মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) দুপুরে ময়মনসিংহের জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. জাকির হোসেন আসামিদের উপস্থিতিতে এই রায় ঘোষণা করেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- মো. ইউনুছ আলী ওরফে ইন্নছ আলী (৬২), মোহাম্মদ আলী (৫২), মো. গোলাম হোসেন ওরফে গুলু (৫১), শামছুল হক (৪৪), আসিফ রানা নাঈম (২৪), মো. আব্দুল হেলিম (৫১) ও মো. ফরিদ আহম্মেদ ওরফে বাবু (১৯)। মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি তাঁদের প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।
এছাড়া মোছা. খালেদা আক্তার ও মোছা. রেহেনা খাতুনকে ৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে তাঁদের আরও এক বছরের সাজা ভোগ করতে হবে।
নিহত ইকবাল ময়মনসিংহ নগরীর রুমডো পলিটেকনিক্যাল ইনস্টিটিউটের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ছাত্র ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০২১ সালের ৩১ মে রাতে তারাকান্দার পলাশকান্দা টানপাড়া গ্রামের বাড়ি থেকে বের হয়ে পাশের একটি চায়ের দোকানে যান ইকবাল। এরপর তিনি আর বাড়ি ফেরেননি।
নিখোঁজের পাঁচ দিন পর ৫ জুন গ্রামের একটি বাঁশঝাড়ের নিচে পরিত্যক্ত সেপটিক ট্যাংকের ভেতর থেকে তার গলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই ঘটনায় ৬ জুন ইকবালের ভাই সেলিম মিয়া বাদী হয়ে প্রতিবেশী আসিফ রানা নাঈমসহ অন্যদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন।
আরও পড়ুন: আবু সাঈদ হত্যা: দুই পুলিশ সদস্যের মৃত্যুদণ্ড, তিন জনের যাবজ্জীবন
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ড. মো. রফিকুল ইসলাম জানান, জমি নিয়ে পূর্ববিরোধের জেরে ইকবালকে হত্যার পর লাশ গুম করতে সেপটিক ট্যাংকে ফেলে দেওয়া হয়। মানুষের সন্দেহ দূর করতে লাশের ওপর মরা শিয়াল ও গোবর ফেলে সেখানে গাছ লাগিয়ে দিয়েছিল আসামিরা।
আদালত ২৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ ও দীর্ঘ যুক্তি-তর্ক শেষে আজ এই রায় দেন। রাষ্টপক্ষ বলছে, এই রায়ের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
রায়ের পর সন্তোষ প্রকাশ করেছেন মামলার বাদী ও ইকবালের বড় ভাই সেলিম মিয়া। তিনি বলেন, 'আমার ভাইকে অত্যন্ত নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছিল। আমরা এই রায়ে সন্তুষ্ট। এখন আমাদের দাবি, দ্রুত যেন এই রায় কার্যকর করা হয়।'

১ সপ্তাহে আগে
৪








Bengali (BD) ·
English (US) ·