মেরাজে নবীজির ভ্রমণে কোন আসমানে কোন নবীর সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়

৩ দিন আগে
আজ থেকে প্রায় দেড় হাজার বছর আগের এক রাত, যা ছিল পৃথিবীর ইতিহাসের সবচেয়ে রহস্যময় এবং আবেগময় রজনী। যখন পৃথিবী গভীর ঘুমে মগ্ন, তখন আসমান সাজছিল তার মালিকের সবচেয়ে প্রিয় মেহমানকে অভ্যর্থনা জানাতে। এই যাত্রা কেবল একটি ভ্রমণ ছিল না, এটি ছিল একজন ব্যথিত হৃদয়ের অধিকারীকে তাঁর রবের পক্ষ থেকে দেয়া শ্রেষ্ঠ সান্ত্বনা।

সে সময়টা ছিল বড় কষ্টের। নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দাওয়াতের পথ ছিল কণ্টকাকীর্ণ। একদিকে কুরাইশদের অমানবিক নির্যাতন, অন্যদিকে তাঁর ছায়াদানকারী চাচা আবু তালিব এবং হৃদয়ের প্রশান্তি উম্মুল মুমিনিন হজরত খাদিজা রা.-এর ইন্তেকাল।একই বছরে দুজনকে হারিয়ে নবীজি বড় একা হয়ে পড়েছিলেন। ইতিহাসের পাতায় সেই বছরটি ‘আমুল হুজন’ বা ‘দুঃখের বছর’ নামে পরিচিত। নবীজির সেই বিষণ্ণ হৃদয়কে আনন্দিত করতে এবং তাঁর নবুওয়াতকে শক্তিশালী করতে মহান আল্লাহ চাইলেন এক একান্ত সাক্ষাৎ। তখন নবীজির বয়স ৫১ বছর।

 

এক নিঝুম রাতে নবীজি এশার নামাজ শেষে কাবাসংলগ্ন ‘হাতিমে’ বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। চোখ দুটি তন্দ্রাচ্ছন্ন হলেও তাঁর পবিত্র হৃদয় ছিল সদা জাগ্রত। হঠাৎ জিবরাইল আ. নেমে এলেন। নবীজিকে নিয়ে যাওয়া হলো আবে জমজমের কাছে। শুরু হলো এক অলৌকিক প্রস্তুতি। জিবরাইল আ. নবীজির বক্ষ মুবারক বিদীর্ণ করলেন এবং তাঁর হৃদপিণ্ড বের করে জমজমের পবিত্র পানি দিয়ে ধুয়ে নিলেন। ঈমান ও প্রজ্ঞায় টইটুম্বর একটি স্বর্ণের পেয়ালা এনে তা নবীজির বুকে ঢেলে দেয়া হলো এবং পুনরায় তা বন্ধ করে দেয়া হলো। যেন ঊর্ধ্বলোকের সেই মহান সফরের ভার সইবার জন্য তাঁকে তৈরি করা হলো।

 

আরও পড়ুন: অজু ছাড়াও করা যায় নবীজির প্রিয় ৩ জিকির


এরপর উপস্থিত করা হলো ‘বুরাক’। খচ্চরের চেয়ে ছোট আর গাধার চেয়ে বড়, সাদা রঙের এক ক্ষিপ্রগতির সওয়ারি, যার এক একটি কদম পড়ত দৃষ্টির শেষ সীমানায়। নবীজি যখন সওয়ার হতে গেলেন, বুরাক কিছুটা ঔদ্ধত্য দেখাল। জিবরাইল আ. ধমক দিয়ে বললেন, হে বুরাক! তুমি জানো কি, আল্লাহর কাছে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চেয়ে অধিক সম্মানিত আর কেউ কখনো তোমার ওপর সওয়ার হয়নি? এ কথা শোনামাত্র বুরাক লজ্জায় ঘর্মাক্ত হয়ে পড়ল। মুহূর্তের মধ্যে মক্কা থেকে বায়তুল মাকদিসে পৌঁছে গেলেন বিশ্বনবী সা.। সেখানে সব নবী-রসুল আগে থেকেই অপেক্ষমাণ ছিলেন। নবীজি সেখানে দুই রাকাত নামাজে নবীদের ইমামতি করলেন এবং ‘ইমামুল মুরসালিন’ বা নবীদের সর্দার হিসেবে সাব্যস্ত হলেন। মসজিদ থেকে বের হতেই জিবরাইল আ. দুটি পাত্র পেশ করলেন--একটি দুধের, অন্যটি শরাবের। নবীজি দুধের পাত্রটি গ্রহণ করলেন। জিবরাইল আ. বললেন, “আপনি স্বভাবজাত ফিতরাতকেই বেছে নিয়েছেন; অন্যথায় আপনার উম্মত পথভ্রষ্ট হতো”।

 

শুরু হলো ঊর্ধ্বাকাশের সফর। প্রথম আসমানে দেখা হলো মানবজাতির পিতা আদম আ.-এর সাথে। তাঁর ডানে জান্নাতিদের রুহ দেখে তিনি হাসছিলেন এবং বামে জাহান্নামিদের রুহ দেখে কাঁদছিলেন। দ্বিতীয় আসমানে দেখা হলো ইসা আ. ও ইয়াহইয়া আ.-এর সাথে। তৃতীয় আসমানে দেখা মিলল ইউসুফ আ.-এর, যাঁকে পৃথিবীর সৌন্দর্যের অর্ধেক দান করা হয়েছিল। চতুর্থ আসমানে ইদরিস আ., পঞ্চম আসমানে হারুন আ. এবং ষষ্ঠ আসমানে মুসা আ.-এর সাথে সাক্ষাৎ হলো। সপ্তম আসমানে নবীজি দেখলেন ইবরাহিম আ.-কে, যিনি ফেরেশতাদের কাবা ‘বায়তুল মামুর’-এ হেলান দিয়ে বসে আছেন। সেখানে প্রতিদিন ৭০ হাজার ফেরেশতা প্রবেশ করে, যারা আর দ্বিতীয়বার সুযোগ পায় না। প্রতিটি আসমানে নবীজিকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হলো।

]]>
সম্পূর্ণ পড়ুন