রমজান শুরু হতেই মুন্সীগঞ্জ শহরের প্রধান সড়কের শতাব্দী প্রাচীন সবজি হাটে ক্রেতাদের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। ফাল্গুনের শীতল ভোরে হাকডাকে মুখর এ হাটে কৃষকরা জমি থেকে সরাসরি কপি, শিম, মুলা, লাউ, টমেটো, ক্ষিরা, বেগুনসহ নানা সবজির পসরা সাজিয়েছেন।
প্রতিদিন ভোরের কয়েক ঘণ্টাতেই এই ব্যস্ত হাটে বেচাকেনা জমে ওঠে। দুই থেকে তিন ঘণ্টার মধ্যে প্রায় ২০-২৫ মেট্রিক টন তাজা ও স্থানীয় সবজি বিক্রি হয়ে যায়। তবে এবার চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কিছু সবজির দাম বেড়েছে।
তিন দিনের ব্যবধানে ৪০ টাকা হালির লেবু এখন বিক্রি হচ্ছে ১৬০ টাকায়। কাঁচা মরিচের কেজি ১৪০ টাকায় পৌঁছেছে। ক্ষিরাইয়ের দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়ে কেজিতে ৯০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কালা বেগুনের কেজি ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
দাম বেড়ে যাওয়ায় রোজার বাজারে কিছুটা চাপ অনুভব করছেন সাধারণ ক্রেতারা। হাটে আসা ক্রেতারা অভিযোগ করেছেন, রোজায় ইফতারে লেবু ও কাঁচা মরিচের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় একটি চক্র দাম বাড়াচ্ছে।
আরও পড়ুন: খাতুনগঞ্জে ঊর্ধ্বমুখী তেল-চিনির দাম, আমদানি বাড়লেও প্রভাব নেই বাজারে
সৈয়দ আশরাফ নামে এক ক্রেতা বলেন, ‘রমজানে কিছু পণ্যের চাহিদা বেড়ে যায়, সেই সুযোগে দাম বাড়ানো হচ্ছে।
আরেক ক্রেতা রফিক বলেন, তিন দিন আগে যে লেবু ৪০ টাকায় হালি কিনেছিলাম, এখন সেটি কিনতে হচ্ছে ১৬০ টাকায়। এটা অস্বাভাবিক।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে আড়তদাররা বলছেন, সরবরাহ কম থাকায় দাম বেড়েছে। হাটের আরতদার রানা সরদার বলেন, রমজানে কিছু পণ্যের চাহিদা অনেক বেড়ে যায়, কিন্তু সব পণ্যের সরবরাহ সেই অনুপাতে থাকে না। তাই কিছু পণ্যের দাম বেড়েছে। তবে অন্য অনেক সবজির দাম এখনো সহনীয়।
হাটের পাইকারি দরে প্রতি কেজি শিম ৩৫ টাকা, টমেটো ৩০-৪০ টাকা, গাজর ৪০ টাকা ও নতুন আলু ১৮-২০ টাকায় বেচাকেনা হচ্ছে। এছাড়া প্রতিকেজি মুলা ১৫-২০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৩০ টাকা, পেঁপে ৩০ টাকা, মটরশুঁটি ৬০ টাকা, ধনেপাতা ৪০ টাকা ও ক্যাপসিকাম ১০০-১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর প্রতি পিস ফুলকপি ১৫-২০ টাকা, বাঁধাকপি ১৫-২৫ টাকা, লাউ ৩০-৪০ টাকায় বেচাকেনা হচ্ছে।
কৃষি বিভাগ জানায়, চলতি রবি মৌসুমে জেলায় ৪ হাজার ৯০১ হেক্টর জমিতে সবজি চাষ হয়েছে। স্থানীয় উৎপাদন ভালো থাকায় অধিকাংশ সবজির দাম এখনও নাগালের মধ্যে রয়েছে।
]]>
২ সপ্তাহ আগে
২






Bengali (BD) ·
English (US) ·