যৌতুকের মামলা করায় মাদারীপুরে গৃহবধূর ওপর হামলা, কুপিয়ে জখম

১ সপ্তাহে আগে
মাদারীপুরে যৌতুকের মামলা করায় শ্বশুরবাড়ির লোকজন ফাতেমা আক্তার (২৫) নামে এক গৃহবধূকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গুরুতর আহত অবস্থায় ফাতেমাকে উদ্ধার করে মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

সোমবার (৫ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় মাদারীপুর পৌরসভার উকিলপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

 

সদর উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়নের হোসনাবাদ গ্রামের মোবারক গৌড়ার মেয়ে ফাতেমা আক্তারের সঙ্গে ২০২১ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি একই ইউনিয়নের সাবেক কালিকাপুর গ্রামের মৃত হাকিম গাছীর ছেলে রাহাত গাছীর (২৯) বিয়ে হয়। বিয়ের সময় নগদ চার লাখ টাকা, তিন ভরি স্বর্ণালংকারসহ আসবাবপত্র দেয়া হয়। এরপরও শ্বশুরবাড়ির লোকজন বিভিন্ন সময় যৌতুকের দাবিতে ফাতেমার ওপর মানসিক নির্যাতন চালাতে থাকে।

 

স্বজনদের অভিযোগ, যৌতুকের টাকা না দেয়ায় তাকে চাপের মুখে রাখা হয়। একপর্যায়ে ফাতেমার বাবার বাড়ির ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে স্বামী রাহাতকে সৌদি আরবে পাঠিয়ে দেন তার বড় ভাই রাসেল। এরপর আবারও ফাতেমার কাছে যৌতুক দাবি করতে থাকে ভাসুর রাসেল ও তার পরিবারের সদস্যরা। দাবি অনুযায়ী টাকা না দেয়ায় গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর ফাতেমার বাবার বাড়িতে গিয়ে মারধর করে এবং হুমকি দেয়া হয়।

 

আরও পড়ুন: ভাসুরকে ফাঁসাতে ‘ধর্ষণ’ মামলা, স্বামী-স্ত্রীর সাড়ে তিন বছরের কারাদণ্ড

 

এরপর বাধ্য হয়ে চলতি বছরের ১ জানুয়ারি চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে রাহাত ও রাসেলসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে যৌতুক আইনে মামলা করেন ফাতেমা। মামলার জের ধরেই সোমবার সন্ধ্যায় শহরের পানিছত্র এলাকা থেকে নিজ বাড়িতে ফেরার পথে উকিলপাড়া এলাকায় ফাতেমার ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। অভিযোগ উঠেছে, রাসেল ও তার লোকজন তাকে কুপিয়ে জখম করে। ফাতেমার চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।

 

পরে আহত অবস্থায় ফাতেমাকে মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন নির্যাতিতা গৃহবধূ, তার স্বজন ও এলাকাবাসী।

 

মাদারীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবুল কালাম আজাদ জানান, গৃহবধূর ওপর হামলার খবর পেয়ে পুলিশ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ভুক্তভোগীর পরিবার লিখিত অভিযোগ দিলে এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

]]>
সম্পূর্ণ পড়ুন