রায় ঘোষণাকালে বিচারকের উদ্ধৃতি দিয়ে স্থানীয় গণমাধ্যম জানায়, ইসলামী আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সুস্পষ্ট মানদণ্ড অনুসারে প্রবাসী লিটনের মৃত্যুতে স্থানীয় নাগরিক নিজাম ইচ্ছাকৃত হত্যাকাণ্ডের জন্য দোষী নন, কিন্তু দণ্ডবিধি অনুযায়ী তিনি ‘মানব জীবনের প্রতি চরম অবহেলার মাধ্যমে মৃত্যু ঘটানোর জন্য’ দোষী। তাই নিজামকে ২৫ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়, যা ইতোমধ্যে ভোগ করা সময় থেকে বাদ দেয়ার পর, তিনি আরও ২১ বছর ১০ মাস কারাভোগ করবেন।
বিচারকের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, লিটন সমুদ্রের যে স্থানে পড়েছিলেন সেখান থেকে বেঁচে ফেরার সম্ভাবনা ছিল না। লিটনের প্রতি নিজামের শত্রুতা প্রমাণিত হয়েছে এবং নিজাম তার তদন্তকালীন জবানবন্দিতে লিটনকে সমুদ্রে ফেলে দেয়ার কথা স্বীকার করেছেন বলে যোগ করেন বিচারক।
প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়, লিটন একজন বাংলাদেশি ছিলেন, যিনি মালদ্বীপে ফুয়েল বার্জ বা জ্বালানি সরবরাহকারী নৌকায় কাজ করতেন। একই নৌকায় ক্যাপ্টেনের দায়িত্বে ছিলেন মালদ্বীপের থিনাধু আইল্যান্ডের মোহাম্মদ নিজাম। একই মামলায় নিজাম চুরি ও মাদক সংক্রান্ত অপরাধেও দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন।
২০২২ সালের ২৮ ডিসেম্বর মালদ্বীপের ভিলিমালে আইল্যান্ড থেকে ফুয়েল বার্জ বা জ্বালানি সরবরাহকারী একটি নৌকা রওনা হওয়ার পর থেকে নিখোঁজ হয়ে যায় বার্জসহ দুই ব্যক্তি। পরের দিন তাদের নিখোঁজ হওয়ার খবর প্রকাশ হলে বার্জসহ দুই ব্যক্তিকে খুঁজে পেতে মালদ্বীপ পুলিশ সার্ভিস অনুসন্ধান বা অভিযান শুরু করে।
আরও পড়ুন: মালয়েশিয়ার কারাগার থেকে পালানো সেই পাকিস্তানি বন্দি ধরা পড়ল যেভাবে
একইদিন বিকেলে ফুয়েলবাহী বার্জটি মালদ্বীপ এয়ারপোর্টের হুলহুলের নিকটবর্তী সাগরে ভাসমান অবস্থায় পাওয়া গেলেও নিখোঁজ দুই ব্যক্তির সন্ধান না পাওয়ায় বিষয়টি ‘সিরিয়াস অ্যান্ড অর্গানাইজড ডিপার্টমেন্ট’-এর মাধ্যমে তদন্ত শুরু করে স্থানীয় প্রশাসন। এসময় তাদের সন্দেহ হয় যে এটি সাধারণ নিখোঁজের ঘটনা নয়। এরইমধ্যে সমুদ্রপথে নিখোঁজ হওয়া ব্যক্তিদের সন্ধানে প্রশাসন একটি বিজ্ঞপ্তিও প্রকাশ করে।
অনুসন্ধানের একপর্যায়ে, পরের দিন মালদ্বীপের বা-ভেনফারু আইল্যান্ডের কাছে সাগরে ভাসমান একটি অর্ধগলিত লাশ পাওয়া যায়। তবে তার পরিচয় সম্পর্কে কোনো তথ্য তখন জানায়নি প্রশাসন। ওই দ্বীপের লোকজনের ভাষ্যমতে, সেটি প্রবাসী লিটনের মরদেহ বলে ধারণা করছিলেন তারা।
সমুদ্রে নিখোঁজ হওয়া দুই ব্যক্তির জন্য অনুসন্ধান চলমান থাকায়, এর পরের বছর বা ২০২৩-এর ২ জানুয়ারি জনসাধারণের কেউ একজন সমুদ্রে নিখোঁজ হওয়া ব্যক্তি স্থানীয় নাগরিক নিজামকে মালে সিটিতে দেখতে পান এবং ওই ব্যক্তির সাথে একটি সেলফি তুলে সোশ্যাল মিডিয়া এক্সে (সাবেক টুইটার) পোস্ট করেন।
ছবিটি পুলিশের নজরে আসাতে দুই নিখোঁজ ব্যক্তির মামলা অপ্রত্যাশিত মোড় নেয় এবং মালে সিটিতে পুলিশ অনুসন্ধান চালিয়ে নিজামকে একটি গেস্টহাউস থেকে উদ্ধার করেন এবং তাকে ওই বছরের ৩ জানুয়ারি বাংলাদেশি লিটন হত্যার অভিযোগে আদালতের আদেশে গ্রেফতার দেখানো হয়। সমুদ্রে নিখোঁজ হওয়া ফুয়েল বার্জের মামলাটি তখন নিখোঁজ থেকে হত্যা মামলার তদন্তে পরিণত হয়।
ওই সময় স্থানীয় গণমাধ্যমে দেয়া বক্তব্যে প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সন্দেহ করেন, মোহাম্মদ নিজাম লিটনকে হত্যা করার কারণ হলো তারা দু’জনই ছিলেন ফুয়েল বার্জে। আর সেই ফুয়েল পাওয়ারের সবকিছুর দ্বায়িত্বে ছিলেন প্রবাসী লিটন। ফুয়েল কোম্পানির কার্যক্রম পরিচালনাসহ বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ বহন করতেন লিটন।
তার ধারণা, টাকা চুরি করতে নিজাম লিটনকে হত্যা করেছে। এছাড়াও তিনি নিজামকে ২০০৬ সাল থেকে চেনেন। সে তখনও চুরি ও মাদকের অপরাধে জড়িত এবং নানা অপকর্মে লিপ্ত ছিল। এরই পরিপ্রেক্ষিতে, নিজামকে আদালতে তোলা হয় প্রশাসনের অনুরোধে, তার শুনানির জন্য রুদ্ধদ্বার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় এবং আদালত তখন নিজামকে ৬০ দিনের রিমান্ডে নেয়ার নির্দেশ দেন।
প্রবাসী লিটনের দেশের বাড়ি জয়পুরহাট জেলার আক্কেলপুর উপজেলার আমানপুর গ্রামে। তিনি মরহুম আফজাল হোসেনের একমাত্র ছেলে।
]]>
১ সপ্তাহে আগে
২








Bengali (BD) ·
English (US) ·