যারা ভোটবাক্স ডাকাতি করবে, তারা নাগরিকদের দুশমন: প্রধান উপদেষ্টা

৪ সপ্তাহ আগে
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যারা ভোটবাক্স ডাকাতি করবে, তারা দেশের মানুষের দুশমন বলে অ্যাখ্যা দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে এই মন্তব্য করেন তিনি।

 

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘যারা ভোটবাক্স ডাকাতি করবে, তারা দেশের মানুষের স্বাধীনতা হরণকারী। তারা নাগরিকদের দুশমন। তাদের থেকে নাগরিকদের রক্ষা করা আমাদের সবার অবশ্য কর্তব্য। ভোট জনগণের ভবিষ্যৎ রচনার অক্ষর।’

 

ভোটবাক্সে ভোট জমা দিতে না পারলে কাঙ্ক্ষিত ভবিষ্যৎ আর রচনা করা যাবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আপনার ভোট আপনি সযত্নে ভোটবাক্সে দিয়ে আসুন। কেউ বাধা দিলে সুশৃঙ্খলভাবে প্রতিহত করুন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা নিন।’

 

যোগ্য লোককে ভোট দেয়ার আহ্বান জানিয়ে ড. ইউনূস বলেন, ‘ভোটের ওপর নির্ভর করছে আপনার, আমার সবার ভবিষ্যৎ। ভোট রক্ষা করা, দেশ রক্ষা করার সমান দায়িত্ব। ভোট রক্ষা করুন, দেশকে রক্ষা করুন। ভোট দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার গাড়ির চাকা। এই চাকা কাউকে চুরি করতে দেবেন না।’

 

আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে প্রশাসনকে আরো কার্যকর, নিরপেক্ষ ও নির্বাচনী পরিবেশের উপযোগী করতে সরকার মাঠ প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনে বেশ কিছু রদবদল করেছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এই পরিবর্তন কারো প্রতি অনুরাগ বা বিরাগ প্রসূত নয়। এগুলো করা হয়েছে দক্ষতা, যোগ্যতা এবং পেশাগত সক্ষমতার ভিত্তিতে। আমাদের লক্ষ্য একটাই— দেশের প্রতিটি ভোটার যেন ভোট দিতে পারেন নিরাপদ পরিবেশে, ভয়মুক্ত মনে এবং সর্বোচ্চ স্বাধীনতায়। নির্বাচন কমিশন যদি মনে করে আরও কোনো পদক্ষেপ প্রয়োজন, কমিশন অবশ্যই ব্যবস্তা নেবে।’

 

আরও পড়ুন: ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন ও গণভোটের প্রস্তুতি চূড়ান্ত: প্রধান উপদেষ্টা

 

জুলাই সনদ জাতির ভবিষ্যৎ পথযাত্রার একটি ঐতিহাসিক দলিল উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘এই সনদে আমরা যে সংস্কারমালা প্রস্তাব করেছি— রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন, প্রশাসনিক জবাবদিহিতা, দুর্নীতি হ্রাস, অর্থনৈতিক পুনর্গঠন এবং সমাজে সমঅধিকার প্রতিষ্ঠা— এসব বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজন জনগণের সুস্পষ্ট মতামত। কারণ একটি জাতীয় রূপান্তর কখনোই একক নেতৃত্ব বা একটি প্রশাসনের মাধ্যমে টেকসই হয় না, জনগণকেই চূড়ান্ত সম্মতি দিতে হয়। এ কারণেই আমরা গণভোটের আয়োজন করেছি, যাতে দেশের ভবিষ্যৎ সংস্কার দিশা নির্ধারণে জনগণ সরাসরি সিদ্ধান্ত দিতে পারেন। এই গণভোট হবে বাংলাদেশের ইতিহাসের নতুন মাইলফলক। এখানে আপনাদের প্রতিটি ভোট আগামী দিনের রাষ্ট্রব্যবস্থার ভিত্তি স্থাপন করবে।’

 

এবারের নির্বাচনটি অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘একই দিনে এবার দুইটি ভোট— একটি সংসদ সদস্য নির্বাচনের ভোট, আরেকটি গণভোট। যার প্রভাব হবে শতবর্ষব্যাপী। কাজেই অবশ্যই ভোট দিন, ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করুন। আপনাদের ভোটই নির্ধারণ করবে রাষ্ট্র কোন পথে অগ্রসর হবে, প্রশাসন কোন কাঠামোয় পুনর্গঠিত হবে এবং নতুন বাংলাদেশ কেমন রূপ পাবে।’

]]>
সম্পূর্ণ পড়ুন