প্রত্যক্ষদর্শী ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার বিকেল ৩টার দিকে সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক শাকিল দেওয়ানের নেতৃত্বে ৫০ থেকে ৬০ জনের একটি দল জসিম উদ্দিনের বাড়িতে হামলা চালায়। হামলাকারীরা জসিম, তার পিতা মাফিক নায়েব এবং দুই ভাই মোখলেস ও মহসিন নায়েবকে বেধড়ক মারধর করে।
গুরুতর অবস্থায় তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সন্ধ্যায় জসিমের মৃত্যু হয়। নিহতের বড় ভাই মসিউর নায়েব আক্ষেপ করে বলেন, 'আমরা ফুটবল প্রতীকের নির্বাচন করেছিলাম, এটাই আমাদের একমাত্র দোষ ছিল। নাসির ডাক্তার ও তার ছেলে শাকিলরা আমার ভাইকে পিটিয়ে মেরে ফেলেছে।'
অভিযুক্ত স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা শাকিল দেওয়ান তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, সকালে জসিমের লোকজন তাদের সমর্থকদের ওপর হামলা করেছিল। তিনি থানায় অভিযোগ করতে গিয়েছিলেন এবং ঘটনার সময় এলাকায় ছিলেন না। তার দাবি অনুযায়ী, পুনরায় আক্রমণের প্রস্তুতি নিলে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী জসিমদের ওপর চড়াও হয়।
আরও পড়ুন: ভোলায় ভিন্ন ভিন্ন জায়গার সহিংসতায় বিএনপি-জামায়াতের ৭ নেতাকর্মী আহত
উল্লেখ্য, মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে জয়লাভ করেছেন কেন্দ্রীয় বিএনপির সমাজকল্যাণ সম্পাদক মো. কামরুজ্জামান রতন। অন্যদিকে, দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র হিসেবে ফুটবল প্রতীকে লড়াই করেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব মো. মহিউদ্দিন (যাকে পরবর্তীতে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়)। মূলত এই দুই পক্ষের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বিরোধ ও নির্বাচনী দ্বন্দ্বে এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে।
মুন্সীগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মমিনুল ইসলাম বলেন, 'পূর্ববিরোধ এবং নির্বাচনী দ্বন্দ্বের জেরে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। অপরাধীদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।'
এদিকে চরআব্দুল্লাহ গ্রামের এই ঘটনা ছাড়াও মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় আরও অন্তত ১০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। বর্তমানে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

২ সপ্তাহ আগে
৩








Bengali (BD) ·
English (US) ·