ছাত্রজীবন থেকেই তিনি শহীদ জিয়াউর রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। যদিও সক্রিয়ভাবে রাজনীতিতে আসার পরিকল্পনা ছিল না, তবুও দেওয়ানগঞ্জ ও বকশীগঞ্জে বিএনপির সাংগঠনিক দুরবস্থার সময় তৎকালীন মহাসচিব ব্যারিস্টার আবদুস সালাম তালুকদারের আহ্বানে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে দলীয় রাজনীতিতে যুক্ত হন। পরে বিএনপির তৎকালীন চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাতের পর তাকে দেওয়ানগঞ্জ-বকশীগঞ্জে দলের দায়িত্ব দেয়া হয়।
দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতির দায়িত্ব পেয়ে তিনি দলকে সুসংগঠিত করতে কাজ শুরু করেন। তার নেতৃত্বে দুই উপজেলায় বিএনপির রাজনীতি পুনরুজ্জীবিত হয় এবং তিনি সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করেন। জনপ্রিয়তার কারণে তৎকালীন সরকারের রোষানলেও পড়তে হয় তাকে। অভিযোগ রয়েছে, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের পরাজয়ের আশঙ্কায় তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দেয়া হয়।
২০০১ সালে বিএনপির মনোনয়ন পেয়ে তিনি বিপুল ভোটে নৌকা প্রতীককে পরাজিত করে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে জামালপুর জেলা বিএনপির দায়িত্ব পান। দীর্ঘদিনের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে জর্জরিত জেলা বিএনপিকে ঐক্যবদ্ধ করে সাংগঠনিক শক্তি বাড়ানোর কৃতিত্বও তার।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি জামালপুর-১ (দেওয়ানগঞ্জ-বকশীগঞ্জ) আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে ১ লাখ ৭৮ হাজার ৬৫৬ ভোট পেয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী নাজমুল হক সাঈদী (বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী) দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পান ৯৭ হাজার ৮৬০ ভোট।
জামালপুর জেলার মোট সংসদীয় আসন পাঁচটি। জেলার শেষ সীমানার ভারতীয় সীমান্তবর্তী এই আসনটি ইতিহাস ও ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ। মুক্তিযুদ্ধের রণাঙ্গন ধানুয়াকামালপুর, কামালপুর স্থলবন্দর, বাহাদুরাবাদঘাট ও জিলবাংলা সুগার মিল এ আসনের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। স্বাধীনতার পর মুক্তিযুদ্ধের ১১ নম্বর সেক্টরের অন্যতম ঘাঁটি ছিল এই অঞ্চল। ভারতের আসাম রাজ্যের সঙ্গে সংযুক্ত এই জনপদে দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীরা বিজয়ী হলেও স্থানীয়দের অভিযোগ, দৃশ্যমান উন্নয়ন হয়নি।
আরও পড়ুন: ফেনীর মন্ত্রিত্বের খরা কাটালেন আবদুল আউয়াল মিন্টু
প্রতিবছর ভারতীয় পাহাড়ি ঢলে দুই উপজেলার হাজার হাজার ফসলি জমি, বাড়িঘর, রাস্তাঘাট, মসজিদ-মাদ্রাসা, স্কুল ও বাজার নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। নদীভাঙনের শিকার হয়ে বহু মানুষ এলাকা ছেড়ে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় নিয়েছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব সমস্যায় কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায়নি।
২০০১ সালে অষ্টম জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচনে এ আসনে আওয়ামী লীগের বর্ষীয়ান সংসদ সদস্য ও শেখ হাসিনার পরিবারের সদস্য আবুল কালাম আজাদকে পরাজিত করে এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বিজয়ী হন। নির্বাচিত হওয়ার পর পুল্যাকান্দি ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর সেতু নির্মাণে উদ্যোগ নিয়ে তিনি দুই উপজেলার মানুষের আস্থা অর্জন করেন বলে এলাকাবাসী মনে করেন।
সব মিলিয়ে এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত যেমন জেলার বিএনপির একজন জনপ্রিয় নেতা, তেমনি সাধারণ মানুষের কাছেও তার গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে বলে স্থানীয়দের অভিমত।
সম্প্রতি তিনি বাংলাদেশ সরকারের বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন।
প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ তারেক রহমানকে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছেন। তার সঙ্গে থেকে কাজ করার সুযোগ পাওয়া বড় বিষয়। তিনি দেশ গঠনের কাজ করবেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘শুধু আমি নই, আমরা যারা মন্ত্রী হওয়ার সুযোগ পেয়েছি, তাদের কাজ হবে তারেক রহমানের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা। আমার নির্বাচনী এলাকার মানুষের কাছে দেয়া নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে হবে।’

১ সপ্তাহে আগে
৩








Bengali (BD) ·
English (US) ·