এখন আলেপ্পো শহরের শেখ মাকসুদ জেলায় সিরীয় সেনাবাহিনী ও বিদ্রোহী এসডিএফ যোদ্ধাদের মধ্যে তুমুল লড়াই চলছে। লড়াইয়ের মধ্যে এলাকা ছেড়ে পালাচ্ছে বাসিন্দারা। গত কয়েকদিনে আলেপ্পোর আশরাফিয়া ও শেখ মাকসুদ এলাকা থেকে অন্তত ১ লাখ ৬২ হাজার মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়েছেন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
উত্তরাঞ্চলীয় শহর আলেপ্পোতে গত মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) সিরিয়ার সেনাবাহিনী ও এসডিএফ যোদ্ধাদের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। যার সূত্রপাত এসডিএফ-এর রাষ্ট্রীয় বাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার ব্যাপারে কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে একটি সম্ভাব্য চুক্তি ভেস্তে যাওয়ার পর। এরপর গত কয়েকদিনে তীব্র সংঘর্ষে অন্তত ২২ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ১৭৩ জন। এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস।
তিনদিনের রক্তক্ষয়ী লড়াইয়ের পর সংঘাত বন্ধে সম্মত হয় সিরীয় সরকার। স্থানীয় সময় শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) এসডিএফের সঙ্গে যুদ্ধ বিরতির ঘোষণা দেয় প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল শারা প্রশাসন। সেই সঙ্গে সন্ধ্যার মধ্যে এলাকা ছাড়ার আল্টিমেটাম দেয়। কিন্তু যুদ্ধবিরতি মেনে সেনা প্রত্যাহারে অস্বীকৃতি জানায় এসডিএফ। এরপরই ফের হামলা জোরদার করে সরকারি বাহিনী।
আরও পড়ুন: ইয়েমেনের বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী এসটিসিকে বিলুপ্ত ঘোষণা, ঘোষণা একাংশের
সেনা সূত্রের বরাতে আজ শনিবার (১০ জানুয়ারি) আল জাজিরা জানিয়েছে, সরকারি বাহিনী তীব্র লড়াইয়ের মূলকেন্দ্র শেখ মাকসুদ এলাকায় যুদ্ধে ‘বেশ অগ্রগতি’ করেছে। ওই এলাকার প্রায় ৫৫ শতাংশ এখন নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে তারা। সিরিয়ার রাষ্ট্র পরিচালিত সংবাদ সংস্থা সানা জানিয়েছে, শেখ মাকসুদে সেনাবাহিনী তাদের সর্বশেষ অভিযানে এসডিএফের বেশ কয়েকজন সদস্যকে গ্রেফতার করেছে।
আহমেদ আল-শারা’র নেতৃত্বাধীন সরকার এসডিএফ বাহিনীকে রাষ্ট্রের সেনাবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করছে। গত বছর মার্চ মাসে এ সংক্রান্ত একটি চুক্তি হলেও তা বাস্তবায়নে ধীরগতির কারণে দুপক্ষের মধ্যে আস্থার সংকট প্রকট হয়েছে। তুরস্ক এই পরিস্থিতিতে আল শারার সরকারের পদক্ষেপকে সমর্থন জানিয়েছে। তুর্কি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়াসার গুলার বলেছেন, সিরিয়ার নিরাপত্তা মানেই তুরস্কের নিরাপত্তা।
এদিকে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এই সহিংসতায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং উভয় পক্ষকে আলোচনার টেবিলে ফেরার আহ্বান জানিয়েছেন। ফ্রান্স ও যুক্তরাষ্ট্রও পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছে বলে জানা গেছে। তবে সিরিয়ার সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে জানানো হয়েছে, আলেপ্পোতে ‘অবৈধ সশস্ত্র উপস্থিতি’ নির্মূল করতে তারা বদ্ধপরিকর।
আরও পড়ুন: ইরানে বিক্ষোভে সহিংসতা: যুক্তরাজ্য, জার্মানি ও ফ্রান্সের উদ্বেগ
]]>
৪ দিন আগে
১








Bengali (BD) ·
English (US) ·