মেঘনায় জাটকা নিধনে প্রশাসনের নজরদারি না থাকার অভিযোগ

১ সপ্তাহে আগে
লক্ষ্মীপুরের মেঘনায় নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও অবাধে চলছে জাটকা নিধন। মার্চ-এপ্রিল দুমাস জাটকা ও মা ইলিশসহ সব প্রকার মাছ ধরা নিষিদ্ধ থাকলেও, তা মানছেন না এক শ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ী ও জেলেরা।

স্থানীয়রা বলছেন, কোস্টগার্ড, স্থানীয় প্রশাসন এবং মৎস্য বিভাগের নজরদারির অভাবই এর জন্য দায়ী।

 

লক্ষ্মীপুরের রামগতির চর আলেকজান্ডার থেকে চাঁদপুরের ষাটনল এলাকা পর্যন্ত ১০০ কিলোমিটার মেঘনা নদী ইলিশের অভয়াশ্রম। এ সময় নদীতে মাছ ধরা থেকে জেলেদের বিরত রাখতে সরকার ২৮ হাজার ৩৪৪ জন জেলেকে ভিজিএফ কার্ডের আওতায় এনে ২ হাজার ২৬৩ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেয়। তবে, জেলেরা অভিযোগ করছেন যে, সরকারি বরাদ্দ তারা পান না। এতে বিকল্প আয়ের ব্যবস্থা না থাকায় বাধ্য হয়ে ঝুঁকি নিয়ে নদীতে মাছ শিকার করছেন তারা।

 

সরেজমিনে দেখা যায়, লক্ষ্মীপুরের কমলনগরের লুধুয়া ঘাট, বাত্তিরখাল, কটোরিয়া ঘাট, মতিরহাট এবং সদরের করাতিরহাট মাছ ঘাটসহ বিভিন্ন স্থানে প্রকাশ্যে মাছ বিক্রি হচ্ছে।

 

জেলেরা বলেন, ‘সরকার অভিযান চালাচ্ছে, কিন্তু আমাদের পেট চলবে কীভাবে? সরকার তো আমাদের কোনো সহায়তা দেয়নি।’ কমলনগরের বাত্তিরখাল এলাকার জেলে নাসির বলেন, ‘এই দুই মাস আমরা কীভাবে চলবো? আমরা কোনো চাল পাই না, তাই বাধ্য হয়ে মাছ ধরতে যাই।’

 

আরও পড়ুন: জাটকা নিধনে বাধা, অভিযানিক দলের ওপর হামলা

 

অন্যদিকে, জেলেদের অভিযোগ রয়েছে যে, ভিজিএফ কার্ড বিতরণে অনিয়ম হচ্ছে। তারা বলছেন, প্রকৃত জেলেদের পরিবর্তে পছন্দমতো লোকজনকে কার্ড দেয়া হচ্ছে।

 

স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, কমলনগর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তার নিরবতায় এক শ্রেণীর প্রভাবশালী মৎস্য ব্যবসায়ীরা জেলেদের দিয়ে মাছ শিকার করাচ্ছেন। এতে সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য হচ্ছে, যা ইলিশ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি করছে।

 

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মাদ বিল্লাল হোসেন বলেন, ‘মৎস্য সম্পদ রক্ষায় প্রয়োজনে অভিযান আরও জোরদার করা হবে।’ 


তিনি বলেন, জেলেদের মাছ ধরা থেকে বিরত রাখতে জেলা প্রশাসন, কোস্টগার্ড এবং মৎস্য বিভাগের যৌথ অভিযানে ৩৬টি মামলায় ৪৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। এছাড়া, মাছ শিকারের দায়ে ১ লাখ ৩৬ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অভিযান দিন-রাত চলমান থাকবে।

তবে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, মাছ ধরা বন্ধে প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানো না গেলে ইলিশের কাঙ্ক্ষিত উৎপাদন ব্যাহত হবে। এছাড়াও মৎস্য ব্যবসায়ী ও জেলেরা আর্থিক সংকটের মুখে পড়বে।

]]>
সম্পূর্ণ পড়ুন