গত রোববার মধ্যরাতে ময়মনসিংহ নগরীর নতুন বাজার মোড় এলাকায় র্যাবের অভিযান। প্রায় দেড় ঘণ্টার অভিযানে বহুতল ভবন গার্ডেন সিটির ১০ তলার ফ্ল্যাট থেকে আটক করা হয় দুই নারীসহ চার জনকে। তাদের সঙ্গে ছিলো দুই শিশুও।
রোহিঙ্গাদের সশস্ত্র সংগঠন আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি -আরসার সঙ্গে জড়িত অভিযোগে গ্রেফতার করা হয় তাদের। এ ঘটনায় মঙ্গলবার (১৮ মার্চ) রাতে ১০ জনকে আসামি করে কোতোয়ালি মডেল থানায় সন্ত্রাসবিরোধী ও বিশেষ ক্ষমতা আইনে আলাদা দুটি মামলা করে র্যাব।
আরও পড়ুন: উখিয়া ক্যাম্প থেকে অস্ত্র-গুলিসহ আরসা সন্ত্রাসী আটক
আরসা সদস্যরা নগরীর ব্যস্ততম এলাকা নতুন বাজারের একটি ভবনে কীভাবে ভাড়া নিয়েছিলেন, কীভাবে সেখানে থাকতেন, তা জানতে সেই সেখান যায় সময় সংবাদ। এ নিয়ে কথা বলেছেন ভবনটির দারোয়ান। তিনিই তাদের দিয়েছিলেন ভাড়া। জানালেন, ভাড়ার নোটিশ দেখে চার মাস আগে দুই ব্যক্তি বাসাটি ভাড়া নিতে চান। তারা নিজেদের বাড়ি ঈশ্বরগঞ্জের তারুন্দিয়া ইউনিয়নে বলে পরিচয় দেন। একজনের নাম মনিরুজ্জামান। তার বাবা-মাসহ এখানে থাকবে বলে ভাড়া নিয়েছিলেন তিনি। জাতীয় পরিচয়পত্রও দেয়া হয়েছিল মনিরুজ্জামানের।
দারোয়ান নিজাম উদ্দিন বলেন, দুই ব্যক্তি যখন ভাড়া নিতে আসেন, তখন নিজেদের ভাই বলে পরিচয় দেন। তারা বলেন, তাদের মা-বাবা এই ফ্ল্যাটে থাকবেন। তাদের বাবা গাজীপুরে একটি মাদ্রাসায় চাকরি করেন। একজন প্রবীণ ব্যক্তি এই বাসায় থাকতেন। ভবন থেকে মাঝেমাঝে নামার সময় খুব ধীরগতিতে হাঁটতেন। বাসার নারীরা পর্দা করায় দারোয়ান কখনো বাসার ভেতরে যাননি। বাসা থেকে বাইরে খুব একটা যাওয়া-আসা করতেন না এই বাসার বাসিন্দারা। শুধু মনিরুজ্জামান পরিচয় দেয়া ব্যক্তি বাজার করে ওপরে চলে যেতেন। চার মাস ধরে এভাবেই বসবাস করছিলেন তারা।
কোতোয়ালি মডেল থানার পুলিশ জানিয়েছে, ময়মনসিংহ নগর থেকে গ্রেফতার হওয়া চারজনের মধ্যে তিনজন ভাইবোন। আসমত উল্লাহ, শাহিনা আক্তার ও ১৭ বছর বয়সী তরুণী ভাইবোন। তারা মিয়ানমারের আরাকান রাজ্যের কাউনিয়া বিল এলাকার বাসিন্দা হলেও উখিয়ার থ্যাংকালি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে থাকতেন। গ্রেফতার অপরজন মো. হাসান। তিনি আরাকানের খুনকুন এলাকার বাসিন্দা হলেও কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে থাকতেন।
আরও পড়ুন: রোহিঙ্গা ক্যাম্পে গুলিতে আরসার ২ কমান্ডার নিহত
ওসি শফিকুল ইসলাম খান বলেন, রাষ্ট্রবিরোধী সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের জন্য অবস্থান করায় ১০ জনকে আসামি করে পৃথক দুটি মামলা হয়েছে। যেহেতু তাদের নারায়ণগঞ্জের মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে তোলা হয়েছে, ময়মনসিংহের পুলিশ গ্রেফতারের দেখানোর জন্য আদালতের কাছে ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেছে।
মামলায় আরসা সদস্যদের কাছ থেকে ৩০ লাখ টাকা, ১২ ভরি স্বর্ণ, বিদেশি মুদ্রা, আরসা আর্মি লেখা ১৫টি নেমপ্লেট, মিলিটারি শার্টসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ দেখানো হয় বলেও জানান ওসি।