আল জাজিরাকে দেয়া সাক্ষাৎকারে ইতালির সংসদ সদস্য এবং গ্রিন ইউরোপ পার্টির মুখপাত্র অ্যাঞ্জেলো বোনেল্লি বলেন, প্রধানমন্ত্রী এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ‘শুধুমাত্র তখনই, যখন জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী ইতালীয় সদস্যরা ইসরাইলি সেনাবাহিনীর হামলার শিকার হয়েছেন।’
বোনেল্লি বলেন, ‘গত কয়েক বছর ধরে আমি প্রধানমন্ত্রী মেলোনিকে অনুরোধ করে আসছিলাম ইসরাইলের সঙ্গে সামরিক চুক্তি বাতিল করতে, যখন ইসরাইলি বাহিনী গাজায় বোমা হামলা চালিয়েছে, স্কুল ও হাসপাতাল ধ্বংস করেছে এবং ৭০ হাজার নারী ও শিশুকে হত্যা করেছে। তখন তিনি আমাকে বলেছিলেন, এই সামরিক চুক্তি ইতালির জন্য একটি কূটনৈতিক হাতিয়ার এবং এর মাধ্যমে ইসরাইলের সঙ্গে সংলাপ বজায় রাখা সম্ভব।’
তিনি আরও জানান, দক্ষিণ লেবাননে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী ইতালীয় সদস্যদের ওপর হামলার পরই মেলোনির অবস্থান পরিবর্তন হয়। বোনেল্লি বলেন, ইতালির সাধারণ মানুষের প্রতিবাদও সরকারের ওপর চাপ তৈরি করতে বড় ভূমিকা রেখেছে, যাতে তারা ইসরাইলের সঙ্গে চুক্তি বন্ধ করে।
আরও পড়ুন: ইইউ-ইসরাইল সহযোগিতা চুক্তি বাতিলের আহ্বান ৩৫০ সাবেক মন্ত্রী-কূটনীতিকের
এই রাজনীতিক বলেন, ‘ইতালির অধিকাংশ মানুষ যুদ্ধ বন্ধ করতে চায় এবং আন্তর্জাতিক আইন পুনর্গঠন করতে চায়, যা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ধ্বংস করেছেন বলে তারা মনে করে।’
‘তাই আমাদের আন্তর্জাতিক আইন পুনর্গঠন করতে হবে—এ বিষয়ে আমাদের খুব পরিষ্কার থাকতে হবে,’ যোগ করেন তিনি।
ইসরাইল ও ইতালির মধ্যে এই চুক্তিটি ২০০৩ সালে স্বাক্ষরিত হয় এবং ২০০৫ সালে অনুমোদিত হয়। চুক্তিটির মাধ্যমে দুই দেশের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সহযোগিতার একটি কাঠামো তৈরি করা হয়। এর মধ্যে ছিল প্রতিরক্ষা শিল্প ও ক্রয়নীতি নিয়ে সহযোগিতা, এবং সামরিক সরঞ্জামের আমদানি, রফতানি ও পরিবহন সংক্রান্ত বিষয়গুলো।
এই সমঝোতা স্মারকটি প্রতি পাঁচ বছর পরপর স্বয়ংক্রিয়ভাবে নবায়ন হওয়ার কথা ছিল—যদি না কোনো এক দেশ লিখিতভাবে চুক্তি বাতিলের ইচ্ছা জানায়। তবে গত সোমবার (১৩ এপ্রিল) ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজকে পাঠানো এক চিঠিতে চুক্তি বাতিলের ইচ্ছা প্রকাশ করে ইতালির প্রতিরক্ষামন্ত্রী গুইদো ক্রোসেটো।
আরও পড়ুন: হরমুজ প্রণালী খোলা নিয়ে ইরানের নতুন প্রস্তাব
পরদিন মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) এক ঘোষণায় বিষয়টি জানান প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি। ভেরোনায় এক অনুষ্ঠানে সংবাদ সম্মেলনে মেলোনি বলেন, ‘আমরা যে পরিস্থিতির সম্মুখীন হচ্ছি তা বিবেচনা করে সরকার ইসরাইলের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তির স্বয়ংক্রিয় নবায়ন স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’
প্রতিক্রিয়ায় ইসরাইল সরকার এই পদক্ষেপকে খাটো করে দেখানোর চেষ্টা করে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদেওন সার বলেন, ‘এটি এমন একটি চুক্তি যা ‘বাস্তবে কখনো কার্যকরই হয়নি’ এবং এর ‘গুরুত্বপূর্ণ কোনো বিষয়বস্তু ছিল না।’ এতে ‘ইসরাইলের নিরাপত্তায় কোনো প্রভাব পড়বে না’ বলেও দাবি তার।
]]>
১ সপ্তাহে আগে
৪








Bengali (BD) ·
English (US) ·