যেভাবে রোজাকে বানাবো আমাদের ঢাল

৪ দিন আগে
সিয়াম কেবল একটি ইবাদত নয়; এটি আল্লাহপ্রদত্ত এক শক্তিশালী ঢাল। এই ঢাল আমাদের রক্ষা করবে দুনিয়ার গুনাহ থেকে, কবরের আজাব থেকে এবং সর্বোপরি জাহান্নামের আগুন থেকে,যদি আমরা এটিকে অক্ষত রাখতে পারি।

নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,

 

الصِّيَامُ جُنَّةٌ  সিয়াম ঢালস্বরূপ। (সহিহ বুখারি:১৮৯৪; সহিহ মুসলিম:১১৫১) এই সংক্ষিপ্ত হাদিসের মাঝে লুকিয়ে আছে গভীর তাৎপর্য। ঢাল তখনই কার্যকর হয়, যখন সেটি অক্ষত থাকে। যদি ঢালে ফাটল ধরে, তবে তা আর আঘাত প্রতিরোধ করতে পারে না। তেমনি রোজাও যদি আমরা এর হক আদায় না করি, তবে এটি আমাদের জন্য প্রকৃত ঢাল হয়ে উঠবে না।


ঢাল নষ্ট হয় কিভাবে?


সাহাবায়ে কেরাম রা. জিজ্ঞেস করেছিলেন, 

 

ইয়া রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! এই ঢাল কিভাবে নষ্ট হয়? রোজা ভঙ্গ হওয়ার বাহ্যিক কারণ আমরা সবাই জানি পানাহার বা দাম্পত্য সম্পর্ক। কিন্তু রোজার রুহ  বা প্রাণ নষ্ট হওয়ার কারণ কী?

 

রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, فَلَا يَرْفُثْ وَلَا يَجْهَلْ রোজাদার যেন অশ্লীল কথা না বলে এবং মূর্খতা না করে।(সহিহ বুখারি:১৮৯৪; সহিহ মুসলিম:১১৫১) অর্থাৎ, রোজা কেবল পেটের সংযম নয় এটি জবানের, চোখের, হাত-পায়ের এবং অন্তরের সংযম।


জবানের গুনাহ: ঢালের সবচেয়ে বড় ফাটল


রোজাকে নষ্ট করে এমন সবচেয়ে ভয়াবহ বিষয় হলো জবানের গুনাহ, ১.গিবত (পরনিন্দা) ২.চোগলখোরি ৩.অপবাদ ৪.কটু কথা ৫.মিথ্যা গিবত সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা বলেন, এটি মৃত ভাইয়ের গোশত ভক্ষণ করার মতো জঘন্য কাজ। একজ মানুষ সারাদিন ক্ষুধার্ত থেকেও যদি গিবত করে, তবে সে নিজের ঢাল নিজেই ভেঙে ফেলছে। আমরা অন্যের দোষ নিয়ে ব্যস্ত থাকি। অথচ নিজের জীবনের দিকে তাকালে দেখা যাবে তওবা ও ইস্তিগফারের জন্যই সময় কম পড়ে যায়। নিজের হিসাব না নিয়ে অন্যের সমালোচনায় সময় নষ্ট করা রোজার প্রকৃত শিক্ষার পরিপন্থী।

 

আরও পড়ুন: রমজান মাসে কি বিয়ে করা যাবে?


রোজার প্রকৃত সংযম কী?


রোজার বাহ্যিক সংযম। ১.পানাহার থেকে বিরত থাকা ২.দাম্পত্য সম্পর্ক থেকে বিরত থাকা। রোজার আভ্যন্তরীণ সংযম ১. চোখের সংযম ২. জবানের সংযম ৩.হাত-পায়ের সংযম৪. অন্তরের সংযম। যখন এই সব সংযম একত্রিত হয়, তখন রোজার মাঝে  প্রাণ সঞ্চারিত হয়।

 

জাহান্নাম থেকে সুরক্ষা

 

রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম مَنْ صَامَ يَوْمًا فِي سَبِيلِ اللَّهِ بَعَّدَ اللَّهُ وَجْهَهُ عَنِ النَّارِ سَبْعِينَ خَرِيفًا যে ব্যক্তি আল্লাহর পথে একদিন রোজা রাখে, আল্লাহ তার মুখমণ্ডলকে জাহান্নাম থেকে সত্তর বছরের দূরত্বে সরিয়ে দেন। (সহিহ বুখারি:২৮৪০) ভাবুন একদিনের রোজার এই প্রতিদান! তবে শর্ত হলো, রোজাকে অক্ষুণ্ণ রাখতে হবে।

 

রমজান চরিত্র গঠনের প্রশিক্ষণ

 

যদি আমরা রমজানে গিবত ত্যাগ করতে পারি, হারাম কাজ থেকে দূরে থাকতে পারি, পাপ থেকে নিজেকে সংযত রাখতে পারি, তাহলে ইনশাআল্লাহ বাকি এগারো মাসও আল্লাহ তাআলা আমাদের তাওফিক দান করবেন। রমজান হলো আত্মশুদ্ধির প্রশিক্ষণ ক্যাম্প। এখানে আমরা সংযম শিখি, ধৈর্য শিখি, তাকওয়া অর্জন করি।


রোজা আমাদের জন্য ঢাল

 

কিন্তু ঢালকে অক্ষত রাখা আমাদের দায়িত্ব। আসুন, আমরা শুধু ক্ষুধার্ত না থেকে সত্যিকারের রোজাদার হই। আমাদের জবান, চোখ, হাত ও অন্তরকে সংযত রাখি। গিবত ও পাপ থেকে বেঁচে থাকি।তাহলেই ইনশাআল্লাহ এই সিয়াম আমাদের কবর থেকে শুরু করে আখিরাতের প্রতিটি কঠিন মুহূর্তে রক্ষা করবে। আল্লাহ আমাদের রোজাকে কবুল করুন এবং এটিকে আমাদের জন্য জাহান্নাম থেকে রক্ষাকারী ঢাল বানিয়ে দিন। আমিন।

]]>
সম্পূর্ণ পড়ুন