মৌলভীবাজারের চা বাগানে আশীর্বাদ ‘আগাম বৃষ্টি’, বাম্পার ফলনের আশা

১ সপ্তাহে আগে
চলতি বছর আগাম বৃষ্টিপাত মৌলভীবাজারের চা শিল্পের জন্য আশীর্বাদ হিসেবে দেখা দিয়েছে। চৈত্রের তাপদাহের বদলে কয়েক দফায় বৃষ্টিপাত ও সহনীয় তাপমাত্রায় চা-বাগানের প্রুনিং চা গাছে কচি পাতা আসতে শুরু করেছে। চায়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ ধারা অব্যাহত থাকলে চলতি বছর চায়ের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে।

গত দুই বছর অনাবৃষ্টি ও খরার কারণে মৌলভীবাজারের সব চা বাগান কাঙ্ক্ষিত উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা পূরণে ব্যর্থ হয়েছিল। ফলে বছর শেষে বাংলাদেশ চা বোর্ডের চাহিদা অনুযায়ী চা উৎপাদন সম্ভব হয়নি। তবে এবার চা উৎপাদন মৌসুমের আগেভাগে ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ দিকে ও মার্চের শুরু থেকেই দফায় দফায় বৃষ্টিপাত হয়েছে।

 

শ্রীমঙ্গল আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আনিসুর রহমান জানান, শুধুমাত্র গত মার্চ মাসেই ১৮৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। একই সঙ্গে আগামী মাসগুলোতেও পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে। এতে প্রাকৃতিক পরিবেশের উপর নির্ভরশীল এই অঞ্চলের চা শিল্পের উৎপাদনে ব্যাপক সহায়তা হবে।

 

এদিকে এবার আগাম বৃষ্টির পানি পেয়ে বাগানের প্রুনিং চা গাছগুলো সতেজ হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে বাগান জুড়ে প্রুনিং চা-গাছে কচি পাতার সংখ্যা বাড়তে শুরু করেছে। এরই মধ্যে অধিকাংশ বাগানে চা গাছে দেড় থেকে দুই ইঞ্চি পরিমাণ কচি পাতা গজিয়েছে।

 

চা শ্রমিকরা জানান, সাধারণত কচি পাতা ৮ থেকে ১০ ইঞ্চি হলে সব বাগানজুড়ে পাতা উত্তোলন কাজ শুরু হবে। তবে বিচ্ছিন্ন কিছু বাগানে প্রুনিং ছাড়া পুরানো চা গাছ থেকেও পাতা উত্তোলন শুরু হয়েছে।

 

আরও পড়ুন: সমতলের চা বাগানে পাতা সংগ্রহ শুরু, রেকর্ড দামে খুশি পঞ্চগড়ের চাষিরা

 

কমলগঞ্জ ও শ্রীমঙ্গলের একাধিক চা বাগান সরেজমিন ঘুরে সময় সংবাদের কথা হয় চা শ্রমিকদের সঙ্গে। শ্রীমঙ্গল খইছড়া ফাঁড়ি বাগানের চা শ্রমিক হেমন্তী সময় সংবাদকে বলেন, এখন বাঞ্জি পাতা (বয়স্ক ও পুরোনো পাতা) পরিষ্কার করা হচ্ছে।

 

আরেক চা শ্রমিক জেসমিন জানান, এখনো গাছে ভালোভাবে কচি পাতা আসেনি। বর্ষাকালের শুরুতে বা জৈষ্ঠ্যমাসে গাছ ভরে কচি পাতা আসবে। তখন আনন্দের সঙ্গে পাতা উত্তোলন করবেন শ্রমিকরা।

 

শ্রীমঙ্গল চা ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি ছেরাগ আলী মাস্টার বলেন, গত দুই বছর অনাবৃষ্টি ও খরার কারণে চায়ের কাঙ্ক্ষিত উৎপাদন হয়নি। চলতি বছর আগাম বৃষ্টিপাত হওয়ায় চা উৎপাদনের পাশাপাশি গুণগত মান সম্পন্ন চা পাওয়া সম্ভব হবে।

 

বাংলাদেশ টি অ্যাসোসিয়েশন সিলেট শাখার চেয়ারম্যান ও দেশের সিনিয়র চা প্ল্যান্টার জিএম শিবলী বলেন, শুধুমাত্র বৃষ্টিপাত হলেই ভালো চা পাওয়া যাবে না। এ সময়ে মৌলভীবাজারের সব চা বাগানে প্রয়োজনীয় সার প্রয়োগ, আগাছা পরিষ্কারসহ যথাযথ পরিচর্যা করতে হবে।

 

বাংলাদেশ চা বোর্ডের তথ্যমতে, চলতি বছর দেশে ১০ কোটি ৪০ লাখ কেজি চা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

]]>
সম্পূর্ণ পড়ুন