মিঠাপুকুরে শত বছরের ঐতিহ্যবাহী বারুনী মেলা, হাজারো মানুষের ঢল

১ সপ্তাহে আগে
রংপুরের মিঠাপুকুরে শত বছরের ঐতিহ্য ধরে রেখে শুরু হয়েছে লোকজ সংস্কৃতির অন্যতম অনুষঙ্গ ‘বারুনী মেলা’। বুধবার (১৫ এপ্রিল) মেলা প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখা যায়, উৎসবের আমেজে মুখরিত পুরো এলাকা। পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী এই মেলায় ভিড় করছেন হাজারো দর্শনার্থী।

প্রতিবছরের মতো এবারও মেলাকে কেন্দ্র করে দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসছেন সাধারণ মানুষ। পরিবার-পরিজন নিয়ে আনন্দঘন সময় কাটাচ্ছেন তারা। মেলায় গ্রামীণ সংস্কৃতির চিরচেনা সব উপকরণের পসরা সাজিয়ে বসেছেন বিক্রেতারা।


এর মধ্যে রয়েছে- মাটির তৈরি  হাঁড়ি-পাতিল থেকে শুরু করে রংপুরের ঐতিহ্যবাহী ভর্তা বানানোর বাটনা, কুটির শিল্প ও কাঠের তৈরি নানা গৃহস্থালি সামগ্রী, শিশুদের খেলনা ও বিনোদনের জন্য নাগরদোলা ও বিভিন্ন রোমাঞ্চকর রাইড।


পরিবার নিয়ে মেলায় আসা আশরাফুল ইসলাম বলেন, প্রতিবছরই এই মেলায় আসি। এখানে আসলে গ্রামের ঐতিহ্য আর উৎসবের আনন্দ একসাথে পাওয়া যায়। আজ সবাইকে নিয়ে এসেছি, খুব ভালো লাগছে।


মেলার অন্যতম আকর্ষণ হলো ঐতিহ্যবাহী খাবারের দোকান। জিলাপি বিক্রেতা আনিস মিয়া জানান, গুড়ের জিলাপি ও খুরমার চাহিদা আকাশচুম্বী। তিনি বলেন, 'এই মেলাকে কেন্দ্র করেই আমাদের বছরের একটা বড় আয় হয়। এবারও ব্যবসা বেশ ভালো।'


আরও পড়ুন: নাসিরনগরের ঐতিহ্যবাহী শুটকি মেলায় ক্রেতাদের ঢল, বিলুপ্তির পথে বিনিময় প্রথা


অন্যদিকে, মাটির জিনিসপত্র বিক্রেতা মকবুল মিয়া ব্যস্ত সময় পার করছেন। তিনি জানান, মেলা উপলক্ষে বিশেষ করে মাটির শৌখিন জিনিস ও বাটনাসহ হরেক পদের সামগ্রী তৈরি করে এনেছেন তিনি।


স্থানীয়দের মতে, বারুনী মেলা কেবল বিনোদনের মাধ্যম নয়, এটি গ্রামীণ ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি সংরক্ষণের একটি বড় মঞ্চ। মেলাটি স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য বাড়তি আয়ের একটি বড় সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে।

]]>
সম্পূর্ণ পড়ুন