল করা। কল্যাণময়ী কাজ করা। কেননা নেক আমল ও কল্যাণমূলক কাজ দ্বারাও বান্দার গোনাহখাতা মাফ হয়। এই প্রসঙ্গে আল্লাহ তায়ালা বলেন। নিশ্চয়ই ভালকাজ মন্দকাজকে মিটিয়ে দেয়। এটি উপদেশ গ্রহণকারীদের জন্য উপদেশ। (সুরা হুদ ১১৪)
লেখক: প্রতিষ্ঠাতা,পরিচালক মাদরাসাতুল হিকমাহ- ইছাপশ,তাড়াইল,কিশোরগঞ্জ
]]>
২ দিন আগে
১








Bengali (BD) ·
English (US) ·