ইসরা ও মেরাজ: মহাসাক্ষাতের ভূমিকা
ইসরা ও মেরাজ ছিল আল্লাহর পক্ষ থেকে রসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম–এর জন্য এক বিশেষ সম্মান ও সান্ত্বনা। মক্কার কঠিন সময় খাদিজা রা. ও আবু তালিব-এর ইন্তেকালের পর, তায়িফের নির্যাতনের পটভূমিতে,আল্লাহ তাআলা তার রসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে আসমানি সফরের মাধ্যমে রসুলকে সান্তনা দেন।
আল্লাহ তাআলা বলেন,
سُبْحَانَ الَّذِي أَسْرَىٰ بِعَبْدِهِ لَيْلًا مِّنَ الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ إِلَى الْمَسْجِدِ الْأَقْصَى পবিত্র তিনি, যিনি তার বান্দাকে রাত্রিকালে মসজিদুল হারাম থেকে মসজিদুল আকসা পর্যন্ত ভ্রমণ করিয়েছেন। (সুরা ইসরা:১)
এই আয়াত স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে, ইসরা একটি বাস্তব ও অলৌকিক ঘটনা, যা আল্লাহ নিজেই সংঘটিত করেছেন।
মেরাজ আল্লাহর সাথে রসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর মহাসাক্ষাৎ
মসজিদুল আকসা থেকে শুরু হয় মেরাজ, আসমানের দিকে আরোহণ। রসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একে একে সাত আসমান অতিক্রম করেন, সাক্ষাৎ লাভ করেন আদম আ., ঈসা আ., মুসা আ., ইবরাহিম আ.সহ অন্যান্য নবীগণের। অতঃপর তিনি পৌঁছান সিদরাতুল মুনতাহায়, যেখানে জিবরাইল আ.-এরও অগ্রসর হওয়ার অনুমতি ছিল না।
আল্লাহ তাআলা বলেন,
ثُمَّ دَنَا فَتَدَلَّىٰ فَكَانَ قَابَ قَوْسَيْنِ أَوْ أَدْنَىٰ অতঃপর তিনি নিকটবর্তী হলেন ও আরও নিকট এলেন; ফলে দুই ধনুকের ব্যবধান বা তারও কম দূরত্ব রইল। (সুরা আন-নাজম: ৮–৯)
এই আয়াতগুলো রসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম–এর সেই মহাসাক্ষাতের দিকেই ইঙ্গিত করে, যেখানে তিনি আল্লাহর বিশেষ নৈকট্য লাভ করেন,যা কোনো সৃষ্টির জন্য আগে বা পরে কখনো হয়নি।
আরও পড়ুন: মৃতদের জন্য সওয়াব পৌঁছানোর পদ্ধতি
নামাজ মহাসাক্ষাতের সর্বশ্রেষ্ঠ উপহার
এই মহাসাক্ষাতের শ্রেষ্ঠ উপহার হলো পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজ।
فُرِضَتْ عَلَى النَّبِيِّ ﷺ لَيْلَةَ أُسْرِيَ بِهِ الصَّلَوَاتُ خَمْسِينَ، ثُمَّ نُقِصَتْ حَتَّى جُعِلَتْ خَمْسًا، ثُمَّ نُودِيَ: يَا مُحَمَّدُ، إِنَّهُ لَا يُبَدَّلُ الْقَوْلُ لَدَيَّ، وَإِنَّ لَكَ بِهَذِهِ الْخَمْسِ خَمْسِينَ ইসরা ও মেরাজের রাতে নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর ওপর প্রথমে পঞ্চাশ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ করা হয়েছিল। পরে তা ধাপে ধাপে কমিয়ে পাঁচ ওয়াক্ত করা হলো। তখন ঘোষণা করা হলো,
হে মুহাম্মদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আমার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন হয় না। আর এই পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের বিনিময়ে তোমার জন্য পঞ্চাশ ওয়াক্তের সমান সওয়াব নির্ধারিত।(সহিহ বুখারি:৩৪৪৯, সহিহ মুসলিম:১৬২) এটি প্রমাণ করে, আল্লাহর সাথে সম্পর্ক গড়ার সর্বোত্তম মাধ্যম হলো নামাজ।
রজব মাসের সাথে ইসরা-মেরাজের সম্পর্ক
ইতিহাস ও সিরাতগ্রন্থসমূহে উল্লেখ রয়েছে যে, ইসরা ও মেরাজ রজব মাসে সংঘটিত হয়েছিল—যদিও সুনির্দিষ্ট তারিখ নিয়ে আলেমদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। তবে অধিকাংশ মুসলিম উম্মাহ রজব মাসকে এই মহিমান্বিত ঘটনার স্মৃতিবাহী মাস হিসেবে সম্মান করে আসছে।
রজব এমনিতেই চারটি সম্মানিত মাসের একটি إِنَّ عِدَّةَ الشُّهُورِ عِندَ اللَّهِ اثْنَا عَشَرَ… مِنْهَا أَرْبَعَةٌ حُرُمٌ নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট মাসের সংখ্যা বারোটি তন্মধ্যে চারটি সম্মানিত। (সুরা তাওবা:৩৬)
রজব মাসেই হয়েছে আল্লাহর সাথে রসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম–এর মহাসাক্ষাৎ এই ঘটনা আমাদের মনে করিয়ে দেয়, আসমান ও জমিনের মাঝে এক সেতুবন্ধন আছে, যা গড়ে ওঠে ঈমান, নামাজ ও আনুগত্যের মাধ্যমে। যদি আমরা সত্যিকার অর্থে রসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম–এর উম্মত হতে চাই, তবে আমাদের জীবনেও নামাজ ও আল্লাহর নৈকট্যকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।

২ দিন আগে
২








Bengali (BD) ·
English (US) ·