মাদারীপুরে অবৈধ বালু উত্তোলনের খেসারত: নদীগর্ভে সড়কের ৫০০ মিটার

১ সপ্তাহে আগে
মাদারীপুরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের প্রায় ৫০০ মিটার অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। দীর্ঘদিন ধরে ক্ষতিগ্রস্ত সড়কটি সংস্কারের কোনো উদ্যোগ না থাকায় চরম ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছেন স্থানীয় হাজারো মানুষ।

মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার ফাসিয়াতলা-লক্ষ্মীপুর-পখিরা সড়কে এই ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। গত দুই বছরের বেশি সময় ধরে পালরদী নদীর ভাঙনে সড়কের এই বেহাল দশা হলেও সংস্কারে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি।

 

সরেজমিনে দেখা যায়, নদীর ভাঙনে পাকা সড়কটির বেশ কিছু জায়গায় ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে স্বাভাবিক যান চলাচল। কৃষিজমির পাশ দিয়ে কোনোমতে ঝুঁকি নিয়ে চলছে ইজিবাইক ও ভ্যানের মতো ছোট যানবাহন। অনেককে পায়ে হেঁটেও যাতায়াত করতে হচ্ছে।

 

এই সড়কটি দিয়ে কালকিনি উপজেলার এনায়েতনগর, আলীনগর, বাঁশগাড়ি ইউনিয়নের পাশাপাশি পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তত ৮-১০ হাজার মানুষ নিয়মিত যাতায়াত করেন। ভাঙনের কারণে বিকল্প পথ ঘুরে যেতে হলে তাদের আরও প্রায় ৭ কিলোমিটার পথ বেশি পাড়ি দিতে হয়।

 

স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের রোগীদের নিয়ে যাতায়াত করতে গিয়ে ভোগান্তির শেষ নেই চলাচলকারীদের। আগামী বর্ষা মৌসুমের আগে ক্ষতিগ্রস্ত এই ৫০০ মিটার সড়ক মেরামত করা না গেলে যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।

 

আরও পড়ুন: ফোঁড়ার অস্ত্রোপচারে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ দেখে পালালেন চিকিৎসক, রোগীর মৃত্যু

 

স্থানীয়দের অভিযোগ, একটি অসাধু চক্র দীর্ঘদিন ধরে পালরদী নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছে। এর ফলেই নদীর পাড় ও সড়কে এই ব্যাপক ভাঙন দেখা দিয়েছে। দিনের বেলায় কোনোমতে চলাচল করা গেলেও সন্ধ্যা হলে বাড়ে আতঙ্ক। বালু উত্তোলন বন্ধ করা না গেলে ভাঙনের ভয়াবহতা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা তাদের।

 

স্থানীয় বাসিন্দা মোসলেম উদ্দিন বলেন, ‘নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে ব্যাপক ভাঙন দেখা দিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। এতে এলাকার লোকজন ও যাতায়াতকারীরা চরম দুর্ভোগের শিকার। আমরা এই সমস্যার সমাধান চাই।’

 

ওই সড়ক দিয়ে নিয়মিত যাতায়াতকারী রূপালী বেগম বলেন, ‘বাচ্চাকে নিয়ে প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে স্কুলে যাই। আসা-যাওয়া করতে অনেক কষ্ট হয়। ভয় লাগে কখন আবার দুর্ঘটনার কবলে পড়তে হয়। সড়কটি দ্রুত মেরামত করা প্রয়োজন।’

 

ইজিবাইক চালক সাইদুর ইসলাম আকন বলেন, ‘এখন জমির পাশ দিয়ে কোনোমতে চলাচল করা গেলেও বর্ষা মৌসুমে মহাবিপদে পড়তে হয়। কয়েকবার ইজিবাইক উল্টে গেছে। আমিসহ যাত্রীরাও আহত হয়েছি। কিন্তু বিষয়টি নিয়ে কারও কোনো মাথাব্যথা নেই।’

]]>
সম্পূর্ণ পড়ুন