চীন–জাপান সম্পর্কে সম্প্রতি হঠাৎ করেই উত্তেজনা শুরু হয়। তাইওয়ান ইস্যুতে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির একটি মন্তব্য ঘিরেই এই সংকট।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর গত ৭ নভেম্বর জাপানের সংসদের নিম্নকক্ষের এক কমিটিতে তিনি বলেন, তাইওয়ানে চালানো সামরিক হামলা ‘জাপানের অস্তিত্বের ওপর হুমকি হয়ে দেখা দেয়া পরিস্থিতি’ তৈরি করতে পারে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় জাপানের প্রতিরক্ষা বাহিনীর জড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনারও আভাস দেন তিনি।
বেইজিং বরাবরই স্বায়ত্তশাসিত তাইওয়ানকে নিজেদের অবিচ্ছেদ্য অংশ বলে দাবির পাশাপাশি ‘প্রয়োজনে সামরিক শক্তি ব্যবহার’ করে দ্বীপ দেশটিকে নিয়ন্ত্রণে নেয়ার হুমকি দিয়ে আসছে। অন্যদিকে তাইপে ১৯৪৯ সাল থেকে নিজেদের স্বাধীনতার দাবি জানিয়ে আসছে।
আরও পড়ুন: জাপান আমাদের সামরিক হুমকি দিচ্ছে: চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী
চীন ও জাপানের এই উত্তেজনায় এখন নতুন কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে দক্ষিণ কোরিয়া। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি তার নিজ প্রদেশ নারাতে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে-মিউং-এর সঙ্গে বৈঠক করেন।
বৈঠকে কোরীয় উপদ্বীপের নিরস্ত্রীকরণ, উত্তর কোরিয়ার হাতে অপহৃত জাপানি নাগরিকদের ভবিষ্যৎ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও সেমিকন্ডাক্টরের মতো খাতে সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়।
দুই দেশের শীর্ষ নেতারা দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার পাশাপাশি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা, নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। লি ও তাকাইচি উভয়েই জানান, উত্তেজনাপূর্ণ কৌশলগত পরিবেশে সংলাপ এবং যৌথ পদক্ষেপ জরুরি।
জাপানের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট লি ও আমি উভয় দেশের সম্পর্কের কৌশলগত গুরুত্ব সম্পর্কে একমত হয়েছি এবং দুইদেশকে মিলিতভাবে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় কাজ করতে হবে। এছাড়া আমরা ভবিষ্যতে কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদারে কাজ করে যাব।’
আরও পড়ুন: চীন-তাইওয়ান ‘পুনর্মিলন অনিবার্য’: জিনপিং
অন্যদিকে লি জে-মিউং কূটনৈতিক অচলাবস্থা আঞ্চলিক শান্তির জন্য কাম্য নয় জানিয়ে বলেন, জাপান ও চীনের এই বিরোধে দক্ষিণ কোরিয়া হস্তক্ষেপ করবে না।
তার ভাষায়, আমাদের দুই দেশের মধ্যে আরও বিস্তৃত সহযোগিতা দরকার। বাণিজ্যকেন্দ্রিক সম্পর্ক পেরিয়ে আমরা মিলিতভাবে অর্থনৈতিক নিরাপত্তা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, এবং আন্তর্জাতিক নিয়মও স্থাপন করতে পারব। দক্ষিণ কোরিয়া, চীন ও জাপান সংলাপ ও সহযোগিতার মাধ্যমে একত্রে কাজ করবে।
জাপান সফরের আগে গত সপ্তাহে চীন সফরে যান দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট। বেইজিংয়ে শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক জোরদারের পাশাপাশি উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে বিবাদ মেটাতে চীনের সহযোগিতাও চান। সেই সফরের পরপরই লি-র জাপান সফরকে বেশ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।
]]>
১ দিন আগে
৩








Bengali (BD) ·
English (US) ·