মেহেরপুরে হাড়কাঁপানো শীত ও ঘন কুয়াশা, দুর্ভোগে নিম্ন আয়ের মানুষ

২ সপ্তাহ আগে
মেহেরপুর জেলাজুড়ে জেঁকে বসেছে তীব্র শীত। গত তিন দিন ধরে চলা হাড়কাঁপানো ঠাণ্ডা, ঘন কুয়াশা আর হিমেল বাতাসে এ অঞ্চলের স্বাভাবিক জনজীবন পুরোপুরি বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ভোরে ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা থাকছে চারপাশ, যার ফলে শ্রমজীবী ও নিম্ন আয়ের মানুষের দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে।

সকাল থেকে সূর্যের দেখা মিললেও রোদের তেজ নেই বললেই চলে। ঘন কুয়াশার কারণে মেহেরপুর-চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুর-কুষ্টিয়া আঞ্চলিক মহাসড়কসহ জেলার অভ্যন্তরীণ সড়কগুলোতে হেডলাইট জ্বালিয়ে ধীরগতিতে যানবাহন চলাচল করতে দেখা গেছে। এতে গন্তব্যে পৌঁছাতে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বেড়েছে।


শীতের তীব্রতায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন দিনমজুর, রিকশাচালক ও কৃষিশ্রমিকরা। আমঝুপি গ্রামের দিনমজুর আবদুল মালেক বলেন, 'ভোরে কাজে বের হই, কিন্তু শরীর কাঁপতে থাকে। ঠিকমতো কাজ করা যায় না। কাজ না করলে সংসার চলবে কীভাবে?'


একই অবস্থা গাংনী উপজেলার ভ্যানচালক মকবুল হোসেনের। তিনি জানান, ঠান্ডার কারণে মানুষ ঘর থেকে বের না হওয়ায় যাত্রী পাওয়া যাচ্ছে না, ফলে আয় তলানিতে ঠেকেছে।


মাঠে কাজ শুরু করতে দেরি হওয়ায় ব্যাহত হচ্ছে কৃষি কার্যক্রম। কৃষকরা আশঙ্কা করছেন, শীতের স্থায়িত্ব বাড়লে শীতকালীন সবজির ক্ষতি হতে পারে। অন্যদিকে, হাড়কাঁপানো ঠান্ডায় বাড়ছে নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টসহ শীতজনিত রোগ।


আরও পড়ুন: হাড়কাঁপানো শীতের মধ্যেই ‘অকাল বৃষ্টি’র দুঃসংবাদ


জেলা সিভিল সার্জন এ কে এম আবু সাঈদ জানান, মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালসহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে শিশু ও বয়স্ক রোগীদের ভিড় বাড়ছে। শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে অনেকেই হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন।


আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, উত্তরাঞ্চল থেকে আসা শীতল বাতাসের কারণে এই শৈত্যপ্রবাহ চলছে, যা আরও কয়েক দিন অব্যাহত থাকতে পারে। এ অবস্থায় খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছে অনেক দরিদ্র পরিবার।


জেলা প্রশাসক সৈয়দ এনামুল কবির বলেন, 'দুর্ভোগে পড়া মানুষের জন্য দ্রুত কম্বল বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই বৈরী আবহাওয়ায় সকলকে গরম কাপড় পরে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছি।'

]]>
সম্পূর্ণ পড়ুন